আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে ভরপুর প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধ ছিল কিছুটা নিষ্প্রাণ। মনে হচ্ছিল ম্যাচ গড়াচ্ছে অতিরিক্ত সময়ে। কিন্তু ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে বদলি হিসেবে নামা মিকেল মেরিনোর দারুণ ফিনিশিংয়ে পালটে যায় হিসাব-নিকাশ। শেষ মুহূর্তের এই গোলেই পর্তুগালকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্পেন। আর এই হারের মধ্য দিয়ে হয়তো বিশ্বকাপ শিরোপার আক্ষেপ নিয়েই বিশ্বমঞ্চ থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে।
মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে শেষ ষোলোর এই মহারণে শুরু থেকেই গোলের জন্য মরিয়া ছিল দুই দল। তবে আক্রমণভাগের ব্যর্থতা আর দুই দলের গোলরক্ষকদের দারুণ নৈপুণ্যে প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ব্যবধানে। নির্ধারিত সময়ের পর ইনজুরি টাইমে রদ্রির ডিফেন্সচেরা পাস ধরে চমৎকার এক ফিনিশিংয়ে স্প্যানিশদের জয়ের আনন্দে ভাসান মেরিনো। শেষ আটের লড়াইয়ে স্পেন এখন মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়ামের মধ্যকার জয়ী দলের।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জেতার পর প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার খরা কাটাল স্পেন। একই সঙ্গে গত বছর উয়েফা নেশন্স লিগের ফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে পর্তুগালের কাছে হারের প্রতিশোধও নিল ‘লা রোহা’রা। অন্যদিকে, গত বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা পর্তুগালকে এবার বিদায় নিতে হলো শেষ ষোলো থেকেই।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের ফরোয়ার্ডদের হতাশা আর গোলরক্ষকদের বীরত্ব ছিল চোখে পড়ার মতো। ষষ্ঠ মিনিটে জোয়াও ক্যান্সেলোর শট পোস্টের ওপর দিয়ে যায়। এরপর স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড মিকেল ওইয়ারসাবাল গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন। ১২ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজের পাসে রোনালদোর জোরালো শট ফিরিয়ে দেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমোন।
পরপর দুই মিনিটে দারুণ সেভ করেন পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তাও। লামিনে ইয়ামাল ও আলেক্স বায়েনার শট রুখে দিয়ে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন তিনি। ৩১ মিনিটে কস্তার আরেকটি দুর্দান্ত সেভে গোলবঞ্চিত হয় স্পেন। এরপর ৩৭ মিনিটে উনাই সিমোনও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন জোয়াও ফেলিক্স ও রোনালদোর জোড়া শট আটকে দিয়ে।
ম্যাচের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর মুহূর্ত আসে ৪১ মিনিটে। পর্তুগালের নুনো মেন্দেসের বুলেট শট স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরোর মাথায় লেগে ক্রসবারে প্রতিহত হয়। কপাল জোরে বেঁচে যাওয়া স্পেন ঠিক তার পরের মিনিটেই ইতিহাস গড়ে। ২০২২ বিশ্বকাপ ও চলতি আসর মিলিয়ে টানা ৫৬১ মিনিট গোল না খেয়ে সুইজারল্যান্ডের ১৬ বছর পুরোনো বিশ্বরেকর্ড ভেঙে দেয় স্পেন।
পুরো ম্যাচে ইয়ামালকে দারুণভাবে সামলানো মেন্দেস ৫৬ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে তার জায়গায় নামেন নেলসন সেমেদো। দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই কিছু সুযোগ তৈরি করলেও জালের দেখা পাচ্ছিল না। ৭৩ মিনিটে ইয়ামালের বিপজ্জনক ফ্রি-কিক কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন কস্তা।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই জ্বলে ওঠেন মেরিনো। তার শেষ মুহূর্তের গোলেই নিশ্চিত হয় স্পেনের জয় আর বিদায়ঘণ্টা বাজে পর্তুগিজদের।




