• ই-পেপার

এআইয়ের কারণে চাকরির শঙ্কা

কম কর্মঘণ্টায় পূর্ণ বেতনের দাবি অস্ট্রেলিয়ার বন্দর শ্রমিকদের

সুদানে ছয় মাসে ৩০০ শিশু হতাহত, ড্রোন হামলায় বাড়ছে প্রাণহানি

অনলাইন ডেস্ক
সুদানে ছয় মাসে ৩০০ শিশু হতাহত, ড্রোন হামলায় বাড়ছে প্রাণহানি
সংগৃহীত ছবি

গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত সুদানে গত ছয় মাসে অন্তত ৩০০ শিশু নিহত বা আহত হয়েছে। এসব শিশুর বেশির ভাগই ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। সংস্থাটি বলছে, দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে এবং শিশুদের জীবন ক্রমেই ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

ইউনিসেফ জানিয়েছে, সুদানে চলমান সংঘাতে শিশুদের ওপর হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। সংস্থাটি যুদ্ধরত সব পক্ষের প্রতি শিশু ও অন্যান্য বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।  ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে সংঘাত চলছে। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে বলে ইউনিসেফ জানিয়েছে। একই সময়ে প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। এছাড়া ৩ কোটির বেশি মানুষ এখন জরুরি মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

বর্তমানে উত্তর করদোফান, দক্ষিণ করদোফান, দারফুর এবং ব্লু নাইল অঞ্চলে সংঘর্ষ সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হতাহতের প্রায় ৬০ শতাংশের পেছনে ড্রোন হামলা দায়ী। এসব হামলায় স্কুল, বাজার, জ্বালানি সংরক্ষণাগার, পানি সরবরাহ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে অন্তত পাঁচ লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। এদিকে উত্তর করদোফানের কৌশলগত শহর এল-ওবেইদকে ঘিরে সম্ভাব্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ।

অন্যদিকে, জাতিসংঘ-সমর্থিত মানবাধিকার পরিষদ একটি প্রস্তাব পাস করে আরএসএফ ও তাদের মিত্রদের সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে সংঘাতের কারণে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের স্বাগতিক দেশগুলোকে আরো সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাবে সুদানের সংঘাতে সব ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধেরও আহ্বান জানানো হয়। ইউনিসেফের সুদান প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, দেশটির শিশুরা দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার এক কঠিন বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে। তিনি যুদ্ধরত সব পক্ষের প্রতি বেসামরিক মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষার পাশাপাশি বাধাহীনভাবে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এদিকে পৃথক এক ঘটনায়, সুদানের মিসর সীমান্তের কাছে ওয়াদি হালফা এলাকায় একটি পরিত্যক্ত স্বর্ণখনির অংশ ধসে অন্তত ১৫ জন অনানুষ্ঠানিক খনি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো একজন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে খনিটি আগেই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিছু শ্রমিক সেখানে আবার খননকাজ শুরু করলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

পাল্টাপাল্টি হামলার পর ট্রাম্প বললেন, যুদ্ধবিরতি শেষ

অনলাইন ডেস্ক
পাল্টাপাল্টি হামলার পর ট্রাম্প বললেন, যুদ্ধবিরতি শেষ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার বিশ্বাস ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে। ন্যাটো সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটা (যুদ্ধবিরতি) শেষ হয়ে গেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি ইরানের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না। দেশটি জঘন্য। তাদের সঙ্গে কাজ করা শুধু সময়ের অপচয়, কারণ তারা মিথ্যা বলে।’ ট্রাম্পের মতে, দুপক্ষের আলোচকরা এখনো আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন, তবে তিনি মনে করেন এসব আলোচনা ফলপ্রসূ হবে না এবং এতে শুধু সময় নষ্ট হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিতে তিনটি ট্যাংকার হামলার শিকার হওয়ার পর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এর জবাবে কুয়েত ও বাহারাইনে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় ইরান। 

তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের শাসকগোষ্ঠীর তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি তাদের ‘দুষ্ট লোক’ বলে আখ্যা দেন এবং ইরানের প্রশাসনকে ‘পাগল’ বলেও মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে এবং ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। তিনি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা এবং কুয়েত ও বাহরাইনে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাও উল্লেখ করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, ‘এরা দুষ্ট ও অসুস্থ লোক। এরা ক্যান্সারের মতো। ক্যান্সার শুরুতেই থামিয়ে দিতে হয়।’ ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নতুন করে চাপে পড়েছে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘মার্কিন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির কিছু অংশ অকার্যকর হয়ে পড়েছে।’

