পাবনার ফরিদপুর উপজেলার পুঙ্গলি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুজিত কুমার মুন্সির বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়ম এবং নাগরিক সেবা ব্যাহত করার অভিযোগ উঠেছে। এতে ইউনিয়নবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীরা তাকে প্রত্যাহার করে প্রশাসনের দক্ষ কোনো কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জন্মনিবন্ধন, মৃত্যুনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা পেতে দিনের পর দিন ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরতে হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক অধিকাংশ সময় কার্যালয়ে অনুপস্থিত থাকায় প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
সোমবার (৬ জুলাই) সরেজমিনে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না।
বিলচান্দক এলাকার বাসিন্দা শাহানাজ পারভীন অভিযোগ করেন, ওয়ারিশ সনদ নিতে এসে দীর্ঘ হয়রানির শিকার হয়েছেন। পরে ২০০ টাকা দেওয়ার পর তার কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আগের প্রশাসকের সময় ছোটখাটো কাজের জন্য কোনো অতিরিক্ত অর্থ দিতে হতো না। এখন জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন সেবা নিতে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে।’
পাছ পুঙ্গলি এলাকার বাদশা সরদার বলেন, ‘একটি স্বাক্ষরের জন্য সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কাজ করতে পারেননি।’
আরেক ভুক্তভোগী জাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রশাসকের একটি স্বাক্ষর নিতে এক সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। তিনি নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদে আসেন না।’
সরেজমিনে আরো দেখা যায়, প্রশাসকের মূল স্বাক্ষর ছাড়াই জন্মনিবন্ধন সনদ, ওয়ারিশ সনদ, চারিত্রিক সনদ ও ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন কাগজপত্রে স্ক্যান করা স্বাক্ষর ব্যবহার করে প্রিন্ট দেওয়া হচ্ছে। পরে দায়িত্বরত গ্রাম পুলিশ ওই স্বাক্ষরের নিচে তারিখ লিখে সেবাগ্রহীতাদের কাছে হস্তান্তর করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন কর্মচারী জানান, প্রশাসক নিয়মিত কার্যালয়ে না আসায় জনভোগান্তি কমাতে বাধ্য হয়ে স্ক্যান করা স্বাক্ষর ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমান প্রশাসকের দায়িত্ব পালনে উদাসীনতার কারণে ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম এবং নিম্নমানের কাজের অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ইউনিয়ন পরিষদের পাশের আট পুঙ্গলি পাকা রাস্তা থেকে কবরস্থান পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার সড়কের ‘কাবিটা-কাবিখা’ প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। প্রকল্পের নীতিমালা অনুসরণ না করে দুর্বল পাইলিং ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া বাইরে থেকে মাটি আনার পরিবর্তে স্থানীয়দের জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। জলঢালাই সড়কের কাজেও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন তারা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও পুঙ্গলি ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক সুজিত কুমার মুন্সি বলেন, অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কেউ কোথায় অভিযোগ দিয়েছে, তা আমি জানি না।’




