• ই-পেপার

মঙ্গলবার টানা ১৬ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়

জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য : চিফ হুইপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য : চিফ হুইপ
ছবি : কালের কণ্ঠ

জনগণের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, প্রতিশোধপরায়ণ বা প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

সোমবার (৬ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ইউএনডিপি আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তৃতা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নরওয়ে, ডেনমার্ক ও সুইডেনের কূটনৈতিক প্রতিনিধিসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সভায় চিফ হুইপ বলেন, আইন প্রয়োগ ও শাস্তির বিধান কার্যকর রেখে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। কেউ অপরাধ করলে অপরাধের ধরন ও গুরুত্ব অনুযায়ী তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। শাস্তির বিধানের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশে প্রকৃত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও দীর্ঘদিন অন্যায়-অবিচারের শিকার হয়েছেন। কিন্তু তিনি প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। বরং দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন।

আইন সংস্কারের বিষয়ে মো. নূরুল ইসলাম বলেন, অতীতে বহু মানুষ স্বজন হারিয়েও ন্যায়বিচার পাননি। বাবা, ভাই কিংবা বোনের হত্যার বিচার পেতে অনেককে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দিতে কাজ করছে। সে ক্ষেত্রে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতা ও গঠনমূলক মতামতকে সরকার স্বাগত জানায়। প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালার সংস্কারের মাধ্যমে নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা এবং জীবনমান উন্নয়নই সরকারের লক্ষ্য।

বরিশালে রিহ্যাব সদস্যের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় নিন্দা, দোষীদের শাস্তি দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
বরিশালে রিহ্যাব সদস্যের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় নিন্দা, দোষীদের শাস্তি দাবি

বরিশালে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) এক সদস্যের ওপর শারীরিক নির্যাতন, সংবেদনশীল অঙ্গে আঘাত, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর আদায়ের অভিযোগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রিহ্যাব। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

আজ রবিবার (৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর রিহ্যাব প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি ড. আলী আফজাল লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক, ভাইস প্রেসিডেন্ট এ এফ এম ওবায়দুল্লাহ, পরিচালক প্রকৌশলী মো. মোস্তফা কামাল, পরিচালক হাবিবুর রহমান হাবিব, পরিচালক শেখ কামাল, পরিচালক মো. এমদাদুল হোসেন সোহেলসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে ড. আলী আফজাল বলেন, সম্প্রতি বরিশালে রিহ্যাব সদস্য, বাকলা ডেভেলপার্স প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল আজিজ হাওলাদারের ওপর সংঘটিত হামলা শুধু একজন উদ্যোক্তার ওপর আঘাত নয়, বরং দেশের নিরাপদ ও ভয়ভীতিমুক্ত ব্যবসায়িক পরিবেশের ওপরও গুরুতর আঘাত।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নেওয়া পদক্ষেপ রিহ্যাব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। ভিডিওতে প্রকাশিত দৃশ্যগুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

রিহ্যাব সভাপতি বলেন, ঘটনার পর মামলা দায়েরের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে, যা ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে একই সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জামিনের চেষ্টা এবং ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। এসব অভিযোগ সত্য হলে তা বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা কোনো ধরনের ভয় বা চাপ ছাড়াই আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন।

ড. আলী আফজাল বলেন, দেশের আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রায় ৫০ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছেন। প্রকৌশলী, স্থপতি, নির্মাণশ্রমিক, ঠিকাদার, সরবরাহকারী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ অসংখ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এই খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে আবাসন খাতের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জাতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি, জোরজবরদস্তি কিংবা সহিংসতার মাধ্যমে দাবি আদায়ের সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ব্যবসায়িক বা আর্থিক বিরোধ থাকলে তা দেশের প্রচলিত আইন ও বিচারব্যবস্থার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করতে হবে। একইভাবে কোনো ডেভেলপার আইন লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই।

রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে রিহ্যাব সভাপতি বলেন, কোনো ব্যক্তি কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কি না, সেটি রিহ্যাবের বিবেচ্য বিষয় নয়। রিহ্যাব ব্যক্তি নয়, অপরাধকে দেখে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সবার জন্য সমানভাবে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, উদ্যোক্তাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হলে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্যও নেতিবাচক বার্তা বহন করবে। তাই নিরাপদ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাব চার দফা দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলো হলো—ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা; অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ; ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে আবাসন খাতের উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রিহ্যাব সবসময় আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ভবিষ্যতেও দেশের আবাসন খাতের স্বার্থ রক্ষায় সংগঠনটি প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করবে।

রিহ্যাব আশা প্রকাশ করে, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো উদ্যোক্তাকে এ ধরনের ঘটনার শিকার হতে না হয় এবং দেশের বিনিয়োগবান্ধব ও নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশ আরো শক্তিশালী হয়।

