• ই-পেপার

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটাই বাতিল হওয়া উচিত, আপিল শুনানি মঙ্গলবার

অবশেষে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেলো ওয়ার্কশপে হাত হারানো শিশু নাঈম

নিজস্ব প্রতিবেদক
অবশেষে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেলো ওয়ার্কশপে হাত হারানো শিশু নাঈম
কিশোরগঞ্জের ভৈরবের একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়ে ডান হাত হারানো শিশু নাঈম হাসান নাহিদ।

সর্বোচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপে অবশেষে ক্ষতিপূরণের ৩০ লাখ টাকা পেলো কিশোরগঞ্জের ভৈরবের একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়ে ডান হাত হারানো শিশু নাঈম হাসান নাহিদ। গত বছর ৮ মে থেকে এখন পর্যন্ত মোট চারটি পে অর্ডারের (ব্যাংকের গ্যারান্টিযুক্ত পরিশোধনামা) মাধ্যমে এই টাকা পরিশোধ করেন ওয়ার্কশপ মালিক ইয়াকুব হোসেন।  

এসব পে অর্ডার আজ সোমবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চে উপস্থাপন করেন শিশুটিকে আইনি সহায়তা দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওমর ফারুক। পরে আদালত ইয়াকুব হোসেনের আদেশ প্রতিপালনের আবেদন মঞ্জুর করেন।

ওমর ফারুক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নাঈমকে ক্ষতিপূরণের টাকা দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর আইনি লড়াই করতে হয়েছে। আপিল বিভাগের রায় দেওয়ার পরও ওয়ার্কশপপের মালিক রায় না মেনে পালিয়ে বেড়িয়েছেন। আদালত অবমাননার আবেদন করার পর কয়েক ধাপে টাকা পরিশোধ করেছেন।’

‘ভৈরবে শিশুশ্রমের করুণ পরিণতি’ শিরোনামে ২০২০ সালের ১ নভেম্বর প্রতিবেদন ছাপায় একটি একটি জাতীয় দৈনিক। প্রতিবেদনের বলা হয়, ওয়ার্কশপে কাজে নেওয়ার সময় নাহিদের বয়স ছিল ১০ বছর। তখন সে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়তো। তার বাবা আনোয়ার হোসেন জুতার ব্যবসা করতেন। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হলে আনোয়ার কর্মহীন হয়ে পড়েন। এ সময় সংসারের চাপ সামলাতে নাঈমকে তার মা-বাবা কিশোরগঞ্জের ভৈরবের নূর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে কাজে দেন। এই ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়ে একদিন তার ডান হাত মেশিনে ঢুকে যায়। শেষে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কনুই থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয় হাতটি।

প্রকাশিত এই প্রতিবেদন যুক্ত করে ২০২০ সালে হাইকোর্টে রিট করেন নাঈমের বাবা আনোয়ার। রিটে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়। প্রাথমিক শুনানির পর ওই বছর ২৭ ডিসেম্বর আদালত শিশুটির ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে রুল জারি করেন। ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি এই রুল নিষ্পত্তি করে রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে ওয়ার্কশপের মালিক ইয়াকুব হোসেনকে এক বছরের মধ্যে ১০ বছর মেয়াদি দুটি এফডিআর-এর মাধ্যমে ৩০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এচএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত শিক্ষাখরচ বাবাদ প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা একটি ব্যাংক হিসাবে জমা দিতেও নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন (লিভটু আপিল) করলে তা খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। ফলে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে। কিন্তু আদালতের আদেশ প্রতিপালন না করে ইয়াকুব হোসেন পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। এ অবস্থায় ইয়াকুব হোসেনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেন নাঈমের বাবা আনোয়ার হোসেন। গত বছর ১০ ফেব্রুয়ারি এই আবেদনে শুনানি নিয়ে ইয়কুবকে তলব করেন আপিল বিভাগ। সেই তলবে ২১ এপ্রিল হাজির হয়ে ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর চারটি পে অর্ডারের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের ৩০ লাখ টাকা পরিশোধ করলেন ইয়াকুব।

সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ : সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিচার শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ : সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিচার শুরু

রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় ২৭ কাঠা সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুস সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

সোমবার (৬ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক মো. আব্দুস সালামের আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে চার্জগঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১৯ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন। 

