লেখক ও গবেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের অসমাপ্ত কাজ ও স্মৃতি ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় সব কিছুই করা হবে।
সোমবার (৬ জুলাই) বাংলা একাডেমিতে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মরদেহে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে এসে তিনি এ কথা বলেন।
আরো পড়ুন
ট্রাম্পের চাপে নেতানিয়াহু, দুই মিত্রের দূরত্ব বাড়ছে?
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, দেশকে ভালোবেসে বহু কাজ করে গেছেন তিনি। শিক্ষা ও সংস্কৃতি খাতে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন এই বুদ্ধিজীবী।
তিনি বলেন, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের অসমাপ্ত কাজ ও স্মৃতি ধরে রাখতে যা যা করণীয় তা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় করবে। তার দাফন হবে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে।
আরো পড়ুন
সীমান্ত সুরক্ষায় ডিমলায় বিজিবির নতুন বিওপির উদ্বোধন
এর আগে সকাল ১০টায় বাংলা একাডেমির সভাপতি বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ ও লেখক আবুল কাসেমের মরদেহ আনা হয় বাংলা একাডেমিতে। এখানেই অনুষ্ঠিত হয় তার ২য় নামাজে জানাজা।
এরপর বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, বেলা ১২টায় অপরাজেয় বাংলা এবং বাদ যোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের শেষ জানাজা শেষে মিরপুরের বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হবে তাকে।
আরো পড়ুন
জ্বালানি আমদানির চাপ কমাতে চায় সরকার: মন্ত্রী
হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে মারা যান অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।
১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) ও ১৯৬৬ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। পরবর্তীকালে বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। সব স্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।
আরো পড়ুন
চীনের প্রস্তাবিত করিডরে বাধা মায়ানমারের গৃহযুদ্ধ ও ভারতের টেনশন
গুণী এই অধ্যাপকের ‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দুটি সাময়িকপত্রের সম্পাদনা ছাড়াও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই রয়েছে। ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’, ‘সাহিত্য চিন্তা’, ‘রাজনীতি দর্শন’, ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’র মতো তার লেখা অন্তত ২০টির বেশি বই প্রকাশ হয়েছে। এছাড়াও সম্পাদনায় প্রকাশ হয়েছে ‘ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি’, ‘স্বদেশচিন্তা’র মতো একাধিক গ্রন্থও।
এ ছাড়াও, অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।