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা, ইরানের তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাত যুদ্ধবিরতি চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোকে কার্যত অকার্যকর করে দিয়েছে।’

আরাগচি বলেন, ইরান তার ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো ধরনের দ্বিধা করবে না। এ ছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, তাদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ইরান যেকোনো হামলার উৎস ও উৎপত্তিস্থলকেই লক্ষ্যবস্তু করবে।

এর আগে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পর বাহরাইন ও কুয়েতের ৮৫টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় তেহরান। ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এরপর বাহরাইনে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।

ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে।

আইআরজিসি আরো দাবি করেছে, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটিও তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল। হামলার পর বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজায়। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।


 

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের পাল্টা হামলা

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের পাল্টা হামলা
ছবি : রয়টার্স

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পর বাহরাইন ও কুয়েতের ৮৫টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরান। আজ বুধবার (৮ জুন) এ হামলা চালায় দেশটি।  

ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এরপর বাহরাইনে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।

ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি আরো দাবি করেছে, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটিও তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল।

ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমোজগান প্রদেশ ও মাহশাহর উপকূলের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি এবং বেসামরিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার জবাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। হামলার পর বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজায়। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলা শুরু করে এবং হরমুজ প্রণালিতে তিনটি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনার পর ইরানের তেল বিক্রির একটি লাইসেন্স বাতিল করে। এতে আগে থেকেই নাজুক অবস্থায় থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তির ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

এদিকে পবিত্র শহর কোমে নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির স্মরণে বড় শোকসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার একদিন পর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা ধারাবাহিক হামলায় ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) ৬০টিরও বেশি ছোট নৌযানে হামলা চালিয়েছে।

তাদের দাবি, এই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করা। এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, ‘ইরানি বাহিনীর এই অযৌক্তিক হামলা যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট ও বিপজ্জনক লঙ্ঘন।

 

চীনে খামার থেকে পালিয়েছে ৯০০ সাপ

অনলাইন ডেস্ক
চীনে খামার থেকে পালিয়েছে ৯০০ সাপ

দক্ষিণ চীনের গুয়াংজি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের হেংঝৌ শহরের একটি সাপের খামার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ধসে পড়েছে। এতে প্রায় ৯০০টি সাপ বের হয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বন্যার পানিতে দাঁড়িয়ে মানুষ বাঁশের লাঠি দিয়ে সাপ ধরার চেষ্টা করছে।

স্থানীয় কর্মকর্তা উ ঝি জানান, পালিয়ে যাওয়া বেশিরভাগ সাপ বিষধর নয়। সেগুলো ধরতে মাছ ধরার জাল ও স্টান গান ব্যবহার করে ১০ সদস্যের একটি দল কাজ করছে। তিনি গ্রামবাসীদের সতর্ক করে বলেছেন, কোনো সাপ দেখলে যেন নিজেরা ধরার চেষ্টা না করেন। 

চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিধস, বন্যা, প্রবল বৃষ্টিপাত ও টর্নেডোর কারণে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, চলতি বছর দেশটিকে কঠিন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হতে পারে। তাদের মতে, ১ জুলাই শুরু হওয়া বার্ষিক বন্যা মৌসুমে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও এল নিনোর প্রভাব পড়বে, যা বন্যা ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার, আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নদী, হ্রদ, জলাধার এবং ভূমিধসপ্রবণ এলাকাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এদিকে দক্ষিণ চীনের গুয়াংজি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল অঞ্চলে সোমবার মধ্যরাতে বন্যা সতর্কতা সর্বোচ্চ ‘রেড’ স্তরে উন্নীত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৫৫টি নদীর ৭০টি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে পানির স্তর সতর্কসীমার উপরে উঠে গেছে।

ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ পর্যবেক্ষণ এবং বন্যা মোকাবেলার জন্য চীনের কেন্দ্রীয় সরকার একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স দুর্গত এলাকায় পাঠিয়েছে। উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য রাবার বোট, ঝড় মোকাবেলার নৌকা এবং স্বেচ্ছাসেবক দলও মোতায়েন করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ভারি বৃষ্টির কারণে দেশজুড়ে ৬২টি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এ ছাড়া কিংসুই নদী পর্যবেক্ষণের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বন্যা রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে প্রতিবেশী গুয়াংডং প্রদেশের ঝাওকিং এলাকার পশ্চিম নদীর কিছু অংশে মঙ্গলবার প্রথম বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার সকাল নাগাদ পানির স্তর ২২ মিটার (৭২ ফুট) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা পাশের জেলার একটি বাঁধের উচ্চতার চেয়েও বেশি। এ ছাড়া পানি আরো বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত প্রদেশজুড়ে ১২৮টি ভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়।

এদিকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় গানসু প্রদেশের লংনান এলাকার একটি গ্রামে ভূমিধসে ৩৩ জন মাটিচাপা পড়েন। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, উদ্ধারকারীরা ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করলেও পরে তাদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। স্থানীয় আবহাওয়া অফিস সোমবার সন্ধ্যায় ভারি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার সতর্কতা জারি করেছিল। সেই সঙ্গে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কার কথাও জানানো হয়।

প্রাদেশিক সংবাদপত্র গ্যানসু ডেইলিও ভূমিধস ও কাদাধসের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে। জনগণকে উপত্যকায় বজ্রধ্বনির মতো শব্দ শোনা বা নদীর পানি হঠাৎ ঘোলা হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মধ্য চীনে প্রবল বৃষ্টি ও টর্নেডোর আঘাতে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার রাতে হুবেই প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া আঘাত হানে। প্রদেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর হুয়াংগ্যাং ১৭৩ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ২৬৯ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অনেক বাড়ির ছাদ, সড়ক, গাছপালা এবং কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সরকার জানিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ঝড়ের মধ্যে দোকানের দরজা বন্ধ রাখতে বাসিন্দারা প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। এ সময় ছাতা, চেয়ার এবং গাছের ডালপালা বাতাসে উড়ে যেতে দেখা যায়।

আবহাওয়াবিদদের মতে, কয়েক বছরের মধ্যে এটিই হুবেই প্রদেশে আঘাত হানা প্রথম টর্নেডো। দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রদেশজুড়ে তিন হাজার ৫০০-এর বেশি উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ ওয়াং শিয়াওলিং জানান, হুবেই প্রদেশে টর্নেডো খুবই বিরল ঘটনা। এর আগে সর্বশেষ টর্নেডো রেকর্ড করা হয়েছিল ২০২১ সালে।

চীনে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও তৃণমূল সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাহায্যের আবেদন সংগ্রহ এবং জরুরি সহায়তার চাহিদা নিরূপণের কাজ করছে। এর মধ্যে অলাভজনক ঝুওমিং দুর্যোগ তথ্যসেবা কেন্দ্র বিশেষভাবে সক্রিয় রয়েছে। সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত দক্ষিণ চীনের গুয়াংসি অঞ্চলে অন্তত ৪ হাজার মানুষ সাহায্যের আবেদন করেছেন।

এর আগে চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছিল, দক্ষিণ চীনের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বৃষ্টিপাতের অঞ্চল তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে উত্তর চীনেও বন্যার ঝুঁকি বাড়বে, কারণ শক্তিশালী টাইফুনগুলো উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ এলাকাগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে। চীনের পানিসম্পদ ও জলবিদ্যুৎ গবেষণা ইনস্টিটিউটের বন্যা ও খরা দুর্যোগ হ্রাস গবেষণাকেন্দ্রের পরিচালক লিউ চ্যাংজাং  বলেছেন, চলতি বছর দেশটি জটিল ও কঠিন বন্যা পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে।

চীনের পানিসম্পদ ও জলবিদ্যুৎ গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ লিউ চাংজুন বলেন, বন্যা মোকাবেলার কৌশলে পরিবর্তন আনা জরুরি। অতীতের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর না করে সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু বড় নদী ও বড় জলাধারের দিকে নজর দিলেই হবে না। মাঝারি ও ছোট নদী, ছোট জলাধার, পাহাড়ি ঢলপ্রবণ এলাকা, শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পর্যায়ের আগাম সতর্কতা ও সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি চালানো সুপার টাইফুন বাভি আগামী রবিবার চীনে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।