চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থী, নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের চারজন আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে পটিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি ফৌজদারি অভিযোগ করেছেন আহত গৃহবধূ হালিমা বেগম।
সোমবার (৬ জুলাই) এর অভিযোগে হালিমা বেগম পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের পূর্ব মনসা এলাকার বাসিন্দা। আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলায় অভিযুক্তরা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা। তাদের সঙ্গে বাদীপক্ষের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল।
অভিযোগে বলা হয়, হালিমা বেগমের স্বামী মো. নজরুল ইসলামের মালিকানাধীন তিন শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিষয়টি বর্তমানে দেওয়ানি আদালতে বিচারাধীন। এর মধ্যেই গত ৪ জুলাই দুপুরে চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থী রেশমি আক্তার পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে দেখতে পান, অভিযুক্তরা তাদের দখলীয় জমিতে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করছেন এবং চলাচলের পথে নির্মাণসামগ্রী ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন।
এ সময় রেশমি আক্তার প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি মাথায় গুরুতর আহত হন। তার চিৎকার শুনে মা হালিমা বেগম, বাবা নজরুল ইসলাম ও বোন আখি আক্তার এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়।
বাদীর অভিযোগ, হামলার সময় তার গলায় থাকা প্রায় ১২ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া তাকে এবং তার দুই মেয়েকে শ্লীলতাহানির পাশাপাশি মামলা করলে প্রাণনাশ, বাড়িতে আগুন দেওয়া, এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা দিতে না দেওয়া এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকিও দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নজরুল ইসলাম, রেশমি আক্তার ও আখি আক্তার চিকিৎসা নেন।
বাদী হালিমা বেগম বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে আমাদের জমি দখলের চেষ্টা চলছে। হামলার পর আমরা চরম আতঙ্কে আছি। আমরা আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চাই।"
আহত নজরুল ইসলাম বলেন, "আগেও জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। এবার অস্ত্র নিয়ে হামলা করা হয়েছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।"
এইচএসসি পরীক্ষার্থী রেশমি আক্তার বলেন, "পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় হামলার শিকার হই। এখনো শারীরিকভাবে অসুস্থ। সামনে বাকি পরীক্ষাগুলো নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।"
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, বিষয়টি আদালতে অভিযোগ হিসেবে দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।





