• ই-পেপার

ফরিদপুরে ইউপি প্রশাসকের দায়িত্ব অবহেলায় জনভোগান্তি

  • জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ দাবি এলাকাবাসীর

আবাস হারিয়ে লোকালয়ে কুমির, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি:
আবাস হারিয়ে লোকালয়ে কুমির, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ
ছবি: কালের কণ্ঠ

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের চেঙ্গাকান্দি পাড়া মসজিদঘাট এলাকায় মেঘনা নদী থেকে একটি কুমির লোকালয়ে চলে আসায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত সাত দিনে অন্তত চারবার কুমিরটিকে নদীর তীর ও জনবসতির কাছাকাছি দেখা গেছে।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার মাছ ধরার সময় প্রথম কুমিরটিকে দেখতে পান জেলেরা। এরপর শুক্রবার এবং সর্বশেষ সোমবার বিকেলে একই এলাকায় কুমিরটিকে রোদ পোহাতে দেখা যায়। সোমবার এটি লোকালয়ের আরও কাছে চলে এলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, "ঘাটের পাশে বাঁশঝাড়ের নিচে কুমিরটিকে শুয়ে থাকতে দেখেছি। আকার অনেক বড় হওয়ায় কেউ কাছে যাওয়ার সাহস পাইনি।"

এ ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্থানীয়রা নদীতে নামা, সাঁতার কাটা ও মাছ ধরা থেকে বিরত থাকছেন। অনেকেই নদীর তীরে পাহারা দিচ্ছেন, যাতে কেউ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যায়।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জেসমীন আক্তার বলেন, নদীতে পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়া, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন, পরিবেশ দূষণ এবং আবাসস্থলের পরিবর্তনের কারণে কুমিরটি খাবারের সন্ধানে বা দিকভ্রান্ত হয়ে লোকালয়ের কাছাকাছি চলে এসে থাকতে পারে।

আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুর রহমান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ইউনিটকে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দল না আসা পর্যন্ত সবাইকে নদীর তীর থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, মেঘনা নদীর পরিবেশ রক্ষা, অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত কুমিরটি উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ফেনীতে ফের বন্যার আশঙ্কা, আতঙ্কে এলাকাবাসী

ফেনী প্রতিনিধি
ফেনীতে ফের বন্যার আশঙ্কা, আতঙ্কে এলাকাবাসী
২০২৪ সালের আগস্টে ফেনীতে ভয়াবহ বন্যার চিত্র।

গত ২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বন্যার ভয়াবহ স্মৃতি এখনও তাড়া করে ফিরছে ফেনীর মানুষকে। দুর্যোগের সেই ক্ষত পুরোপুরি শুকাতেই চলতি বছর ফের বন্যা আতঙ্কে দিন কাটছে জেলাবাসীর। টানা ভারী বর্ষণ আর ভারতের ত্রিপুরা থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কায় মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর তীরবর্তী মানুষের মনে নতুন করে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আকাশে মেঘের ঘনঘটা আর মুহুরী নদীর ফুঁসে ওঠা পানি দেখে ফেনীর লাখো মানুষের এখন একটাই প্রার্থনা—২০২৪ সালের সেই দুঃস্বপ্নের পুনরাবৃত্তি যেন আর না ঘটে। ভারি বৃষ্টি হলেই  সারাক্ষণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে। সেই ভয়াবহ বন্যার চিত্র মানুষ কখনোই ভূলতে পারবে না।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে গত রোববার দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী ৫ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে দেশের পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাবে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলাসমূহের নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এই সতর্ক সংকেত পাওয়ার পর আবারও বন্যা আতঙ্কে রয়েছে ফেনীবাসী।

এর আগে, ২০২৪ সালের আগস্টে ফেনীর ইতিহাসে ভয়াবহ বন্যায় জেলার ৬টি উপজেলায় প্রায় ১৮ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল। প্রাণ হারিয়েছিলেন অন্তত ২৯ জন। বিদ্যুৎহীন, নেটওয়ার্কহীন অবস্থায় লাখ লাখ মানুষ যেভাবে জীবনযুদ্ধ চালিয়েছিল, সেই ট্রমা এখনও স্থানীয়দের মন থেকে মুছে যায়নি। বিশেষ করে ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়ার মানুষ নদীর সামান্য পানি বাড়লেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন।

