• ই-পেপার

ইবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন

কুষ্টিয়ার লালন বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন মিনি স্টেডিয়াম!

অনলাইন ডেস্ক
কুষ্টিয়ার লালন বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন মিনি স্টেডিয়াম!
সংগৃহীত ছবি

রাত তখন ৯টা। ঝিরঝির বৃষ্টি ঝরছে। আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার ম্যাচ শুরু হতে তখনো বাকি প্রায় ১ ঘণ্টা। কিন্তু তাতে ফুটবলপ্রেমীদের উৎসাহে কোনো ভাটা নেই। বৃষ্টি উপেক্ষা করে একে একে দর্শকেরা ভিড় জমাতে থাকেন কুষ্টিয়া শহরের এনএস রোডে অবস্থিত লালন বিজ্ঞান ও কলা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলইডি টিভির বড় পর্দার সামনে।

কুষ্টিয়া শহরে এলইডি স্থায়ী বড় পর্দায় স্থাপন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সময় যত গড়িয়েছে, ততই বেড়েছে দর্শকের উপস্থিতি। প্রিয় দলের জার্সি গায়ে, হাতে পতাকা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো প্রাঙ্গণ। ম্যাচ শুরুর আগেই সেখানে তৈরি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ।

রেফারির বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় উচ্ছ্বাসের নতুন অধ্যায়। প্রতিটি পাস, নিখুঁত ড্রিবলিং, আক্রমণ আর গোলের মুহূর্তে করতালি, উল্লাসধ্বনি ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।

খেলা দেখতে আসা দর্শক সোহান বলেন, ‘প্রিয় দলের খেলা বড় পর্দায় উপভোগ করার আনন্দই আলাদা। আমরা ১০ জন বন্ধু একসঙ্গে খেলা দেখতে এসেছি। এমন আয়োজন সত্যিই দারুণ।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কুষ্টিয়ায় বড় পর্দায় বিশ্বকাপ খেলা দেখার এমন উন্মুক্ত আয়োজন আগে খুব একটা দেখা যায়নি। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শকের ভিড়। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে এসে উৎসবমুখর পরিবেশে খেলা উপভোগ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন সময়োপযোগী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কুষ্টিয়াবাসী। তাদের প্রত্যাশা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও শিক্ষাবান্ধব এমন আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। এতে শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, পুরো শহরের মানুষ একটি সুন্দর ও ইতিবাচক সামাজিক পরিবেশের অংশ হতে পারবে।

দেশের সব মাদরাসায় পিটি ও খেলাধুলা বাধ্যতামূলক

অনলাইন ডেস্ক
দেশের সব মাদরাসায় পিটি ও খেলাধুলা বাধ্যতামূলক

দেশের সব মাদরাসায় দৈনিক সমাবেশ (পিটি) ও খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করেছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন) মো. আবুল কালাম তালুকদার সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকার দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া চর্চার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে। তরুণ প্রজন্মকে শারীরিকভাবে সুস্থ, মানসিকভাবে দৃঢ় এবং শৃঙ্খলাবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত দৈনিক সমাবেশ (পিটি) এবং খেলাধুলার আয়োজন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নির্দেশনা অনুযায়ী, অধিদপ্তরের আওতাধীন সব মাদরাসা শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষকরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন সমাবেশ (পিটি) পরিচালনা এবং খেলাধুলার আয়োজন করবেন।

যেসব মাদরাসায় সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) পদ শূন্য রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে খেলাধুলায় দক্ষ ও উপযুক্ত একজন শিক্ষককে সাময়িকভাবে এ দায়িত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি শূন্যপদ দ্রুত পূরণের জন্য বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম ও খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানসিক চাপ কমানো, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলাবোধ এবং দলগত কাজের মনোভাব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশের স্বার্থে এ কার্যক্রম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

এ নির্দেশনার অনুলিপি কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, সব জেলা শিক্ষা অফিসার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

আর্জেন্টিনা-মিসরের ম্যাচকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, সহকারী প্রক্টরসহ আহত ১০

মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি
আর্জেন্টিনা-মিসরের ম্যাচকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, সহকারী প্রক্টরসহ আহত ১০
ছবি: কালের কণ্ঠ

বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা ও মিশরের ম্যাচ দেখা কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী প্রক্টরসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এসময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রথম একাডেমিক ভবনের জানালার কাচ ও সামনের ফুলের টব ভাঙচুর করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত প্রায় ১০টার দিকে খেলা শুরুর আগে বসার স্থান নিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এবং ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স (এফটিএনএস) বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রক্টরিয়াল বডির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে এলেও খেলা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এফটিএনএস ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ বাধে।

এসময় তৃতীয় একাডেমিক ভবনের পাশে তিন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা তৃতীয় একাডেমিক ভবনের সামনে এবং এফটিএনএস ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা জননেতা আব্দুল মান্নান হলের সামনে অবস্থান নেন। পরে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভাগে ফিরে গেলেও রাত আনুমানিক ১টার দিকে প্রথম একাডেমিক ভবনে আইসিটি, এফটিএনএস, পরিসংখ্যান ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে ভবনের জানালার কাচ ও সামনের ফুলের টব ভাঙচুর করা হয়। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডি ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল পর্যন্ত আহত সাত শিক্ষার্থী টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গুরুতর আহত একজনকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আবদুল কুদ্দুস আহত হন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মনির মোর্শেদ বলেন, ‘একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে প্রক্টরিয়াল বডি ও শিক্ষকরা মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘উপাচার্য মহোদয় এবং এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’

মাদরাসায় দৈনিক সমাবেশ ও খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করে নির্দেশনা

বাসস
মাদরাসায় দৈনিক সমাবেশ ও খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করে নির্দেশনা

শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিতে দেশের সব মাদরাসায় দৈনিক সমাবেশ (পিটি) ও খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করেছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।

মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও শারীরিক শিক্ষা শাখা থেকে সম্প্রতি জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে স্বাক্ষর করেন পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন) মো. আবুল কালাম তালুকদার।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকার দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া চর্চার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে।

তরুণ প্রজন্মকে শারীরিকভাবে সুস্থ, মানসিকভাবে দৃঢ় এবং শৃঙ্খলাবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত দৈনিক সমাবেশ (পিটি) এবং খেলাধুলার আয়োজন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নির্দেশনা অনুযায়ী, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সব মাদরাসার শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষকরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন সমাবেশ (পিটি) পরিচালনা এবং খেলাধুলার আয়োজন করবেন।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দায়িত্বও তাদের ওপর অর্পণ করা হয়েছে।

যেসব মাদরাসায় সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) পদ শূন্য রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে খেলাধুলায় দক্ষ ও উপযুক্ত একজন শিক্ষককে সাময়িকভাবে এ দায়িত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি শূন্যপদ দ্রুত পূরণের জন্য বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম ও খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানসিক চাপ কমানো, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলাবোধ এবং দলগত কাজের মনোভাব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশের স্বার্থে এ কার্যক্রম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

এ নির্দেশনার অনুলিপি কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, সব জেলা শিক্ষা অফিসার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শরীরচর্চা, খেলাধুলায় অংশগ্রহণ এবং সুস্থ জীবনধারা গড়ে ওঠার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও ইতিবাচক শিক্ষার পরিবেশ আরো শক্তিশালী হবে।