• ই-পেপার

টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

দুনিয়া মাতানো ফুটবল বিশ্বকাপ

এক শহরে সংযোগ দুই মহাদেশের

রানা শেখ
এক শহরে সংযোগ দুই মহাদেশের
ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে ম্যাচে এমন দৃশ্য বহুবার দেখা গেছে। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপ এলেই বদলে যায় ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উত্তর-পূর্বের লা শাপেল নামের এলাকার পরিবেশ। রাস্তায়, দোকানে, ছোট ছোট চায়ের আড্ডা—সবখানেই আলোচনার দখল নিয়ে ফেলে ফুটবল।

এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তবে অন্যান্যবারের চেয়ে আয়োজন একটু আলাদাই। আগে কেবল একটি বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করা হতো। এবার পাশাপাশি দুটি বড় পর্দায় খেলা দেখতে পারছে ফুটবলপ্রেমীরা।

তাও আবার ভিন্ন দুটি খেলা। বিশেষ করে ফ্রান্স ও আফ্রিকার কোনো দেশের  খেলা একই সময়ে হলে দুই বড় পর্দায় দেখানো হয় দুটি খেলাই। সেদিন যেমন এক পর্দায় চলছিল গ্রুপ পর্বের ফ্রান্স-নরওয়ে ম্যাচ, অন্যটিতে সেনেগাল বনাম ইরাকের লড়াই। দুই ম্যাচ একসঙ্গে চললেও মনোযোগে কোনো কমতি ছিল না দর্শকের।

এ রকম সহাবস্থানের কারণ শুধুই ফুটবল নয়। ওই এলাকার মানুষের শিকড়ও তো দুই মহাদেশেই গাঁথা। এবার সেনেগালের হয়ে খেলেছেন এমন একাধিক ফুটবলার, যাঁদের জন্ম ফ্রান্সে। আবার ফ্রান্সের হয়ে খেলছেন আফ্রিকান বংশোদ্ভূত অনেক খেলোয়াড়। ফলে লা শাপেলে পাশাপাশি দুই বড় পর্দায় ফ্রান্স ও সেনেগালের খেলা দেখাটা সেখানকার মানুষের জন্য এক ধরনের আত্মিক সংযোগও।

এমন মিশ্র আবেগের দৃশ্য এর আগেও দেখা গেছে। গত জানুয়ারিতে সেনেগাল আফ্রিকান কাপ অব নেশনস জেতার পর লা শাপেলের রাস্তায়ও নেমেছিল উৎসব। যদিও পরে মাঠে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে সেনেগালের শিরোপা কেড়ে নিয়ে মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে আফ্রিকার ফুটবল সংস্থা। আবার ফ্রান্সের সাফল্যও সমান উচ্ছ্বাসে পালিত হয়  সেখানে।

পাঁচ মাস পর বিশ্বকাপের আরেক রাতে একই চিত্র। একদিকে উসমান দেম্বেলের হ্যাটট্রিক, অন্যদিকে পাপা গেয়ির জোড়া গোল। দুই ম্যাচেই উল্লাস, দুই দলেই আনন্দ। এখানে জয় কোনো এক দেশের একার থাকে না।

এই বাস্তবতার বড় কারণ, ফ্রান্সের অভিবাসন কাঠামো। ফ্রান্সে দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বাভাবিক বিষয়। ফলে একজন  খেলোয়াড় এক দেশে জন্মালেও অন্য দেশের হয়ে খেলতে পারেন। কারো জন্ম প্যারিসে, কিন্তু তাঁর শিকড় সেনেগালে। কারো জন্ম নরম্যান্ডিতে, কিন্তু হৃদয় আলজেরিয়ায়। এই কারণেই সেনেগাল দলে যেমন ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড় আছেন, তেমনি ফ্রান্স দলে রয়েছেন আফ্রিকান বংশোদ্ভূত তারকারা। যে তালিকায় এমবাপ্পে,  দেম্বেলে, চুয়ামেনি ও উপামেকানোর মতো বড় বড় নাম।

এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া ফুটবলারই খেলছেন সবচেয়ে বেশি। কতজন জানেন? ৯৯ জন! দ্বিতীয় স্থানে আছে নেদারল্যান্ডস, যেখানে জন্ম নেওয়া ৬৭ জন ফুটবলার খেলছেন চলতি বিশ্ব আসরে। জার্মানিতে জন্ম  নেওয়া ৫০ জন এবং ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ৪৭ জন ফুটবলার রয়েছেন। কিন্তু সবাইকে ছাপিয়ে শীর্ষে ফ্রান্স, যেন ফরাসি স্রোতধারা চলছে বিশ্বকাপে। ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া ৯৯ জনের মধ্যে ২৩ জনই ফ্রান্স দলে খেলছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আলজেরিয়া, তাদের ১৩ জন ফুটবলারের জন্ম ফ্রান্সে। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম লুকা জিদান, ফরাসি কিংবদন্তি ফুটবলার জিনেদিন জিদানের ছেলে। জিদানের জন্ম আলজেরিয়ায় হলেও তিনি ফ্রান্সের হয়ে খেলেছেন। আর তাঁর ছেলে জন্মেছেন ফ্রান্সে, কিন্তু  খেলছেন আলজেরিয়ার হয়ে।

এ ছাড়া হাইতিতে ১২ জন, কঙ্গোতে ১১ জন, সেনেগালে ১০ জন, আইভরি কোস্টে আটজন, তিউনিশিয়ায় সাতজন, মরক্কোয় ছয়জন, কেপ ভার্দে ও ঘানায় তিনজন করে এবং মিসর, কাতার ও স্পেন দলে একজন করে আছেন, যাঁরা ফ্রান্সে জন্মেছেন।

এর পেছনেও আছে ইতিহাস। আফ্রিকার বহু দেশ একসময় ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিল। সেই সম্পর্ক আজও সংস্কৃতি, ভাষা ও জীবনযাত্রায় গভীরভাবে রয়ে গেছে। তাই অভিবাসন শুধু ভৌগোলিক নয়, এটি পরিচয়েরও প্রশ্ন।

প্যারিস এখন সেই পরিচয়ের কেন্দ্র। একসময় ব্রাজিলের সাও পাওলো বা আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসকে ফুটবলার তৈরির কারখানা বলা হতো। এখন সেই সরবরাহ ব্যবস্থায় উঠে এসেছে প্যারিসের নামও। শহরের চারপাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ক্লাব ও একাডেমি। হাজারো তরুণ প্রতিদিন সেখানে ফুটবল শেখে। তাদের বড় অংশই অভিবাসী পরিবারের সন্তান। কেউ ফ্রান্সকে বেছে নেয়, কেউ ফিরে যায় নিজের শিকড়ে।

এই দ্বৈত পরিচয়ই তৈরি করেছে নতুন ফুটবল বাস্তবতা, যেখানে একই শহরে জন্ম নেওয়া দুই খেলোয়াড় খেলছেন দুই দেশের হয়ে। আর লা শাপেলের মতো এলাকায় সেই দ্বৈততা কোনো বিভাজন নয়, বরং উদযাপনের অংশ।

এখানেই একসঙ্গে উল্লাস হয় ফ্রান্স কিংবা আফ্রিকার কোনো দেশ গোল করলে। ফুটবল এখানে শুধু খেলা নয়, এটি পরিচয়, ইতিহাস আর সংস্কৃতির মিশ্রণও। একই শহরে দুই মহাদেশের আত্মার সংযোগের দারুণ উদাহরণ লা শাপেলের চেয়ে ভালো আর কোনটি!