প্রথম ধাপে ইউপি ও পৌরসভা

অক্টোবরেই শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন

বাসস
অক্টোবরেই শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন
সংগৃহীত ছবি

ঢাকা আগামী অক্টোবর মাস থেকে পর্যায়ক্রমে দেশের স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে সব ধরনের স্থানীয় নির্বাচন শেষ করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় শেষ হলে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে প্রথম ধাপের ভোটের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সম্ভব। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য জানান।

রহমানেল মাছউদ বলেন, বর্তমানে স্থানীয় সরকারের প্রায় সব স্তরের নির্বাচন বাকি রয়েছে। সংবিধান ও আইনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এসব নির্বাচন পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করতে হবে। কমিশন ইতোমধ্যে অক্টোবরকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে।

তিনি বলেন, কোন স্তরের নির্বাচন আগে হবে, সে বিষয়ে কমিশনের আনুষ্ঠানিক কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বাস্তবতা ও প্রশাসনিক প্রয়োজন বিবেচনায় প্রথমে ইউপি এবং পৌরসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। উপজেলা পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের গুরুত্ব রয়েছে। তাই এ দুটি নির্বাচন আগে সম্পন্ন করে পরবর্তী সময়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান।

নির্বাচন কমিশনার মাছউদ বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারণে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে পাবলিক পরীক্ষা, ধর্মীয় উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠান, বর্ষা মৌসুম এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক ও যোগাযোগ পরিস্থিতি। এসব বিষয় পর্যালোচনা করেই কমিশন চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণা করবে।

সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখনো এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি এবং সরকারের পক্ষ থেকেও কমিশনের কাছে কোনো চিঠিও আসেনি। তবে কমিশন নিজস্ব উদ্যোগে সব ধরনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হলে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।’ 

সবধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করতে কত সময় লাগতে পারে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।

এই নির্বাচন কমিশনার জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষ্যে আইন, বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আচরণবিধির খসড়া ইতোমধ্যে কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মতামত আহ্বান করা হয়েছে। প্রাপ্ত মতামত যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সংযোজন ও বিয়োজন করা হবে।

তিনি আরো বলেন, সংশোধিত বিধিমালায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হবে। অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে না। পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থাও থাকছে না। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের মতো পোস্টার ব্যবহারও থাকবে না।

বর্তমানে কতটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, প্রায় সাড়ে ৪ হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং আনসার সদস্যদের দায়িত্বে নির্বাচন পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন অঞ্চলভিত্তিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি ধাপের অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে পরবর্তী ধাপের নিরাপত্তা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রহমানেল মাছউদ বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং গণমাধ্যম নির্বাচনটিকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেই মান বজায় রাখতে কমিশন সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে এবং এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম ও ভোটারদের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।

তিনি আরো বলেন, অতীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলোতে তুলনামূলক বেশি সংঘাত ও সহিংসতা দেখা গেছে। কারণ এসব নির্বাচন প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়। কমিশন এবার সহিংসতা কমিয়ে এনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেবে। 

এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি সংসদে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কমিশন প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলেও তিনি জানান।

সংসদে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজনে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংসদে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজনে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের উদ্বেগ

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট।

সোমবার (৬ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জোটের নেতারা বলেন, জাতীয় সংসদ ভবন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। সেখানে বিদেশি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতীয় অনুভূতির প্রতি অসম্মানজনক।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৪ জুলাই সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এতে সংসদের ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ বক্তব্য দেন। নেতারা এ ঘটনাকে সমালোচনাযোগ্য বলে উল্লেখ করেন।

তারা আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা বাংলাদেশের জনগণের স্মৃতিতে এখনো নেতিবাচকভাবে বিবেচিত হয়। সেই প্রেক্ষাপটে সংসদ ভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় এ ধরনের আয়োজন প্রশ্নবিদ্ধ।

জোটের নেতারা অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশে সামরিক ও অর্থনৈতিক নীতির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করছে। একই সঙ্গে তারা ফিলিস্তিন, ইরান, কিউবা ও ভেনিজুয়েলার পরিস্থিতি তুলে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করেন।

তারা দাবি করেন, বাণিজ্যচুক্তি ও বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশকে ভূরাজনৈতিক কৌশলের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। সরকারের অনুমতিতে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ আয়োজন হওয়াকে তারা সমালোচনাযোগ্য বলে মন্তব্য করেন এবং এ বিষয়ে দেশবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশ জাসদসহ বিভিন্ন বামপন্থি ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের নেতারা।