• ই-পেপার

ট্রাম্পের কাছে ফাউলই মনে হয়নি

স্পেনের একাদশ অপরিবর্তিত, পর্তুগালের চমক

ক্রীড়া ডেস্ক
স্পেনের একাদশ অপরিবর্তিত, পর্তুগালের চমক
রয়টার্সের ছবি

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে আজ রাতে মাঠে নামছে দুই ইউরোপীয় পরাশক্তি স্পেন ও পর্তুগাল। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হতে যাওয়া এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি ঘিরে ভক্তদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে স্পেনের কোচ আগের ম্যাচের উইনিং কম্বিনেশন ধরে রাখলেও, পর্তুগাল শিবিরে এসেছে বড় পরিবর্তন। একাদশে চমক হিসেবে ফিরেছেন জোয়াও ফেলিক্স।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে খেলা সবশেষ ম্যাচটির একাদশই অপরিবর্তিত রেখেছে স্পেন। গোলপোস্টের নিচে থাকছেন উনাই সিমোন। রক্ষণভাগ সামলানোর দায়িত্বে থাকবেন পেদ্রো পোরো, পাও কুবারসি, আইমেরিক লাপোর্তে ও মার্ক কুকুরেয়া। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণে থাকছেন রদ্রি, পেদ্রি ও দানি ওলমো। আর আক্রমণভাগে দেখা যাবে তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল, মিকেল ওইয়ারজাবাল ও আলেক্স বায়েনাকে।

অন্যদিকে, পর্তুগাল তাদের শুরুর একাদশে বড় পরিবর্তন এনেছে। যেখানে সবচেয়ে বড় চমক জোয়াও ফেলিক্সের অন্তর্ভুক্তি। দলটির গোলরক্ষক হিসেবে খেলবেন দিয়োগো কস্তা। ডিফেন্সে থাকবেন জোয়াও ক্যান্সেলো, রেনাতো ভেইগা, রুবেন দিয়াস ও নুনো মেন্দেস। মাঝমাঠ সামলাবেন জোয়াও নেভেস, ভিতিনিয়া ও ব্রুনো ফার্নান্দেজ। আর আক্রমণভাগে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে থাকছেন জোয়াও ফেলিক্স ও পেদ্রো নেতো।

স্পেন একাদশ:

উনাই সিমোন, পেদ্রো পোরো, পাও কুবারসি, আইমেরিক লাপোর্তে, মার্ক কুকুরেয়া, রদ্রি, পেদ্রি, দানি ওলমো, লামিনে ইয়ামাল, মিকেল ওইয়ারজাবাল, আলেক্স বায়েনা।

পর্তুগাল একাদশ:

দিয়োগো কস্তা, জোয়াও ক্যান্সেলো, রেনাতো ভেইগা, রুবেন দিয়াস, নুনো মেন্দেস, জোয়াও নেভেস, ভিতিনিয়া, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, জোয়াও ফেলিক্স, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, পেদ্রো নেতো।

ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের বার্তা

হলুদ জার্সি আবার ঝলমল করবে

অনলাইন ডেস্ক
হলুদ জার্সি আবার ঝলমল করবে
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বকাপে ব্রাজিল ফুটবল দলের পরাজয়ের পর বাংলাদেশের কোটি সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে দেশটির রাষ্ট্রদূত পাওলো এফ. ডি. ফেরেস বলেছেন, ‘ব্রাজিলের হলুদ জার্সি আবার ঝলমল করবে।’

সোমবার (৬ জুলাই) এক বার্তায় বাংলাদেশি সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ফুটবলে এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন নীরবতা যেন কথার চেয়েও জোরালোভাবে কিছু বলে। শেষ বাঁশি বাজার পর, বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ ব্রাজিলিয়ানের হৃদয় একই রকম হতাশার ভার অনুভব করেছে। আমি জানি, সেই হৃদয়গুলোর অনেকেই এখানে, বাংলাদেশে ছিল।’

রাষ্ট্রদূত বলেন, ব্রাজিলের জার্সি পরা, পতাকা ওড়ানো, খেলোয়াড়দের জন্য গান গাওয়া এবং অকৃত্রিম আবেগ নিয়ে দলটির পাশে থাকার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। জাতীয় দলের প্রতি বাংলাদেশিদের ভালোবাসা ব্রাজিলের মানুষকে গভীরভাবে নাড়া দেয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, এই পরাজয় কষ্টের। কারণ ব্রাজিলিয়ানদের কাছে ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়; এটি স্মৃতি, শৈশব, পরিবার, সঙ্গীত, আনন্দ ও আশার প্রতীক। তবে মন ভাঙাও ভালোবাসারই একটি অংশ, আর ব্রাজিল ও ফুটবলের সম্পর্ক বহু দুঃসময় পেরিয়েও অটুট রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত জানান, ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলোত্তি এবং ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের ফুটবল সমন্বয়কারী রদ্রিগো কাইতানোও এই বিদায়কে শেষ নয়, বরং নতুন যাত্রার শুরু হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, নবায়ন, ধৈর্য, অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যতের প্রতি আস্থাই ব্রাজিলকে আবারও সাফল্যের পথে ফিরিয়ে নেবে।

