• ই-পেপার

ফরিদপুরে ‘শ্রমিক কল্যাণ’ তহবিলের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক ৪

ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস না করার আহ্বান চসিক মেয়রের

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস না করার আহ্বান চসিক মেয়রের
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে নিহতের ঘটনায় সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আবারও নগরবাসীকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে নগরীর চশমাহিল এলাকায় পাহাড়ধসে নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন চসিক মেয়র। এসময় তিনি নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানান এবং তাদের খোঁজখবর নেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকেই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বারবার মাইকিং, প্রচার-প্রচারণা ও সরাসরি অনুরোধ করে আসছে। এরপরও অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে অবস্থান করছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

তিনি আরো বলেন, ‘সাময়িক কষ্ট হলেও সবাইকে নিজেদের ও পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে হবে। কোনো অবস্থাতেই পাহাড়ধসের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করা উচিত নয়। আবহাওয়া অনুকূলে না আসা পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সব সময় তাদের পাশে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।’

কু‌ড়িগ্রা‌মে বিদ্যুৎস্পর্শে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

আঞ্চ‌লিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
কু‌ড়িগ্রা‌মে বিদ্যুৎস্পর্শে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

কুড়িগ্রামের উলিপুরে বিদ্যুৎস্পর্শে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে উলিপুর পৌরসভার বলদিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেন, উপজেলার বলদিপাড়া গ্রা‌মের আবু সাইয়েদ (৬৮) ও তার স্ত্রী রা‌বেয়া বেগম (৬০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে নিজ বাড়িতে বৈদ্যুতিক বোর্ডের একটি সুইচে হাত দিতে গেলে আবু সাইয়েদ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ সময় তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে যান তার স্ত্রী রা‌বেয়া বেগম। স্বামীকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে গিয়ে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ঘটনাস্থলেই প্রথমে আবু সাইয়েদের মৃত্যু হয়। পরে তার স্ত্রীও মারা যান। খবর পেয়ে তা‌দের মরদেহ উদ্ধার ক‌রে পু‌লিশ।

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইব‌নে সি‌দ্দিক ঘটনার সত‌্যতা নি‌শ্চিত ক‌রে বলেন, প্রাথ‌মিক সুরতহাল শে‌ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বঙ্গোপসাগরে দুই মাছ ধরার ট্রলার ডুবি : ১৬ জেলে উদ্ধার, নিখোঁজ ২

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
বঙ্গোপসাগরে দুই মাছ ধরার ট্রলার ডুবি : ১৬ জেলে উদ্ধার, নিখোঁজ ২
সংগৃহীত ছবি

বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে বরগুনা জেলার তালতলীর ফকিরহাট সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ১৮ জন জেলেসহ দুটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্বার করা সম্ভব হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন দুই জেলে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ৮টার দিকে তালতলী উপজেলার ফকিরহাট উপ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ জেলেরা হলেন- কালাম পাইকার ও শহীদ। তারা দুজনেই উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা।

উদ্বার হওয়া জেলেরা হলেন- খলিল মাস্টার, হৃদয় জোমাদ্দার, দুলাল, ইমরান, ফারুক, আল-আমিন, মনির, আশরাফুল, জামাল, ইমরান, শামিম, নাসির, সাগর, আসিব, নাসির, নুরুজ্জামান। তারা সবাই উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা।