বেলজিয়ামের বিপক্ষে ইতিহাস ফেরানোর লড়াই যুক্তরাষ্ট্রের

ক্রীড়া প্রতিবেদক
বেলজিয়ামের বিপক্ষে ইতিহাস ফেরানোর লড়াই যুক্তরাষ্ট্রের
দুই দলের দুই বড় তারকা পুলিসিচ-লুকাকু। ছবি : রয়টার্স

ইতিহাস বারবারই ফিরে আসে, যেমনটি এবার সেই সুযোগ পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ঘরের মাঠে এই মর্যাদার আসর আয়োজনের সুযোগটা বেশ কাজেই লাগাতে পেরেছে তারা।

এখন পর্যন্ত শতভাগ জয় নিয়ে শেষ ষোলোতে উঠেছে দলটি। সিয়াটল স্টেডিয়ামে বেলজিয়ামকে হারাতে পারলেই ৯৬ বছর আগের ইতিহাস ফিরবে। কারণ ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে সেই যে বেলজিয়ামকে হারিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, আর কখনোই কোনো মঞ্চে সেই স্বাদ পায়নি। তাই বেলজিয়াম গত বিশ্বকাপের হতাশা ভুলে এবার স্বাগতিকদের হারিয়ে শেষ আটে উঠতে আত্মবিশ্বাসী।

বেলজিয়ামের বিপক্ষে ইতিহাস ফেরানোর লড়াই যুক্তরাষ্ট্রের ২০১৮ সালে তৃতীয় হওয়া বেলজিয়াম গতবার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। এবারও গ্রুপ পর্বে মিসরের বিপক্ষে ১-১ ও ইরানের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের পর তাদের ওপর থেকে সবার নজর সরে যায়। তবে নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের ফিরে পাওয়ার ইঙ্গিত দেয় রেড ডেভিলরা। অভিজ্ঞ রোমেলু লুকাকু সেই ম্যাচের শেষ দিকে বদলি নেমেই গোল করেন।

ফিট না থাকার পরও তাঁকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নিয়ে সমালোচিত হয়েছিলেন কোচ রুদি গার্সিয়া। কিন্তু তিনি দেখিয়েছেন অভিজ্ঞতার কী মূল্য। শেষ বত্রিশে স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে সেনেগালের কাছে যখন দল হারের মুখে, তখনই ৮৬ মিনিটে গোল করেন লুকাকু। সেটি টনিকের মতো কাজ করেছে দলের সবাইকে উজ্জীবিত করতে। অধিনায়ক তিয়েলেমানসও জোড়া গোল করে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ে।

সেই ম্যাচ থেকে পাওয়া স্নায়ুচাপ নিয়ন্ত্রণের শিক্ষাটাই রেড ডেভিলদের আরো এগিয়ে যেতে সহায়ক হবে। তবে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা তরুণ ফরোয়ার্ড জেরেমি ডোকুকে নিয়ে। এখন পর্যন্ত খুব বেশি ম্যাচটাইম পাননি এই প্রতিভাবান তরুণ। এ জন্য অনেকেই বলছেন, তাকে আরো বেশি ব্যবহার করা সম্ভব হলে বেলজিয়ামের আক্রমণের ধার বাড়বে।

সব শেষ চলতি বছর মার্চে হওয়া সাক্ষাতে বেলজিয়াম ৫-২ গোলে যুক্তরাষ্ট্রকে বিধ্বস্ত করে। সব মিলিয়ে সাতবারের সাক্ষাতে যুক্তরাষ্ট্রের জয় সাকুল্যে সেই ৯৬ বছর আগের বিশ্বকাপে, বাকিগুলোতে জিতেছে বেলজিয়ামই। তবে সেবার নিজেদের সেরা সাফল্য হিসেবে সেমিফাইনাল খেলে যুক্তরাষ্ট্র। তারপর ২০০২ সালে শুধু শেষ আটে খেলেছে। এবার তাদের মোক্ষম সুযোগ আবার শেষ ষোলোর গণ্ডি পেরোনোর। কারণ এখন পর্যন্ত চার ম্যাচেই জিতেছে তারা। গ্রুপ পর্বে প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্ককে এবং শেষ বত্রিশে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে উড়িয়েছে তারা। তবে সেই ম্যাচে দলের অন্যতম সুযোগসন্ধানী গোলদাতা ফোলারিন বালোগান লাল কার্ড দেখেছেন। তাই বেলজিয়ামের বিপক্ষে আসরে তিন গোল করা এই তারকাকে ছাড়াই নামতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। তার ঘাটতি পূরণই বড় চ্যালেঞ্জ হবে তাদের জন্য। তবে সেবাস্তিয়ান বারহল্টার, রিকার্ডো পেপি ও জিওভান্নি রেইনারা কোচ মরিসিও পচেত্তিনোর আশা বাঁচিয়ে রাখছেন ভালো কিছু করার ক্ষেত্রে।

টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক
টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ
দুই অধিনায়ক। ছবি : এক্স থেকে

একমাত্র টেস্ট সিরিজ হেরে জিম্বাবুয়ে সফর শুরু করেছে বাংলাদেশ। সেই হতাশা ভুলতে আজ ওয়ানডে সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নামছে বাংলাদেশ।

তাতে টস ভাগ্যে জয়ী হয়েছে বাংলাদেশ। তবে তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথমটিতে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। সর্বশেষ একাদশ থেকে আজ ৪ পরিবর্তন নিয়ে হারারেতে নামবে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিরপুরে খেলা লিটন দাস, শেখ মেহেদী, তানভীর ইসলাম ও শরীফুল ইসলামের বদলে আজ জায়গা পেয়েছেন অধিনায়ক মিরাজের সঙ্গে নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন ও নাহিদ রানা।

বাংলাদেশের একাদশ-

তানজীদ হাসান তামিম, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানা।
 

পেনাল্টির সময় নরওয়ের গোলরক্ষককে কী বলেন নেইমার

ক্রীড়া ডেস্ক
পেনাল্টির সময় নরওয়ের গোলরক্ষককে কী বলেন নেইমার
নরওয়ের গোলরক্ষকের সঙ্গে নেইমারের তর্ক করার মুহূর্ত। ছবি : রয়টার্স

ম্যাচের তখন ১৪ মিনিট চলছিল। সে সময় পেনাল্টি থেকে লিড নেওয়ার দারুণ সুযোগ ছিল ব্রাজিলের। তবে সেলেসাওদের সামনে বাধা হলেন ওরইয়ান নিলান্ড। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ব্রুনো গিমারাইসের শট দিলেন ঠেকিয়ে। 

তাতে ম্যাচের চিত্রপট যায় পাল্টে। পরে আরো কয়েকটি দুর্দান্ত শট ঠেকিয়ে নরওয়ের ২-১ গোলের জয়ে অনবদ্য অবদান রাখেন নিলান্ড। সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই নেইমারের সঙ্গে মনস্তাত্ত্বিক খেলা খেললেন তিনি। ব্রাজিলিয়ান তারকা যেন পেনাল্টি মিস করেন সে জন্য তার সঙ্গে তর্কে জড়ান তিনি। মনোযোগ বিঘ্নিত করাই মূল উদ্দেশ্য ছিল তার।

 

তাতে অবশ্য লাভ হয়নি। ম্যাচের যোগ করা সময়ে সফল স্পটকিক নিয়ে ব্রাজিলের ব্যবধান কমান নেইমার। সে সময় দুজনের মধ্যে কি কথা হয়েছিল তা সামনে এনেছে ব্রিটিশ ক্রীড়া ও বিনোদন বিষয়ক প্ল্যাটফরমে ডিএজেডএন। 

পেনাল্টি নেওয়ার আগে নেইমার নিলান্ডকে বলতে থাকেন, ‘কোন দিকে শট নিতে দেখতে চাও?’ প্রত্যুত্তরে নরওয়ের গোলরক্ষক বলেছেন, ‘তোমার শট আমি রুখে দেব। এটি রুখে দিব।’ গোল করার পর নেইমার বলেন, ‘আমার সঙ্গে এসব চলবে না। এসব চলবে না।’

পেনাল্টিতে নেইমার হাসলেও মূল খেলায় হাসিটা হেসেছেন নিলান্ড ও তার দল। ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা পেয়ে। দলের হয়ে জোড়া গোল করেছেন আর্লিং হালান্ড।