• ই-পেপার

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

সাভারে ককটেল বিস্ফোরণ, তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
সাভারে ককটেল বিস্ফোরণ, তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন
ছবি: কালের কণ্ঠ

সাভারে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’-পরবর্তী কর্মসূচির সমাবেশ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে ঢাকা জেলার (উত্তর) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলমকে।

সোমবার (৬ জুলাই) রাত পৌনে ১২টার দিকে সাভারে ককটেল বিস্ফোরণে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন। এসময় তিনি সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ৩ সদস্যের কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।  

এদিকে ঘটনার পর থেকে সাভারের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা শনাক্ত করার খবর পাওয়া যায়নি।

ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টার দিকে সমাবেশস্থলের মঞ্চে ওঠেন এনসিপির নেতারা। এসময় বিদ্যুৎ চলে যায়। এর মধ্যে দলের মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ অন্য নেতারা বক্তব্য দেন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হয়। এসময় মঞ্চে দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। এর কিছুক্ষণ পরই সেখানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যা সমাবেশস্থলে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শাহীন খান্দকার (৩০), জসিম (২৬) ও শাহাদাত হোসেন (৪০)। তাদের মধ্যে শাহীন এনাম মেডিক্যাল কলেজের কর্মী, জসিম একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শাহাদাত হোসেন সাভারের মুক্তির মোড় এলাকার বাসিন্দা। তারা সবাই সাভারের এনাম মেডিক্যিাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, হামলার ঘটনায় এনসিপির পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আন্ডারপাস থেকে নিচে পড়ে ঝরল যুবকের প্রাণ

মনোহরদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আন্ডারপাস থেকে নিচে পড়ে ঝরল যুবকের প্রাণ
প্রতীকী ছবি

নরসিংদীর মনোহরদীতে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আন্ডারপাসের রেলিংয়ে ধাক্কা লেগে নিচে পড়ে জিমেল (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের হেতেমদী আন্ডারপাসে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জিমেল উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জিমেল দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে হেতিমদী আন্ডারপাস অতিক্রম করছিলেন।

এসময় তিনি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারালে ফ্লাইওভারের রেলিংয়ের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লেগে তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্র জানায়, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।

মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।

সদরপুরে পুকুরে গোসল করতে নেমে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু

সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
সদরপুরে পুকুরে গোসল করতে নেমে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় পুকুরে ডুবে আবদুল্লাহ (৮) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। 

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের সুবদেব নগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবদুল্লাহ ভাষানচর ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের বেলায়েত হোসেন ও রিনা আক্তারের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আবদুল্লাহ গত তিন-চার দিন ধরে তার নানা সদর আলীর বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। বিকেলে বাড়ির পাশে ইসলাম বয়াতীর পুকুরে গোসল করতে যায়। এরপর দীর্ঘক্ষণ তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান শুরু করেন। 

একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দা রাসেলের পুকুরে নেমে খোঁজাখুঁজি করে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত তাকে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন শাহ বলেন, পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

হত্যা মামলার আসামির খোঁজে পুলিশ, ফেসবুকে ভ্রমণের ছবি

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
হত্যা মামলার আসামির খোঁজে পুলিশ, ফেসবুকে ভ্রমণের ছবি

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে শ্রমিক নেতা মানিক মিয়াকে (৪০) হত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের চার দিন হলেও ৬ জুলাই সোমবার পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

সোমবার (৬ জুলাই) রাতে মানিক মিয়া হত্যা মামলার ৩ নম্বর আসামি আল ইমরান খান ফেসবুকে গ্রামীণ পরিবেশে ঘুরে বেড়ানোর কয়েকটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। ওই ছবিগুলোর মধ্যে একটি ছবিতে মামলার ৫ নম্বর আসামি রিফাত খানকেও দেখা গেছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ১১টার দিকে গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে শোয়েব মুন্সী ও তার লোকজন মানিক মিয়াকে ধরে নিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করে। তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে বুধবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত মানিক মিয়া গৌরীপুর উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহসভাপতি ছিলেন। তিনি গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার আজিবুল ইসলামের ছেলে।

শ্রমিক নেতা মানিক মিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত ২ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় আসামি করা হয় শোয়েব মুন্সী, আল ইমরান খানসহ আটজন এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জনসহ মোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তবে এ ঘটনায় ৬ জুলাই সোমবার পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

শোয়েব মুনশী উত্তর জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক এবং আল ইমরান উত্তর জেলা ছাত্রদলের সদস্য ও গৌরীপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পরপরই তাদের দুজনসহ ৩ জনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত অন্যজন হলেন গৌরীপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিফাত হাসান।

এদিকে মানিক মিয়া হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও প্রধান আসামি সুয়েব মুন্সিসহ সকল আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ফেসবু্কে ক্ষোভে ফেটে পড়ে নেটিজেনরা। কিন্তু ঘটনার চার দিন পার হলেও আসামিদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় গৌরীপুর থানার ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মানিক হত্যা মামলার পলাতক আসামিরা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছ। আসামিরা ফেসবুকে ঘুরে বেড়ানোর ছবি দিচ্ছে। কিন্তু পুলিশ তাদের অবস্থা শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে পারছেন না এই বিষয়টি গৌরীপুর থানা পুলিশের প্রতি নেতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গৌরীপুর থানার ওসি ফোন রিসিভ করেননি। তবে মামলার পর জানতে চাইলে ওসি বলেছিলেন আসামি ধরার প্রক্রিয়া চলমান।