• ই-পেপার

চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

বাগেরহাটে শিশুদের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ভ্যানচালক নিহত

মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বাগেরহাটে শিশুদের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ভ্যানচালক নিহত
প্রতীকী ছবি

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় দুই শিশুর ঝগড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে সোহাগ শেখ (৩০) নামে এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন।

রবিবার (৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের গোলারচক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সোহাগ শেখ ওই গ্রামের নাসির শেখের ছেলে। তিনি পেশায় ভ্যানচালক ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন।

স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবারের অভিযোগ, একই গ্রামের দুই শিশুর মধ্যে দুপুরে ঝগড়ার ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় সোহাগ শেখ আহত হন।

স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রমজানুল হক জানান, ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। সোমবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

নিখোঁজের ১৯ দিন পর স্বামীর বাড়ির উঠান থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার

মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
নিখোঁজের ১৯ দিন পর স্বামীর বাড়ির উঠান থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার
ছবি: কালের কণ্ঠ

মৌলভীবাজারের রাজনগরে নিখোঁজের ১৯ দিন পর এক নারীর মরদেহ স্বামীর বাড়ির উঠান থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী আলমগীর হোসেন (৩৫) ও তার এক সহযোগীকে আটক করা হয়েছে।

নিহত জায়েদা বেগম (৩৮) রাজনগর উপজেলার ৩ নম্বর মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সোনাটিকি গ্রামের আব্দুল হান্নানের মেয়ে। তার স্বামী আলমগীর হোসেন করিমপুর চা বাগান এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, গত ৩ জুলাই মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় জায়েদা বেগমের বাবা আব্দুল হান্নান রাজনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের অংশ হিসেবে গত ৫ জুলাই আলমগীর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি প্রথমে দাবি করেন, তার স্ত্রী গত ১৯ জুন সৌদি আরবে চলে গেছেন। তবে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তাকে থানায় নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে আলমগীর স্বীকার করেন যে, গত ১৭ জুন রাতে তিনি এক সহযোগীর সহায়তায় স্ত্রী জায়েদা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে ১৮ জুন সকালে বাড়ির উঠানে গর্ত করে মরদেহ মাটি চাপা দেন।

সোমবার (৬ জুলাই) সকালে আলমগীরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খায়ের এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল শিকদারের উপস্থিতিতে বাড়ির উঠানে অভিযান চালানো হয়। পরে মাটি খুঁড়ে জায়েদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

রাজনগর থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় স্বামী আলমগীর হোসেন ও তার এক সহযোগীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পর্তুগালে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি তরুণ নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
পর্তুগালে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি তরুণ নিহত
মো. শামসুল ইসলমা কামরান। সংগৃহীত ছবি

পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় ইউরোপের দেশ পর্তুগালে পাড়ি দেওয়া বাংলাদেশি তরুণ মো. শামসুল ইসলাম কামরান (২৫) সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

গত শনিবার (৪ জুলাই) পর্তুগালের স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে দেশটির আলমেদা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরদিন রবিবার (৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত কামরান সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের খাগদিওর গ্রামের মৃত মুতলিব আলীর ছেলে।

পর্তুগালপ্রবাসী সাংবাদিক শাহ মুহাম্মদ তানভীর কালের কণ্ঠকে জানান, শনিবার রাতে আলমেদা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন কামরান। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় জরুরি সেবা কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে আলমেদা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হলেও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি মারা যান।

নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, চলতি বছরের শুরুতে দেশে এসে বিয়ে করেছিলেন কামরান। বিয়ের মাত্র তিন মাস পর জীবিকার প্রয়োজনে তিনি আবার পর্তুগালে ফিরে যান। কিন্তু বিদেশে কর্মজীবন শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

তার মৃত্যুর খবরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনরা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

কিশোরগঞ্জ

বাস-গরুবাহী পিকআপের সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন ৩ জন

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
বাস-গরুবাহী পিকআপের সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন ৩ জন
ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পাকুন্দিয়ায় গরুবাহী পিকআপ ভ্যান ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুজন। এ দুর্ঘটনায় পিকআপে থাকা ছয়টি গরুও মারা গেছে। সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে পাকুন্দিয়া উপজেলার সুখিয়া বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার সদর গ্রামের মঞ্জু মিয়ার ছেলে পিকআপ চালক খোকন মিয়া (৩৯), একই উপজেলার কুনদাইল গ্রামের আবু সাঈদের ছেলে বিল্লাল (৩৫) এবং একই গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে খুর্শিদ উদ্দিন (৬০)। আহতরা হলেন— বাসচালক শিবপুর ইটাখলা এলাকার মান্নান সরকার (৫০) ও চালকের সহযোগী একই এলাকার আমান (৩৫)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার বিকেল সোয়া তিনটার দিকে কিশোরগঞ্জ থেকে একটি গরু বোঝাই পিকআপ নরসিংদীর দিকে যাচ্ছিল। অপরদিকে যাত্রীবাহী অনন্যা ক্লাসিকের একটি বাস ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ যাচ্ছিল। পথিমধ্যে উপজেলার সুখিয়া বাজার এলাকায় পৌছালে পিকআপ ও বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই পিকআপের চালকসহ তিনজন নিহত হন। এসময় পিকআপে থাকা সাতটি গরুর মধ্যে ৬টি গরু মারা যায়। এছাড়া অনন্যা ক্লাসিকের চালকসহ সহযোগী গুরুত্বর আহত হন। এতে বাস ও পিকআপ দুটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া ফায়ার সার্ভিস স্ট্যাশনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে পাঠায়।

পাকুন্দিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র ফায়ার ফাইটার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটস্থলে উপস্থিত হয়ে গরু বোঝাই পিকআপ থেকে চালকসহ নিহত তিনজনের দেহ উদ্ধার করা হয়। বাসের চালকসহ আহত দুইজনকে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।