• ই-পেপার

করাচির উপকূলে নিখোঁজ কার্গো বিমান, পাঁচ ক্রুর খোঁজে তল্লাশি চলছে

পাল্টাপাল্টি হামলার পর ট্রাম্প বললেন, যুদ্ধবিরতি শেষ

অনলাইন ডেস্ক
পাল্টাপাল্টি হামলার পর ট্রাম্প বললেন, যুদ্ধবিরতি শেষ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার বিশ্বাস ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে। ন্যাটো সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটা (যুদ্ধবিরতি) শেষ হয়ে গেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি ইরানের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না। দেশটি জঘন্য। তাদের সঙ্গে কাজ করা শুধু সময়ের অপচয়, কারণ তারা মিথ্যা বলে।’ ট্রাম্পের মতে, দুই পক্ষের আলোচকরা এখনও আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন, তবে তিনি মনে করেন এসব আলোচনা ফলপ্রসূ হবে না এবং এতে শুধু সময় নষ্ট হচ্ছে।

তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের শাসকগোষ্ঠীর তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি তাদের ‘দুষ্ট লোক’ বলে আখ্যা দেন এবং ইরানের প্রশাসনকে ‘পাগল’ বলেও মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে এবং ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।তিনি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা এবং কুয়েত ও বাহরাইনে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাও উল্লেখ করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, ‘এরা দুষ্ট ও অসুস্থ লোক। এরা ক্যান্সারের মতো। ক্যান্সার শুরুতেই থামিয়ে দিতে হয়।’ ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নতুন করে চাপে পড়েছে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘মার্কিন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির কিছু অংশ অকার্যকর হয়ে পড়েছে।’

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা, ইরানের তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাত যুদ্ধবিরতি চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোকে কার্যত অকার্যকর করে দিয়েছে।’

আরাগচি বলেন, ইরান তার ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো ধরনের দ্বিধা করবে না। এ ছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, তাদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ইরান যেকোনো হামলার উৎস ও উৎপত্তিস্থলকেই লক্ষ্যবস্তু করবে।

এর আঘে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পর বাহরাইন ও কুয়েতের ৮৫টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় তেহরান। ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এরপর বাহরাইনে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।

ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি আরো দাবি করেছে, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটিও তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল। হামলার পর বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজায়। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলা শুরু করে এবং হরমুজ প্রণালিতে তিনটি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনার পর ইরানের তেল বিক্রির একটি লাইসেন্স বাতিল করে।
 

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের পাল্টা হামলা

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের পাল্টা হামলা
ছবি : রয়টার্স

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পর বাহরাইন ও কুয়েতের ৮৫টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরান। আজ বুধবার (৮ জুন) এ হামলা চালায় দেশটি।  

ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এরপর বাহরাইনে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।

ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি আরো দাবি করেছে, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটিও তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল।

ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমোজগান প্রদেশ ও মাহশাহর উপকূলের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি এবং বেসামরিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার জবাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। হামলার পর বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজায়। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলা শুরু করে এবং হরমুজ প্রণালিতে তিনটি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনার পর ইরানের তেল বিক্রির একটি লাইসেন্স বাতিল করে। এতে আগে থেকেই নাজুক অবস্থায় থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তির ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

এদিকে পবিত্র শহর কোমে নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির স্মরণে বড় শোকসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার একদিন পর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা ধারাবাহিক হামলায় ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) ৬০টিরও বেশি ছোট নৌযানে হামলা চালিয়েছে।

তাদের দাবি, এই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করা। এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, ‘ইরানি বাহিনীর এই অযৌক্তিক হামলা যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট ও বিপজ্জনক লঙ্ঘন।

 

এআইয়ের কারণে চাকরির শঙ্কা

কম কর্মঘণ্টায় পূর্ণ বেতনের দাবি অস্ট্রেলিয়ার বন্দর শ্রমিকদের

অনলাইন ডেস্ক
কম কর্মঘণ্টায় পূর্ণ বেতনের দাবি অস্ট্রেলিয়ার বন্দর শ্রমিকদের
ছবি: রয়টার্স

অস্ট্রেলিয়ার বন্দর শ্রমিকরা সপ্তাহে কাজের সময় ২৮ ঘণ্টায় নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। তবে তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, কর্মঘণ্টা কমলেও বেতন কমানো যাবে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়তে থাকায় চাকরি নিয়ে উদ্বেগ থেকেই এই দাবি তুলেছে শ্রমিকদের ইউনিয়ন।

অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বন্দরে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড। এ নিয়ে দেশটির মেরিটাইম ইউনিয়ন বলেছে, নতুন প্রযুক্তি চালুর ফলে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ইউনিয়নের দাবি, প্রযুক্তির সুবিধা শুধু কোম্পানির মুনাফা বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়। এর সুফল শ্রমিকদেরও দিতে হবে। এক বিবৃতিতে ইউনিয়ন জানায়, যদি ডিপি ওয়ার্ল্ড কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তাহলে এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধাও শ্রমিকদের মধ্যে ভাগ করে দিতে হবে। তাদের ভাষ্য, নতুন প্রযুক্তির কারণে শ্রমিকদের চাকরি হারানো গ্রহণযোগ্য নয়। শুধু একটি বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বাড়ানোর জন্য কর্মীদের জীবিকা ঝুঁকির মধ্যে ফেলা উচিত নয়। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

মেরিটাইম ইউনিয়নের অনুরোধে সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল করপোরেট ট্যাক্স অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড রিসার্চ একটি গবেষণা চালায়। গবেষণায় বলা হয়েছে, ডিপি ওয়ার্ল্ড কর্মীদের কাজের ব্যবস্থাপনা এবং শিফট নির্ধারণে ধীরে ধীরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা পরীক্ষাও চালানো হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব প্রযুক্তি চালুর আগে শ্রমিকদের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা করা হয়নি। গবেষকদের আশঙ্কা, এই কর্মসূচির ফলে প্রায় এক হাজার জনের চাকরি ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। যা বন্দর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের মোট কর্মীর ৬০ শতাংশেরও বেশি। গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, ডিপি ওয়ার্ল্ড ভবিষ্যতে এআই-নিয়ন্ত্রিত দূর থেকে পরিচালিত ক্রেন এবং চালকবিহীন যানবাহন ব্যবহারের পরিকল্পনাও করছে।

গত ৩ জুলাই প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মেরিটাইম ইউনিয়ন বলেছে, প্রযুক্তির উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের জীবন সহজ করা, তাদের কর্মসংস্থান কমিয়ে দেওয়া নয়। এ কারণেই তারা সপ্তাহে ২৮ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহ চালুর দাবি জানিয়েছে। তবে কর্মঘণ্টা কমলেও বর্তমান বেতন বহাল রাখতে হবে বলে ইউনিয়নের দাবি। অস্ট্রেলিয়ান ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বন্দর শ্রমিকরা কাজের স্থান অনুযায়ী সপ্তাহে গড়ে ৩২ থেকে ৩৫ ঘণ্টা কাজ করেন। 

ডিপি ওয়ার্ল্ড দুবাইভিত্তিক রাষ্ট্রায়ত্ত একটি বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান। এটি বিশ্বের অন্যতম বড় বন্দর পরিচালনা কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটির চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ রয়েছে দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুমের হাতে। অস্ট্রেলিয়ায় সিডনি, মেলবোর্নসহ বিভিন্ন বন্দরে প্রতি বছর লাখ লাখ কনটেইনার পরিবহন করে ডিপি ওয়ার্ল্ড। বিশ্বের ৮৪টি দেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম রয়েছে। সেখানে এক লাখ ২৬ হাজারের বেশি মানুষ কাজ করেন। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবহন হওয়া কনটেইনারের প্রায় ১০ শতাংশ ডিপি ওয়ার্ল্ড পরিচালনা করে। গত বছর প্রতিষ্ঠানটির এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গ্লেন হিলটন বলেছিলেন, সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরো দক্ষ ও দ্রুত করতে বিভিন্ন বন্দরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। তার ভাষায়, 'এআই ব্যবহার এখন আর বিকল্প নয়, এটি এখন প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।'
 

চীনে খামার থেকে পালিয়েছে ৯০০ সাপ

অনলাইন ডেস্ক
চীনে খামার থেকে পালিয়েছে ৯০০ সাপ

দক্ষিণ চীনের গুয়াংজি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের হেংঝৌ শহরের একটি সাপের খামার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ধসে পড়েছে। এতে প্রায় ৯০০টি সাপ বের হয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বন্যার পানিতে দাঁড়িয়ে মানুষ বাঁশের লাঠি দিয়ে সাপ ধরার চেষ্টা করছে।

স্থানীয় কর্মকর্তা উ ঝি জানান, পালিয়ে যাওয়া বেশিরভাগ সাপ বিষধর নয়। সেগুলো ধরতে মাছ ধরার জাল ও স্টান গান ব্যবহার করে ১০ সদস্যের একটি দল কাজ করছে। তিনি গ্রামবাসীদের সতর্ক করে বলেছেন, কোনো সাপ দেখলে যেন নিজেরা ধরার চেষ্টা না করেন। 

চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিধস, বন্যা, প্রবল বৃষ্টিপাত ও টর্নেডোর কারণে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, চলতি বছর দেশটিকে কঠিন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হতে পারে। তাদের মতে, ১ জুলাই শুরু হওয়া বার্ষিক বন্যা মৌসুমে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও এল নিনোর প্রভাব পড়বে, যা বন্যা ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার, আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নদী, হ্রদ, জলাধার এবং ভূমিধসপ্রবণ এলাকাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এদিকে দক্ষিণ চীনের গুয়াংজি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল অঞ্চলে সোমবার মধ্যরাতে বন্যা সতর্কতা সর্বোচ্চ ‘রেড’ স্তরে উন্নীত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৫৫টি নদীর ৭০টি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে পানির স্তর সতর্কসীমার উপরে উঠে গেছে।

ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ পর্যবেক্ষণ এবং বন্যা মোকাবেলার জন্য চীনের কেন্দ্রীয় সরকার একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স দুর্গত এলাকায় পাঠিয়েছে। উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য রাবার বোট, ঝড় মোকাবেলার নৌকা এবং স্বেচ্ছাসেবক দলও মোতায়েন করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ভারি বৃষ্টির কারণে দেশজুড়ে ৬২টি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এ ছাড়া কিংসুই নদী পর্যবেক্ষণের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বন্যা রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে প্রতিবেশী গুয়াংডং প্রদেশের ঝাওকিং এলাকার পশ্চিম নদীর কিছু অংশে মঙ্গলবার প্রথম বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার সকাল নাগাদ পানির স্তর ২২ মিটার (৭২ ফুট) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা পাশের জেলার একটি বাঁধের উচ্চতার চেয়েও বেশি। এ ছাড়া পানি আরো বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত প্রদেশজুড়ে ১২৮টি ভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়।

এদিকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় গানসু প্রদেশের লংনান এলাকার একটি গ্রামে ভূমিধসে ৩৩ জন মাটিচাপা পড়েন। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, উদ্ধারকারীরা ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করলেও পরে তাদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। স্থানীয় আবহাওয়া অফিস সোমবার সন্ধ্যায় ভারি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার সতর্কতা জারি করেছিল। সেই সঙ্গে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কার কথাও জানানো হয়।

প্রাদেশিক সংবাদপত্র গ্যানসু ডেইলিও ভূমিধস ও কাদাধসের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে। জনগণকে উপত্যকায় বজ্রধ্বনির মতো শব্দ শোনা বা নদীর পানি হঠাৎ ঘোলা হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মধ্য চীনে প্রবল বৃষ্টি ও টর্নেডোর আঘাতে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার রাতে হুবেই প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া আঘাত হানে। প্রদেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর হুয়াংগ্যাং ১৭৩ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ২৬৯ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অনেক বাড়ির ছাদ, সড়ক, গাছপালা এবং কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সরকার জানিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ঝড়ের মধ্যে দোকানের দরজা বন্ধ রাখতে বাসিন্দারা প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। এ সময় ছাতা, চেয়ার এবং গাছের ডালপালা বাতাসে উড়ে যেতে দেখা যায়।

আবহাওয়াবিদদের মতে, কয়েক বছরের মধ্যে এটিই হুবেই প্রদেশে আঘাত হানা প্রথম টর্নেডো। দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রদেশজুড়ে তিন হাজার ৫০০-এর বেশি উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ ওয়াং শিয়াওলিং জানান, হুবেই প্রদেশে টর্নেডো খুবই বিরল ঘটনা। এর আগে সর্বশেষ টর্নেডো রেকর্ড করা হয়েছিল ২০২১ সালে।

চীনে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও তৃণমূল সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাহায্যের আবেদন সংগ্রহ এবং জরুরি সহায়তার চাহিদা নিরূপণের কাজ করছে। এর মধ্যে অলাভজনক ঝুওমিং দুর্যোগ তথ্যসেবা কেন্দ্র বিশেষভাবে সক্রিয় রয়েছে। সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত দক্ষিণ চীনের গুয়াংসি অঞ্চলে অন্তত ৪ হাজার মানুষ সাহায্যের আবেদন করেছেন।

এর আগে চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছিল, দক্ষিণ চীনের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বৃষ্টিপাতের অঞ্চল তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে উত্তর চীনেও বন্যার ঝুঁকি বাড়বে, কারণ শক্তিশালী টাইফুনগুলো উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ এলাকাগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে। চীনের পানিসম্পদ ও জলবিদ্যুৎ গবেষণা ইনস্টিটিউটের বন্যা ও খরা দুর্যোগ হ্রাস গবেষণাকেন্দ্রের পরিচালক লিউ চ্যাংজাং  বলেছেন, চলতি বছর দেশটি জটিল ও কঠিন বন্যা পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে।

চীনের পানিসম্পদ ও জলবিদ্যুৎ গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ লিউ চাংজুন বলেন, বন্যা মোকাবেলার কৌশলে পরিবর্তন আনা জরুরি। অতীতের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর না করে সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু বড় নদী ও বড় জলাধারের দিকে নজর দিলেই হবে না। মাঝারি ও ছোট নদী, ছোট জলাধার, পাহাড়ি ঢলপ্রবণ এলাকা, শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পর্যায়ের আগাম সতর্কতা ও সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি চালানো সুপার টাইফুন বাভি আগামী রবিবার চীনে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।