আসামি পক্ষের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

এদিন সকালে কারাগারে থাকা সালাম মুর্শেদীসহ অন্য আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা অন্য আসামিরা আদালতে হাজিরা দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন এহসানুল হক সমাজী, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বোরহান উদ্দীন, শাহীনুর ইসলাম খাদেমুল ইসলাম। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে চার্জগঠনের আদেশ দেন। 

মামলার অন্য আসামিরা হলেন—রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন খাদেম, প্রকৌশলী এম আজিজুল হক, সাবেক সদস্য (এস্টেট) লে. কর্নেল (অব.) এম নুরুল হক, সাবেক পরিচালক আবদুর রহমান ভূঁঞা, সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট) মো. আজহারুল ইসলাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিব উল্লাহ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সহকারী সচিব আবদুস সোবহান, সাবেক শাখা সহকারী মো. মাহবুবুল হক এবং কক্সবাজারের রামুর বাসিন্দা মীর মোহাম্মদ হাসান ও তার ভাই মীর মো. নুরুল আফছার।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি কর্মচারী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং অসৎ উদ্দেশ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত গেজেটে ‘খ’ তালিকাভুক্ত গুলশান আবাসিক এলাকার সিইএন (ডি) ২৭ নং, হোল্ডিং নং-২৯, রোড নং-১০৪ প্লটটি পরিত্যক্ত ২৭ কাঠা সম্পত্তির তালিকাভুক্ত থাকা সত্ত্বেও অবমুক্তকরণ ছাড়াই জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে মিথ্যা রেকর্ড তৈরি করেন। পরে হস্তান্তর অনুমতি ও নামজারি অনুমোদন করার মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করায় তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর সালাম মুর্শেদীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নোয়াখালীতে শিশু আসমাকে ধর্ষণ-হত্যায় জেঠাতো ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড

নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীতে শিশু আসমাকে ধর্ষণ-হত্যায় জেঠাতো ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালীর চাটখিলে শিশু আসমা আক্তারকে (৫) ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় একমাত্র আসামি শাহাদাত হোসেনকে (২৬) মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

আজ সোমবার (৬ জুলাই) সকালে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আকতার এ রায় ঘোষণা করেন। নারীও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি সেলিম শাহী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদেশে আরো বলা হয়েছে, মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখতে। রায় ঘোষনার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘ চার বছরের বিচারিক কার্যক্রম শেষে অবশেষে সর্বোচ্চ শাস্তির রায় পেলো ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার।

আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, নিহত আসমা আক্তার চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের মৃধা বাড়ির বাসিন্দা মাওলানা মো. শাহজাহানের মেয়ে। সাজাপ্রাপ্ত একমাত্র আসামি শাহাদাত হোসেন একই গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে এবং সম্পর্কে আসমার জেঠাতো ভাই।

২০২২ সালের ২৪ মার্চ দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয় পাঁচ বছরের শিশু আসমা। নিখোঁজের দীর্ঘ ৯ দিন পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে আসমার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরই শাহাদাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার তদন্ত চলাকালে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে গা শিউরে ওঠা বর্ণনা দেন আসামি শাহাদাত। তিনি স্বীকার করেন, ঘটনার দিন দুপুরে তিনি শিশু আসমাকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পর বিষয়টি সবার কাছে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি অবুঝ শিশুটিকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরবর্তীতে আলামত গোপন করতে মরদেহটি বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন। এরপর ৬ এপ্রিল নিহত শিশুর বাবা মাওলানা শাহজাহান বাদী হয়ে চাটখিল সদর থানায় শাহাদাতকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

সেসময় এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি জানাজানি হলে নোয়াখালীজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। আসমা হত্যার দ্রুত বিচার ও আসামির ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোগে টানা মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বঙ্গবাজারে অগ্নিসংযোগের মামলায় সাবেক এমপি আফজাল গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
বঙ্গবাজারে অগ্নিসংযোগের মামলায় সাবেক এমপি আফজাল গ্রেপ্তার
ছবি : কালের কণ্ঠ

বহুল আলোচিত রাজধানীর বঙ্গবাজার মার্কেটে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়ের করা মামলায় কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাইনুল ইসলাম খান পুলক আসামিকে আদালতে হাজির করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল রাজধানীর বঙ্গবাজার মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় মো. কামাল হোসেন রিপন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আফজাল হোসেনসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ২০-৩০ জনকে আসামি করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে এ মামলার আসামি আফজাল হোসেনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।