উদ্বার হওয়া জেলে খলিল মাস্টার জানান, মঙ্গলবার সকালে আমরা ফকিরহাট উপ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে দুটি মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ইলিশ শিকারের উদ্দেশ্যে রওনা হই। এরমধ্যে ১টি ট্রলারে ১৩ জন ও আরেকটি ট্রলারে ৫ জন জেলে ছিলে। রাতে হঠাৎ সাগর উত্তাল হয়ে প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলার দুটি দুর্ঘটনার পতিত হয়। ঢেউয়ের তোড়ে আলমগীর খলিফার মালিকানাধীন ট্রলারটি ডুবে গেলে ওই ট্রলারের জেলেরা জীবন বাঁচাতে তপন জোমাদ্দারের মালিকানাধীন ট্রলারে গিয়ে ওঠেন। কিন্তু একপর্যায়ে প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে ওই ট্রলারটিও ডুবে গেলে আমিসহ অন্য জেলেরা সাগরে ভাসতে থাকি। পরে রাত ৩টার দিকে অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার এসে আমাদের ১৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে পটুয়াখালী জেলার মহিপুর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। তবে বাকি ২ জন কালাম পাইকার ও শহীদকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ফকিরহাট উপ- মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমান ফরাজী বলেন, ‘মঙ্গলবার ১৮ জন জেলেসহ দুটি ট্রলার সাগরে ডুবে যায়। আজ সকালে ১৬ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাদের পটুয়াখালীর মহিপুর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে অন্য ২ জন জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদের সমিতির পক্ষ থেকেও নিখোঁজ দুই জেলেদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

তালতলী কোস্টগার্ড স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. আশরাফুল আলম বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারের জন্য আমরা এখনো অভিযান শুরু করতে পারিনি। কারণ সাগর এতটাই উত্তাল রয়েছে যে কারনে উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব না। আবহাওয়া ভালো হলেই উদ্ধার অভিযানে বের হব।’ 

তালতলী উপজেলা নিবার্হী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সংগেই কোস্টগার্ড এবং নৌ পুলিশকে অবহিত করেছি। তবে সাগর উত্তাল থাকায় উদ্ধার অভিযান শুরু করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার হওয়া ১৬ জন জেলের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পটুয়াখালীর মহিপুর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি এবং চিকিৎসার খোঁজ-খবর নিচ্ছি।’

সীতাকুণ্ডে পাহাড়ধসে শিশুর মৃত্যু, আহত মা

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
সীতাকুণ্ডে পাহাড়ধসে শিশুর মৃত্যু, আহত মা
ছবি: কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পাহাড়ধসে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুর মা আহত হয়েছেন। বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

মৃত শিশুর নাম আশরাফুল ইসলাম তানভীর (১০ মাস)। সে জঙ্গল সলিমপুর ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাগানবাড়ি গ্রামের মঈন উদ্দিনের ছেলে। আশরাফুলের মায়ের নাম লামিয়া বেগম। 

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর বাগানবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মো. মঈন উদ্দিন ওই এলাকার একটি পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে টিন ও বাঁশের তৈরি ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন। গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সেখানে পাহাড় ধসের ঝুঁকি দেখা দিলে সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন মাইকিং করে পাহাড় থেকে সবাইকে নেমে এসে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে আহ্বান জানায়। কিন্তু সেসব আহ্বানে সাড়া না দিয়ে অন্য অনেকের মতো মঈন উদ্দিনের পরিবার নিজ ঘরে অবস্থান করছিলেন। এদিকে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠা পাহাড় বুধবার সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ ধসে গেলে তার টিনের ঘরটি ভেঙে পড়ে। এ সময় ঘরে থাকা মঈন উদ্দিনের স্ত্রী লামিয়া বেগম আহত হন ও শিশু আশরাফুল ইসলাম তানভীর গুরুতর আঘাত পেয়ে মারা যায়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড়ধসে এক শিশু মারা গেছে। এ ঘটনায় তার মা আহত হয়েছেন। আমরা লাশ উদ্ধার করেছি। 

ইউএনও আরো বলেন, এর আগে গত মঙ্গলবারও ওই এলাকায় মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ে বসবাসকারী সবাইকে নিরাপদ স্থানে নেমে আসার জন্য আহ্বান করি। কিন্তু কেউই পাহাড় থেকে আমাদের নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রে আসেনি। এর ফলে একটি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে গেল। মৃত শিশুর পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা ও শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে।