• ই-পেপার

পটিয়া পৌরসভার ই-জিপি টেন্ডারে ফের একই ৩ প্রতিষ্ঠান, ক্ষুব্ধ ঠিকাদারদের বিক্ষোভ

ডিবি পুলিশের ওপর হাতবোমা হামলা, ছিনিয়ে নেওয়া হলো আসামি

মাদারীপুর প্রতিনিধি
ডিবি পুলিশের ওপর হাতবোমা হামলা, ছিনিয়ে নেওয়া হলো আসামি
সংগৃহীত ছবি

মাদারীপুর সদর উপজেলার একাধিক মামলার আসামি পারভেজ ব্যাপারীকে গ্রেপ্তারের পর হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়েছে সহযোগীরা। এসময় আসামির ফেলে যাওয়া ৩০০টি ইয়াবা উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

মাদারীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু নাঈম এ তথ্য জানান। সোমবার (৬ ‍জুলাই) রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার লক্ষ্মীগঞ্জে এ ঘটনা ঘটে।

পালিয়ে যাওয়া পারভেজ ব্যাপারী ওই এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পারভেজকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য পুকুরপাড়ে যায়। পারভেজের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সেখানে নেওয়ার পর তার লোকজন একাধিক বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয়।

মাদারীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নঈম জানান, পারভেজ একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। সন্ধ্যার পর ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এসময় পারভেজের সহযোগীরা হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটালে তিনি পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া ৩০০টি ইয়াবা পাওয়া যায়। তবে কোনো পু‌লিশ সদস্য আহত হননি। পারভেজকে ধরতে থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা

গণপিটুনিতে ‘ছিনতাইকারী’ নিহতের ঘটনায় মামলা, এলাকায় বিক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
গণপিটুনিতে ‘ছিনতাইকারী’ নিহতের ঘটনায় মামলা, এলাকায় বিক্ষোভ
সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইরে গণপিটুনিতে ‘ছিনতাইকারী’ নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় নিরীহ মানুষ ও সামাজিক সংগঠনের সদস্যদের আসামি করার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সোমবার (৬ জুলাই) রাতে ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গণপিটুনিতে নিহত সিজানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদকসেবন এবং কিশোর গ্যাং পরিচালনাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। তার কারণে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করেছেন।

তাদের দাবি, সিজানকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার উদ্দেশে আটক করা হয়েছিল। পরে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে তার মৃত্যু হয়। কিন্তু ঘটনার পর মসজিদের ইমাম, সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং নিরীহ এলাকাবাসীকে হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে, যা হয়রানিমূলক।

বিক্ষোভ মিছিলটি পশ্চিম মাসদাইরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে এক প্রতিবাদ সমাবেশে পরিণত হয়। সমাবেশে এক মাছ ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, সিজান ও তার সহযোগীরা একাধিকবার তার কাছ থেকে ছিনতাই ও জোরপূর্বক টাকা আদায় করেছে। এক নারী পোশাকশ্রমিক বলেন, সিজান ও তার সহযোগীদের কারণে সন্ধ্যার পর এলাকায় নারী ও শিশুদের চলাচল নিরাপদ ছিল না।

সমাবেশ থেকে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, নিরীহ মানুষকে হয়রানি বন্ধ এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের দাবি জানানো হয়।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন,‘ নিহত সিজানের ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে। তদন্তের স্বার্থে সব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্তের অগ্রগতি ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, গত শনিবার রাতে পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় গণপিটুনিতে আহত হওয়ার পর হাসপাতালে সিজানের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার মা শিল্পী বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মসজিদের ইমামসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১৪-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার আগে এক যুবকের মোবাইল ফোন ছিনতাই ও বিক্রির বিষয়ে সিজানের একটি কথিত স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনার জের ধরেই ক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দেয় বলে তারা জানান।

১০ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ বান্দরবানের সব পর্যটন কেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
১০ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ বান্দরবানের সব পর্যটন কেন্দ্র
সংগৃহীত ছবি

অব্যাহত ভারী বর্ষণে বান্দরবান পার্বত্য জেলাজুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঝুঁকি সৃষ্টি হওয়ায় জননিরাপত্তার স্বার্থে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।

সোমবার (৬ জুলাই) রাতে এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পর্যটন সেল থেকে জারিকৃত গণবিজ্ঞপ্তির তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার বিভিন্ন সড়কে পাহাড়ধস, মাটি সরে যাওয়া এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে। বিদ্যমান আবহাওয়া পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য দুর্যোগ বিবেচনায় পর্যটক ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী- আগামী ১০ জুলাই (শুক্রবার) পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটন কেন্দ্র, ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটর ও সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও ভ্রমণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সকলকে এ নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আবহাওয়ার পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, টানা বর্ষণে জেলার বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সাময়িকভাবে সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

উল্লেখ্য, বর্ষা মৌসুমে প্রতিবছরই বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস, আকস্মিক ঢল এবং সড়ক যোগাযোগে বিঘ্নের ঘটনা ঘটে। ফলে এসময় পর্যটকদের ভ্রমণে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়ে থাকে প্রশাসন।

জিম্মিদশা থেকে অসুস্থ বাবাকে উদ্ধারের আকুতি মেয়ের

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
জিম্মিদশা থেকে অসুস্থ বাবাকে উদ্ধারের আকুতি মেয়ের
ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের ভালুকায় অসুস্থ বাবাকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে দাবি করে তাকে উদ্ধারের আকুতি জানিয়েছেন একমাত্র মেয়ে নাজমিন আক্তার লিজা। সোমবার (৬ জুলাই) ভালুকা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

নাজমিন আক্তার লিজা উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের ধীতপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. নুরুল ইসলামের মেয়ে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে লিজা বলেন, তার বাবা দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। সে সময় তার চাচা শামছুদ্দিন ও চাচাতো ভাইয়েরা নুরুল ইসলামের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দেখাশোনা করতেন। দেশে ফেরার পর চাচা শামছুদ্দিন, চাচাতো ভাই আপেল এবং আপেলের স্ত্রী কৌশলে তার বাবাকে একাধিক ফিশারি ও মুরগির খামারে এক কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, বিনিয়োগের হিসাব চাইলে তার বাবার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এতে তিনি স্ট্রোক করে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন। পরে অসুস্থতার সুযোগে তার বাবার জমিজমা, পাসপোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিজেদের দখলে নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও বিনিয়োগ থেকে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাতেরও অভিযোগ করেন তিনি।

লিজার দাবি, তিনি বাবার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে অভিযুক্তরা বাধা দেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার থানায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। পরে আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত সার্চ ওয়ারেন্ট জারি করেন। তবে সেই ওয়ারেন্ট থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তার বাবাকে উদ্ধার করেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার অসুস্থ বাবাকে দ্রুত উদ্ধার এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পাশাপাশি এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।