বাংলাদেশি সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, ব্রাজিলের দুঃসময় ও সুসময়—উভয় সময়েই বাংলাদেশিরা যেভাবে পাশে থেকেছেন, তা ব্রাজিলের মানুষের জন্য এক মূল্যবান উপহার। ফুটবল যে ভাষা, দূরত্ব ও সীমান্তের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষকে এক সুতোয় বেঁধে রাখতে পারে, এই সম্পর্ক তারই প্রমাণ।

বার্তার শেষাংশে রাষ্ট্রদূত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘হলুদ জার্সি আবার ঝলমল করবে। সুর ফিরে আসবে। আনন্দ ফিরে আসবে। আর যখন ব্রাজিল আবার জেগে উঠবে, আমরা তাদের স্মরণ করব, যারা সবচেয়ে কঠিন রাতে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল।’

প্রসঙ্গত, রবিবার দিবাগত রাত ভোর রাত ২টায় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের মুখোমুখি হয় পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ২ গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে নেন আরলিং হলান্ড। শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে নেইমার জুনিয়র একটি গোল করে ব্যবধান কমালেও ম্যাচে আর ফিরতে পারেনি ব্রাজিল। এতেই হেক্সা জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হয় সেলেসাওদের।

ভবিষ্যৎ রানির কাছ থেকে রাজকীয় অভিবাদন পেলেন হালান্ড

ক্রীড়া ডেস্ক
ভবিষ্যৎ রানির কাছ থেকে রাজকীয় অভিবাদন পেলেন হালান্ড
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ব্রাজিলকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে নরওয়ে। নিজ দেশের জন্য গর্বের এক মুহূর্ত উপহার দেওয়ায় আনন্দে নরওয়ের ড্রেসিং রুমে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানান যুবরাজ হাকন এবং যুবরানি মেটে-মারিয়েটের জ্যেষ্ঠ কন্যা রাজকুমারী ইনগ্রিড আলেকজান্দ্রা। অভিনন্দন জানিয়েছে দলের সেরা খেলোয়াড় হালান্ডকে জড়িয়ে ধরেন এই রাজকুমারী। এমন একটি ভিডিও পড়ে নেট দুনিয়ায়; মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়।

ভিডিওতে দেখা যায়, জয়ের পর ড্রেসিংরুমে তখন উৎসবের আবহ। সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনে ব্যস্ত শার্টলেস হালান্ড রাজকুমারীকে দেখে এগিয়ে যান এবং তাকে উষ্ণ আলিঙ্গনে স্বাগত জানান। পরে দুজনকে করমর্দন করতেও দেখা যায়। 

 

এ সময় পাশে তার ভাই প্রিন্স সভের ম্যাগনাসের পাশে থেকে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলেন এবং এমনকি হালান্ডকে আলিঙ্গনও করেন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ষোলোয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে নরওয়ে। দলের জয়ের নায়ক ছিলেন হালান্ড। তার জোড়া গোলেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ আটে জায়গা করে নেয় নরওয়েজিয়ানরা।

NINTCHDBPICT001093551564

এর আগে এই তারকা স্ট্রাইকারকে খেলা শেষে দেশের ঐতিহ্যবাহী ভাইকিং রো উদযাপনের অংশ হিসেবে ঢোল বাজাতে দেখা যায়।

NINTCHDBPICT001093551565

এটি তার জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত কিনা জানতে চাইলে হালান্ড বলেন, ‌‘হ্যাঁ। ঘটনাটি অবিশ্বাস্য এবং মাঝে মাঝে আমাকে নিজের বাহুতে চিমটি কাটতে হয় হচ্ছে। এমনটা সচরাচর হয় না যে আমি কথা খুঁজে পাই না, কিন্তু এই মুহূর্তে হয়তো আমি তাই করছি।’

‘আমি জীবনে কখনো এমনটা স্বপ্ন দেখিনি। আমি নরওয়ের হয়ে বিশ্বকাপে খেলার এবং তাদের বিশ্বকাপে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতাম, কিন্তু ব্রাজিলের বিপক্ষে জিতব, তা কখনো আশা করিনি।’

