• ই-পেপার

ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ, ১৫ কিলোমিটার যানজট

নাটোরে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর বিষপান

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর বিষপান
ছবি: কালের কণ্ঠ

নাটোরের লালপুর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিষপানের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার চরজাজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থী রাকিব (১১) উপজেলার চরজাজিরা গ্রামের রফিজের ছেলে।

ঘটনার পর তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়কে কেন্দ্র করে রাকিব শ্রেণিকক্ষের ভেতরেই বিষপান করে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অভিভাবকরাও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মরিয়ম সুলতানা বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। দ্রুত তাকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রশাসন ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনার কারণ উদঘাটনে তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

নাটোরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

নাটোর প্রতিনিধি
নাটোরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

নাটোরে পবিত্র কাবা শরিফের অবমাননা করে ফেসবুকে পোস্ট করায় শিমুল কর্মকার নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে গুরুদাসপুর থানা পুলিশ। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে আদালতের পাশে ঘোরাঘুরি করার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শনিবার (৪ জুলাই) রাতে শিমুল কর্মকারের ফেসবুক আইডি থেকে পবিত্র কাবা শরিফের অবয়ব বিকৃত করে কয়েকটি ছবি পোস্ট করা হয়।

বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে রবিবার (৬ জুলাই) বিক্ষোভকারীরা থানার সামনে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।রোববার মৌলানা জামিল আহমেদ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

অভিযুক্ত শিমুল গুরুদাসপুর কর্মকারপাড়া মহল্লার নবীন কর্মকারের ছেলে। বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় থাকেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ঘটনার পর তার গ্রামের বাড়ি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়।

হিন্দু সম্প্রদায়ের স্থানীয় নেতা মাধব চন্দ্র সাহা ও অন্য নেতারা জানান, ইসলাম ধর্মের অনুভূতিতে আঘাত হানায় আমরা প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে এই অপরাধের বিচার চান তারা।

গুরুদাসপুর থানার ওসি মুনজুরুল আলম বলেন, ‘গোপন সূত্রে সংবাদ পেয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দ্রুত আইনের আওতায় আওতায় আনা হয়েছে।’

নাটোর-৪ গুরুদাসপুর বড়াইগ্রামের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ সব ধর্মের বিশেষ ইসলাম ধর্মের মানুষদের শান্ত থাকার আহবান জানিয়ে বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তার  করা হয়েছে। তদন্ত করে সে যদি দোষী হয় অবশ্যই আইনানুগ ব্যস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ ছোট একটি দেশ। হিন্দু মুসলিম, বৈৗদ্ধ, খ্রিষ্টান সকল ধর্মের মানুষ সম্প্রিতির মাধ্যমে সকলে মিলে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। সেই সৌহার্দ আমাদের বজায় রাখতে হবে। কেউ যেন ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করতে না পারে সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

অটোরিকশার চার্জার খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

বরগুনা প্রতিনিধি
অটোরিকশার চার্জার খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

বরগুনায় চার্জে থাকা অটোরিকশার বিদ্যুৎ সংযোগ খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তাদের বড় মেয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা রয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের ডালভাঙা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেন, মো. বেল্লাল (৪৫) ও তার স্ত্রী মোসা. কমলা বেগম (৪০)। তাদের তিন ছেলে-মেয়ে রয়েছে। 

স্থানীয় ও স্বজন সূত্রে জানা যায়, মৃত বেল্লাল বাড়িতে একটি গরুর ফার্ম তৈরির কাজ করছিলেন। কাজের শেষ দিকে হওয়ায় ফার্মের জন্য নতুন টিন ক্রয়ের জন্য তিনি তার অটোরিকশা নিয়ে বাজারে আসার প্রস্তুতি নেন। এসময় বাড়িতে থাকা নিজের অটোরিকশার চার্জের সংযোগ খুলতে গিয়ে তিনি (বেল্লাল) বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাকে উদ্ধার করতে স্ত্রী কমলা ও তার মেয়ে সেখানে গেলে তারাও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। বিষয়টি স্থানীয়রা টের পেয়ে বাড়িতে থাকা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে তাদের উদ্ধার করে বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বেল্লাল ও তার স্ত্রী কমলাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিদ্যুৎস্পৃষ্টে পায়ে জখম হয়ে আহত মেয়ে আরিফাকে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়।

মৃত বেল্লালের প্রতিবেশী মোসা. ফিরোজা বেগম বলেন, সকালে চার্জে থাকা অটোরিকশা আনতে গিয়ে প্রথমে বেল্লাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। তাকে ছাড়াতে গিয়ে স্ত্রী ও মেয়েও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। খবর পেয়ে এলাকাবাসী মিলে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। কিন্তু হাসপাতালে আসার পর ডাক্তার বলেন, বেল্লাল ও তার স্ত্রী কমলার মৃত্যু হয়েছে।

বেল্লালের দুলাভাই মো. কবির বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর শুনে হাসপাতালে এসে দেখি বেল্লাল ও তার স্ত্রী কমলা মারা গেছেন। তাদের বড় মেয়েও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হয়েছে। তবে মেয়েকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, এখন সে সুস্থ আছে।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি মেডিক্যাল অফিসার ডা. অপূর্ব কুমার চৌধুরী বলেন, সোমবার সকালে বেল্লাল ও কমলা নামের দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। 

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী ও স্ত্রীর মৃত্যুর খবর শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
 

চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
ছবি : কালের কণ্ঠ

লাগাতার ভারি বর্ষণ ও পার্বত্য অববাহিকার মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে দুই উপজেলার অন্তত ১৬টি ইউনিয়নের অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকায় বসবাসকারী অন্তত ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে বেশ কিছু গ্রামীণ সড়ক।

এদিকে চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী থেকে মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজের জন্য নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স কম্পানির দেওয়া অপরিকল্পিত মাটির বাঁধের কারণে ফাঁসিয়াখালী ও চিরিঙ্গা ইউনিয়নের অন্তত ৫টি গ্রামের লোকালয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। এখানকার নারী-পুরুষেরা নিজেদের সহায়-সম্পদ রক্ষায় ম্যাক্সের দেওয়া অপরিকল্পিত মাটির বাঁধ অপসারণ করতেও দেখা যায়।

পার্বত্য অববাহিকার মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি বৃদ্ধি পেলেও আজ সোমবার বিকেল পর্যন্ত বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। তবে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় ভয়াবহ বন্যার শঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন দুই উপজেলার মানুষ। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পাহাড়বেষ্টিত গ্রামীণ এলাকায় পাহাড় ধসের আশঙ্কা থাকায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে নিরাপদে সরে যাওয়ার বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে।

দুই উপজেলার সিংহভাগ ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, অতি ভারি বর্ষণের কারণে ইউনিয়নগুলোর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় এবং মাতামুহুরী নদীতে উজানের ঢলের পানি প্রবাহিত হওয়ায় যেকোনো সময় ভয়াবহ বন্যার পদধ্বনি দেখা দিয়েছে।

চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীদ দেলোয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। উজানের পানি যাতে দ্রুত ভাটির দিকে নেমে যেতে পারে সেজন্য উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোর পানি নিষ্কাশনের স্লুইস গেটগুলোর কপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সার্বিক পরিস্থিতি তদারকির জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’