সর্বোচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপে অবশেষে ক্ষতিপূরণের ৩০ লাখ টাকা পেলো কিশোরগঞ্জের ভৈরবের একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়ে ডান হাত হারানো শিশু নাঈম হাসান নাহিদ। গত বছর ৮ মে থেকে এখন পর্যন্ত মোট চারটি পে অর্ডারের (ব্যাংকের গ্যারান্টিযুক্ত পরিশোধনামা) মাধ্যমে এই টাকা পরিশোধ করেন ওয়ার্কশপ মালিক ইয়াকুব হোসেন।
এসব পে অর্ডার আজ সোমবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চে উপস্থাপন করেন শিশুটিকে আইনি সহায়তা দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওমর ফারুক। পরে আদালত ইয়াকুব হোসেনের আদেশ প্রতিপালনের আবেদন মঞ্জুর করেন।
ওমর ফারুক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নাঈমকে ক্ষতিপূরণের টাকা দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর আইনি লড়াই করতে হয়েছে। আপিল বিভাগের রায় দেওয়ার পরও ওয়ার্কশপপের মালিক রায় না মেনে পালিয়ে বেড়িয়েছেন। আদালত অবমাননার আবেদন করার পর কয়েক ধাপে টাকা পরিশোধ করেছেন।’
‘ভৈরবে শিশুশ্রমের করুণ পরিণতি’ শিরোনামে ২০২০ সালের ১ নভেম্বর প্রতিবেদন ছাপায় একটি একটি জাতীয় দৈনিক। প্রতিবেদনের বলা হয়, ওয়ার্কশপে কাজে নেওয়ার সময় নাহিদের বয়স ছিল ১০ বছর। তখন সে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়তো। তার বাবা আনোয়ার হোসেন জুতার ব্যবসা করতেন। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হলে আনোয়ার কর্মহীন হয়ে পড়েন। এ সময় সংসারের চাপ সামলাতে নাঈমকে তার মা-বাবা কিশোরগঞ্জের ভৈরবের নূর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে কাজে দেন। এই ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়ে একদিন তার ডান হাত মেশিনে ঢুকে যায়। শেষে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কনুই থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয় হাতটি।
প্রকাশিত এই প্রতিবেদন যুক্ত করে ২০২০ সালে হাইকোর্টে রিট করেন নাঈমের বাবা আনোয়ার। রিটে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়। প্রাথমিক শুনানির পর ওই বছর ২৭ ডিসেম্বর আদালত শিশুটির ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে রুল জারি করেন। ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি এই রুল নিষ্পত্তি করে রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে ওয়ার্কশপের মালিক ইয়াকুব হোসেনকে এক বছরের মধ্যে ১০ বছর মেয়াদি দুটি এফডিআর-এর মাধ্যমে ৩০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এচএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত শিক্ষাখরচ বাবাদ প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা একটি ব্যাংক হিসাবে জমা দিতেও নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন (লিভটু আপিল) করলে তা খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। ফলে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে। কিন্তু আদালতের আদেশ প্রতিপালন না করে ইয়াকুব হোসেন পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। এ অবস্থায় ইয়াকুব হোসেনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেন নাঈমের বাবা আনোয়ার হোসেন। গত বছর ১০ ফেব্রুয়ারি এই আবেদনে শুনানি নিয়ে ইয়কুবকে তলব করেন আপিল বিভাগ। সেই তলবে ২১ এপ্রিল হাজির হয়ে ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর চারটি পে অর্ডারের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের ৩০ লাখ টাকা পরিশোধ করলেন ইয়াকুব।







