• ই-পেপার

ভুল ট্রেনে খুলনায়, পুলিশের সহায়তায় পরিবারের কাছে ফিরল তৌহিদ

হত্যা মামলার আসামির খোঁজে পুলিশ, ফেসবুকে ভ্রমণের ছবি

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
হত্যা মামলার আসামির খোঁজে পুলিশ, ফেসবুকে ভ্রমণের ছবি

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে শ্রমিক নেতা মানিক মিয়াকে (৪০) হত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের চার দিন হলেও ৬ জুলাই সোমবার পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

সোমবার (৬ জুলাই) রাতে মানিক মিয়া হত্যা মামলার ৩ নম্বর আসামি আল ইমরান খান ফেসবুকে গ্রামীণ পরিবেশে ঘুরে বেড়ানোর কয়েকটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। ওই ছবিগুলোর মধ্যে একটি ছবিতে মামলার ৫ নম্বর আসামি রিফাত খানকেও দেখা গেছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ১১টার দিকে গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে শোয়েব মুন্সী ও তার লোকজন মানিক মিয়াকে ধরে নিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করে। তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে বুধবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত মানিক মিয়া গৌরীপুর উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহসভাপতি ছিলেন। তিনি গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার আজিবুল ইসলামের ছেলে।

শ্রমিক নেতা মানিক মিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত ২ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় আসামি করা হয় শোয়েব মুন্সী, আল ইমরান খানসহ আটজন এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জনসহ মোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তবে এ ঘটনায় ৬ জুলাই সোমবার পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

শোয়েব মুনশী উত্তর জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক এবং আল ইমরান উত্তর জেলা ছাত্রদলের সদস্য ও গৌরীপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পরপরই তাদের দুজনসহ ৩ জনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত অন্যজন হলেন গৌরীপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিফাত হাসান।

এদিকে মানিক মিয়া হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও প্রধান আসামি সুয়েব মুন্সিসহ সকল আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ফেসবু্কে ক্ষোভে ফেটে পড়ে নেটিজেনরা। কিন্তু ঘটনার চার দিন পার হলেও আসামিদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় গৌরীপুর থানার ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মানিক হত্যা মামলার পলাতক আসামিরা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছ। আসামিরা ফেসবুকে ঘুরে বেড়ানোর ছবি দিচ্ছে। কিন্তু পুলিশ তাদের অবস্থা শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে পারছেন না এই বিষয়টি গৌরীপুর থানা পুলিশের প্রতি নেতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গৌরীপুর থানার ওসি ফোন রিসিভ করেননি। তবে মামলার পর জানতে চাইলে ওসি বলেছিলেন আসামি ধরার প্রক্রিয়া চলমান। 

ককটেল বিস্ফোরণে উত্তপ্ত সাভার, প্রতিবাদে মিছিল এনসিপির

অনলাইন ডেস্ক
ককটেল বিস্ফোরণে উত্তপ্ত সাভার, প্রতিবাদে মিছিল এনসিপির
সংগৃহীত ছবি

সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা শেষে আয়োজিত সমাবেশ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে মো. শাহীন খন্দকার (৩০), মো. জসিম (২৬) ও মো. শাহাদাত হোসেনের (৪০) পরিচয় জানা গেলেও অপর একজনের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিবাদী মিছিল করেছে দলটি।

সোমবার (৬ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভার থানা স্ট্যান্ডসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ইয়াসির আরাফাত জানান, সমাবেশে ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।

ইয়াসির আরাফাতের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের সময় সমাবেশের মঞ্চে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি এবং মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইএমও ডা. হাসান বলেন, আমরা চারজন রোগী পেয়েছি। এর মধ্যে পায়ে একজনের গুরুতর আঘাত ছিল। এর মধ্যে তিনজনকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দিয়ে অস্ত্রোপচারের জন্য পাঠানো হয়েছে। অপরজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ডিবি পুলিশের ওপর হাতবোমা হামলা, ছিনিয়ে নেওয়া হলো আসামি

মাদারীপুর প্রতিনিধি
ডিবি পুলিশের ওপর হাতবোমা হামলা, ছিনিয়ে নেওয়া হলো আসামি
সংগৃহীত ছবি

মাদারীপুর সদর উপজেলার একাধিক মামলার আসামি পারভেজ ব্যাপারীকে গ্রেপ্তারের পর হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়েছে সহযোগীরা। এসময় আসামির ফেলে যাওয়া ৩০০টি ইয়াবা উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

মাদারীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু নাঈম এ তথ্য জানান। সোমবার (৬ ‍জুলাই) রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার লক্ষ্মীগঞ্জে এ ঘটনা ঘটে।

পালিয়ে যাওয়া পারভেজ ব্যাপারী ওই এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পারভেজকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য পুকুরপাড়ে যায়। পারভেজের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সেখানে নেওয়ার পর তার লোকজন একাধিক বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয়।

মাদারীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নঈম জানান, পারভেজ একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। সন্ধ্যার পর ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এসময় পারভেজের সহযোগীরা হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটালে তিনি পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া ৩০০টি ইয়াবা পাওয়া যায়। তবে কোনো পু‌লিশ সদস্য আহত হননি। পারভেজকে ধরতে থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা

গণপিটুনিতে ‘ছিনতাইকারী’ নিহতের ঘটনায় মামলা, এলাকায় বিক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
গণপিটুনিতে ‘ছিনতাইকারী’ নিহতের ঘটনায় মামলা, এলাকায় বিক্ষোভ
সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইরে গণপিটুনিতে ‘ছিনতাইকারী’ নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় নিরীহ মানুষ ও সামাজিক সংগঠনের সদস্যদের আসামি করার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সোমবার (৬ জুলাই) রাতে ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গণপিটুনিতে নিহত সিজানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদকসেবন এবং কিশোর গ্যাং পরিচালনাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। তার কারণে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করেছেন।

তাদের দাবি, সিজানকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার উদ্দেশে আটক করা হয়েছিল। পরে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে তার মৃত্যু হয়। কিন্তু ঘটনার পর মসজিদের ইমাম, সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং নিরীহ এলাকাবাসীকে হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে, যা হয়রানিমূলক।

বিক্ষোভ মিছিলটি পশ্চিম মাসদাইরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে এক প্রতিবাদ সমাবেশে পরিণত হয়। সমাবেশে এক মাছ ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, সিজান ও তার সহযোগীরা একাধিকবার তার কাছ থেকে ছিনতাই ও জোরপূর্বক টাকা আদায় করেছে। এক নারী পোশাকশ্রমিক বলেন, সিজান ও তার সহযোগীদের কারণে সন্ধ্যার পর এলাকায় নারী ও শিশুদের চলাচল নিরাপদ ছিল না।

সমাবেশ থেকে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, নিরীহ মানুষকে হয়রানি বন্ধ এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের দাবি জানানো হয়।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন,‘ নিহত সিজানের ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে। তদন্তের স্বার্থে সব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্তের অগ্রগতি ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, গত শনিবার রাতে পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় গণপিটুনিতে আহত হওয়ার পর হাসপাতালে সিজানের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার মা শিল্পী বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মসজিদের ইমামসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১৪-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার আগে এক যুবকের মোবাইল ফোন ছিনতাই ও বিক্রির বিষয়ে সিজানের একটি কথিত স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনার জের ধরেই ক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দেয় বলে তারা জানান।