পরশুরামের সাতকুচিয়া এলাকার বাসিন্দা আবদুর রহিম জানান, গতবারের বন্যায় ঘরবাড়ি সব শেষ হয়ে গিয়েছিল। ধারদেনা করে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু কোনোমতে ঠিক করেছি। দুই দিন ধরে যেভাবে মেঘ ডাকছে আর বৃষ্টি হচ্ছে, বুকটা কাঁপছে। আবার যদি পানি ঢোকে, তবে আমাদের আর বেঁচে থাকার উপায় থাকবে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বন্যায় মুহুরী ও সিলোনিয়া নদীর রক্ষা বাঁধের যেসব জায়গায় ভাঙন ধরেছিল, তার অনেকগুলোই এখনও স্থায়ী ও টেকসইভাবে সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। সাময়িকভাবে জোড়াতালি দেওয়া বাঁধগুলো এবারের পাহাড়ি ঢলের চাপ কতটা সইতে পারবে, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় রয়েছে। বাঁধ ভেঙে আবারও লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ার আশঙ্কায় নদীপাড়ের মানুষ এখন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।

বিগত বন্যায় ঘর হারানো ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার বাসিন্দা সাংবাদিক নাসির উদ্দিন কালেরকন্ঠকে  জানান, আমি বিগত বন্যায় সর্বস্ব হারিয়েছি। এখন যদি আবার বন্যা হয়, তবে একদম নিঃশেষ হয়ে যাব।

এদিকে নতুন করে বন্যার আশঙ্কার মুখে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা, শুকনা খাবার মজুত করা এবং জরুরি উদ্ধারকাজের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও পানি বৃদ্ধির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় ফেনীতে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৬১ মিলিমিটার। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে বৃষ্টিপাত আরও বাড়বে। এ ক্ষেত্রে যদি অতিবৃষ্টিপাত বা পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করে, সে ক্ষেত্রে হয়তো নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত তেমন পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে না।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানান, ফেনীসহ ৫ জেলায় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের একটি পূর্বাভাস রয়েছে। জেলায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে। যদি অতিবৃষ্টি বা পাহাড়ি ঢল নামে তবে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে আমরা সতর্ক রয়েছি। যেকোনো পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

মির্জাগঞ্জে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
মির্জাগঞ্জে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন
ছবি : কালের কণ্ঠ

‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) যৌথভাবে দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা, ফলজ গাছের চারা বিতরণ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করে।

সকালে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি সুবিদখালী শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বিআরডিবি মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিআরডিবি মির্জাগঞ্জ ইউসিসিএ লিমিটেডের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান সুজনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শেখ মোহাম্মদ রাসেল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস মিয়া এবং উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

এ সময় উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন হাওলাদার, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন নান্নুসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সমবায়ী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে বিআরডিবির উদ্যোগে সমবায়ীদের মধ্যে ১৫০টি বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি উপজেলা পল্লী উন্নয়ন ভবনের সামনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করা হয়।

অভয়নগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ গেল রাজমিস্ত্রির

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি
অভয়নগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ গেল রাজমিস্ত্রির
সংগৃহীত ছবি

যশোরের অভয়নগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জুয়েল মোল্যা (৩৫) নামের একজন রাজমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামে নওয়াপাড়া সরকারি মহাবিদ্যালয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জুয়েল মোল্যা উপজেলার সিরাজকাটি গ্রামের বদিয়ার মোল্যার ছেলে। পেশায় তিনি রাজমিস্ত্রি ছিলেন।

নিহতের সহকর্মী জয়নাল হোসেন জানান, নওয়াপাড়া সরকারি মহাবিদ্যালয়ের প্রধান গেটের নির্মাণ কাজ চলাকালে রাজমিস্ত্রি জুয়েল মোল্যা পল্লী বিদ্যুতের হাইভোল্টেজ তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ সময় গেটের উপর থেকে তিনি ছিটকে নিচে মাটিতে পড়ে যান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক মরিয়াম মুনমুন বলেন, ‘বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আহত এক ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে।’

এ বিষয়ে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জুয়েল মোল্যা নামের একজন রাজমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’