এটা এক অদ্ভুত অনুভূতি যে আমরা আসলে ব্রাজিলকে হারিয়ে দিয়েছি বলে যোগ করেন তিনি।

৩ মাসেই চূড়া এবং খাদ দেখলেন স্যামসন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
৩ মাসেই চূড়া এবং খাদ দেখলেন স্যামসন
সংগৃহীত ছবি

জীবনটা আসলেই বড্ড নিষ্ঠুর। এ যেন চিকন রশির ওপর হেঁটে যাওয়া। একপাশে আনন্দ তো অন্য পাশে বেদনা, এক পাশে সাফল্য তো অন্য পাশে ব্যর্থতা। জীবন একবার এপাশে তো একটু পরে অন্য পাশে হেলে পড়ে। সেলিব্রেটি, বিশেষ করে যারা খেলাধুলা করেন, তাদের জন্য এ সত্যিটা অনেক বেশি নিষ্ঠুর। 

ধরুন, কোনো ফাইনাল ম্যাচে টাইব্রেকারের শেষ শটটি নিচ্ছেন আপনি। গোল করতে পারলে আপনি হিরো, সবাই আপনাকে মাথায় তুলে নাচবে। সেই একই শট যদি কপালগুনে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দেয়, আপনি হয়ে যাবেন ভিলেন, সেই গোলরক্ষক হিরো। এ যেন পিলো পাসিং খেলা। বা ক্রিকেটের শেষ বলে ৫ রান লাগবে। আপনি ছক্কা মেরে জিতিয়ে দিলেন। আপনি হিরো। সেই একই শট যদি সীমানার কাছে দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হয়, আপনি কিন্তু ভিলেন। আপনার চেষ্টা কিন্তু একই রকম ছিল। পার্থক্যটা অতি সামান্য। রশির ওপর দিয়ে হাঁটার মতো। কখনো এপাশে তো কখনো ওপাশে।

এবারের ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো মাঠে ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। ব্যস সবাই তার ক্যারিয়ারের এপিটাফ লিখতে বসে গেলেন। রোনালদো যে জীবনে প্রায় হাজার গোল করে দুই যুগ আপনাকে আনন্দ দিল, আপনি ভুলেই গেলেন। আবার পরের ম্যাচে যখন রোনালদো দারুণভাবে ফিরে এলেন, গোল করলেন, দলকে জেতালেন; সবাই অবাক হয়ে ভাবেন, ৪১ বছর বয়সেও এত ক্ষিপ্রতা আসে কীভাবে?

আপনি যতই ভালো খেলোয়াড়ই হোন না কেন, কখনো কখনো ভাগ্যের একটু সহায়তা লাগে। আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি এখন সর্বকালের সেরাদের একজন। অথচ ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে টাইব্রেকারে হারের পর অবসরই ঘোষণা করেছিলেন মেসি। চারটি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে না পারার গ্লানি তাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল। তখনও মেসি জাতীয় দলের জার্সির ভার বহন করতে না পারা নিছক এক ক্লাব খেলোয়াড়। ভাবুন একবার, দুই মাস পর যদি অবসর ভেঙে ফিরে না আসতেন, বিশ্ব কি পেতো এমন এক সর্বজয়া ফুটবলারের দেখা। মেসি নয়, ফুটবল বিশ্বের কপাল ভালো যে তিনি ফিরে এসেছিলেন।

শৈল্পিক প্রতিভা নিয়ে ফুটবলে এসেছিলেন ব্রাজিলের নেইমার। কিন্তু বারবার ইনজুরি তার প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ ঘটতে দেয়নি। এবার বিশ্বকাপে এলেও বেশিরভাগ সময় কেটেছে বেঞ্চে বসেই। নরওয়ের বিপক্ষে ৭০ মিনিট পর মাঠে নেমেও দলের বিদায় ঠেকাতে পারেননি। হেক্সা মিশনের অকাল পরিসমাপ্তির পর মাঠে নেইমারের কান্না ছুঁয়ে গেছে অনেককেই। কিন্তু আপনি দলকে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দিতে পারেননি মানেই আপনি ব্যর্থ। ইতিহাসের কাছে আপনার কান্নার কোনো মূল্য নেই।

মানুষ বড় নিষ্ঠুর। মুহূর্তের ব্যর্থতায় ভুলে যায় আগের সব অর্জন। এমনকি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি করা টেন্ডুলকারের নামও ব্যঙ্গ করে এনডুলকার লেখা হয়েছিল।

পেন্ডুলামের মত সাফল্য-ব্যর্থতায় ঝুলতে থাকা জীবন দেখার সর্বশেষ উদাহরন ভারতের টি-২০ ফরম্যাটের ওপেনিং ব্যাটসমান সঞ্জু স্যামসন। বিস্তারিত লেখার আগে স্যামসনের সবশেষ ৬টি টি-২০ ইনিংস দেখে আসি চলুন। ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭, ৪২ বলে ৮৯, ৪৬ বলে ৮৯, ৪ বলে ৫, ১ বলে ০ এবং ৭ বলে এক রান। প্রথম তিনটি ইনিংস টি-২০ বিশ্বকাপের শেষ তিন ম্যাচে টানা। তৃতীয়টি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতকে ফাইনাল জেতানো। টি-২০ বিশ্বকাপের ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্টের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। টি-২০ বিশ্বকাপ জেতার পর ভারতের প্রথম সফর ছিল আয়ারল্যান্ড আর ইংল্যান্ড। 

সঞ্জু স্যামসনের পরের তিনটি ইনিংস আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই সিরিজের এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম মাচের। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে সঞ্জু স্যামসন দেখে ফেললেন সাফল্যের চূড়া এবং ব্যর্থতার অতল খাদ। অমন একটি বিশ্বকাপ কাটিয়ে আসার পর মাত্র তিন ইনিংসের ব্যর্থতাই তাকে দলের বাইরে নিয়ে যেতে পারে, এটা বোধহয় ভাবেননি বেচারা স্যামসন। 

আসলে স্যামসন কেন, তার ঘোরতর শত্রুও এতটা অভিশাপ দেয়নি নিশ্চয়ই। কিন্তু স্যামসনের কপাল খারাপ, তার ঘাড়ে যে নিঃশ্বাস ফেলছিল বৈভব সূর্যবংশী নামের এক বিস্ময়বালক। আইপিএলএ ২৩৭ স্ট্রাইক রেটে ৭৭৬ রান করা বৈভবকে বাইরে বসিয়ে রেখেও সমালোচনার ঝড় সামলাতে হচ্ছিল টিম ম্যানেজমেন্টকে। বৈভবকে দলে নিতে হলে তো কাউকে না কাউকে তো বাদ দিতে হতো। কাকে বাদ দেবেন? উভয়সঙ্কট বুঝি একেই বলে। 

সঞ্জু স্যামসনের সঙ্গে যিনি ওপেন করেন, সেই অভিষেক শর্মা এখন টি-২০ র‌্যাঙ্কিংএ ২ নাম্বার। আর আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সিরিজেও তার ব্যাটে রানের জোয়ার। তাই মাত্র তিন ম্যাচের ব্যর্থতায় বৈভবের জন্য জায়গা ছাড়তে হয়েছে স্যামসনকেই। তাকে বাদ দেয়াটা ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের জন্যও খুব কঠিন ছিল। সেই ম্যাচের আগে কোচ গৌতম গম্ভীরকে দীর্ঘসময় স্যামসনের সাথে কথা বলতে দেখা গেছে। নিশ্চয়ই তিনি দলের অন্যতম সেরা পারফরমারকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। কিন্তু কোনো মুখের কথায় কি এ বেদনার ক্ষতে প্রলেপ পরবে?

বৈভবের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কারো কোনো সংশয় নেই। কিন্তু স্যামসনের বাদ পড়াটা অবাক করেছে অনেককেই। স্যামসনের বাদ পড়ার খবরটি বিশ্বাসই করতে চাইছেন না সাবেক ব্যাটসম্যান সঞ্জয় মাঞ্জরেকার। বৈভবকে দলে দেখে তিনি খুশি। কিন্তু অবাক স্যামসনের জায়গায় দেখে, ‘ভারতের জার্সিতে বৈভবকে দেখা খুবই আনন্দের। কিন্তু স্যামসনের কী হলো! ড্রপড? আপনি আমার সঙ্গে মজা করছেন? আমার মনে হয় এটা ইনজুরি। আশা করি ইনজুরি। নইলে এটা হবে সবচেয়ে অদ্ভূত নির্বাচন। বৈভবকে দলে চাইলে স্যামসনকে তিনে খেলানো যেতো।’ কিন্তু সমস্যা হলো তিনে যে ব্যাট করেন ঈশাণ কিষাণ, যিনি এখন র‍্যাংকিংয়ে এক নম্বর!

ভারতের আরেক সাবেক ব্যাটসম্যান আম্বতি রাঈডুর প্রতিক্রিয়াও একইরকম। নিজের এক্স একাউন্টে তিনি লিখেছেন, ‘আসুন সঞ্জু স্যামসনের কথা একটু ভাবি... বৈভবের অভিষেক দেখে খুবই আনন্দ হচ্ছে এবং এটি অবশ্যই উদযাপনের যোগ্য, তবে আসুন আমরা ভুলে না যাই যে মাত্র ৩টি ম্যাচ আগেই সঞ্জু বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন।’ জীবন আসলে এমনই। ক্রূর, নিষ্ঠুর, ক্ষমাহীন।