টানা ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের একাংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় এ রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে রেলওয়ের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, চট্টগ্রাম-পটিয়া-কক্সবাজার রেলপথের জানআলীহাট ও ষোলশহর স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশে রেললাইন এখনো প্রায় দুই ফুট পানির নিচে রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কক্সবাজারগামী সব ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে কক্সবাজারগামী শতাধিক যাত্রী আটকা পড়েছেন। মঙ্গলবার ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম পর্যন্ত পৌঁছালেও সেখান থেকে আর কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা করতে পারেনি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ট্রেনটির কক্সবাজারগামী যাত্রা বাতিল করা হয়। বুধবার ভোরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কক্সবাজার এক্সপ্রেসও চট্টগ্রাম স্টেশনে আটকে রয়েছে।
আরো পড়ুন
মেহেরপুরে গরুবোঝাই ট্রলি উল্টে চালক নিহত, আহত ১০
বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) আনিসুর রহমান বলেন, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। প্রকৌশল বিভাগ রেললাইন নিরাপদ ঘোষণা না করা পর্যন্ত কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। পানি নেমে যাওয়ার পর রেললাইন, স্লিপার, সিগন্যাল ও রেলবেড পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ট্রেন চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, যেসব যাত্রী কক্সবাজার সফর বাতিল করতে চান, তারা চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের কাউন্টার থেকে টিকিটের অর্থ ফেরত নিতে পারবেন। আর যারা ঢাকায় ফিরতে চান, তাদের জন্য বুধবার বিকেলে কক্সবাজার এক্সপ্রেসে ফেরার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
স্টেশনে অপেক্ষমাণ অনেক যাত্রী দুর্ভোগ ও ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন। কেউ পরিবার নিয়ে ভ্রমণে যাচ্ছিলেন, কেউ আগে থেকেই হোটেল বুকিং করলেও ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। অনেকেই টিকিট ফেরত নিয়েছেন, আবার কেউ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
এদিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার রেললাইন পাঁচ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। বুধবার সকালে ষোলশহর এলাকায় জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাওয়া রেললাইন পরিদর্শন শেষে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত রেললাইন পাঁচ ফুট উঁচু করা হলে অতিবৃষ্টিতেও রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।
আরো পড়ুন
বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য ‘ফ্রি শাটল বাস’ চালু করল বেবিচক
তিনি জানান, প্রকল্পটি বর্তমানে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতাজনিত রেল যোগাযোগ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।
বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলাবদ্ধতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় আপাতত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পানি নেমে গেলে প্রকৌশল বিভাগের নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হবে। আগাম টিকিট কাটা যাত্রীরা প্রচলিত নিয়মে ভাড়ার অর্থ ফেরত পাবেন।