• ই-পেপার

গৌরীপুরে ১০ দিনে ৩ খুন, জনমনে আতঙ্ক

সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্তের যাবজ্জীবন

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্তের যাবজ্জীবন
সংগৃহীত ছবি

সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় হাবিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন মানিকগঞ্জের শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত হাবিবুর রহমান ঢাকার ধামরাই উপজেলার নান্দেশ্বরী গ্রামের সোরহান হোসেনের ছেলে।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার সপ্তম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে সাটুরিয়া থানায় মামলা করেন।

মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দেন।

আদালত সূত্র আরো জানায়, মামলার বাদী ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা সম্প্রতি মারা যাওয়ায় তিনি এ রায় দেখে যেতে পারেননি।

তেঁতুলঝোড়া ইউপিতে দালালের ভূমিকায় স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
তেঁতুলঝোড়া ইউপিতে দালালের ভূমিকায় স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা
সংগৃহীত ছবি

ঢাকার সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ এবং ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন সেবা নিতে এসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সেবাপ্রার্থীরা। অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রমে বহিরাগত হিসেবে স্থানীয় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী হস্তক্ষেপ করছেন এবং দালালের ভূমিকায় কাজ করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদে সচিব, গ্রাম পুলিশ ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্বে থাকলেও বহিরাগত এসব ব্যক্তি সেবাপ্রার্থীদের কাগজপত্র যাচাই, বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া এবং দ্রুত কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছেন। এতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, মূল ফটক দিয়ে প্রবেশের পরই কয়েকজন যুবক সেবাপ্রার্থীদের কাগজপত্র দেখে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলছেন। সচিবের কক্ষের সামনেও তাদের সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।

এ সময় নিজেকে ছাত্রদলকর্মী পরিচয় দিয়ে জনি নামের এক যুবক বলেন, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্য ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. শামীম আহমেদকে পরিষদের কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা শামীম আহমেদের পক্ষ থেকে সেবাপ্রার্থীদের সহযোগিতা করছি।’

তবে একাধিক সেবাপ্রার্থী অভিযোগ করেন, ওই যুবকেরা দ্রুত কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করেন। তাদের মাধ্যমে কাজ না করলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। এছাড়া ট্রেড লাইসেন্সের ফি কমিয়ে দেওয়ার নামে সুবিধা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় শাপলা হাউজিং এলাকার বাসিন্দা শাহিদা বেগম বলেন, ভোটার নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র নিতে এসে কয়েকজন যুবক তার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় তার কাজ হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মেইটকা গ্রামের বাসিন্দা লিয়াকত আলী বলেন, বাবার মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সনদ নিতে এসে তিনি নির্ধারিত টাকার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ চাওয়ার অভিযোগের মুখে পড়েন। পরে বিষয়টি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের জানালে তারাও অর্থ দিলে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার কথা বলেন বলে দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. শামীম আহমেদ বলেন, ‘আমরা কারো কাছ থেকে অর্থ নেয়নি। বরং আগে যারা দালালি করত, তাদের পরিষদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

নিরাপত্তা ঝুঁকি ও দুর্নীতি রোধে পরিষদে বহিরাগতদের উপস্থিতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকার পরও কিভাবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি ফাইল পরিচালনা ও খবরদারি করছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘এখন থেকে আমিই সব কিছু দেখব। গ্রাহকদের যেন ভোগান্তি না হয় এবং বহিরাগতরা যেন খবরদারি করতে না পারে সে জন্য আগামীকাল থেকে সবকিছু আমার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’

তবে এর পরই তিনি ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি শামীম আহমেদ ও তার সম্পাদককে কাল থেকে তার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

পটিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধে এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ ৪ জন আহত

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
পটিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধে এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ ৪ জন আহত
ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থী, নারী, শিশুসহ একই পরিবারের চারজন আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে পটিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি ফৌজদারি অভিযোগ করেছেন আহত গৃহবধূ হালিমা বেগম।

হালিমা বেগম পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের পূর্ব মনসা এলাকার বাসিন্দা। আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলায় অভিযুক্তরা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা। তাদের সঙ্গে বাদীপক্ষের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল।

অভিযোগে বলা হয়, হালিমা বেগমের স্বামী মো. নজরুল ইসলামের মালিকানাধীন তিন শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিষয়টি বর্তমানে দেওয়ানি আদালতে বিচারাধীন। এর মধ্যেই গত ৪ জুলাই দুপুরে চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থী রেশমি আক্তার পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে দেখতে পান, অভিযুক্তরা তাদের দখলীয় জমিতে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করছেন এবং চলাচলের পথে নির্মাণসামগ্রী ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন।

এ সময় রেশমি আক্তার প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি মাথায় গুরুতর আহত হন। তার চিৎকার শুনে মা হালিমা বেগম, বাবা নজরুল ইসলাম ও বোন আখি আক্তার এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়।

বাদীর অভিযোগ, হামলার সময় তার গলায় থাকা প্রায় ১২ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া তাকে এবং তার দুই মেয়েকে শ্লীলতাহানির পাশাপাশি মামলা করলে প্রাণনাশ, বাড়িতে আগুন দেওয়া, এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা দিতে না দেওয়া এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকিও দেওয়া হয়।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নজরুল ইসলাম, রেশমি আক্তার ও আখি আক্তার চিকিৎসা নেন।

বাদী হালিমা বেগম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমাদের জমি দখলের চেষ্টা চলছে। হামলার পর আমরা চরম আতঙ্কে আছি। আমরা আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চাই।’

আহত নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আগেও জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। এবার অস্ত্র নিয়ে হামলা করা হয়েছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

এইচএসসি পরীক্ষার্থী রেশমি আক্তার বলেন, ‘পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় হামলার শিকার হই। এখনো শারীরিকভাবে অসুস্থ। সামনে বাকি পরীক্ষাগুলো নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, বিষয়টি আদালতে অভিযোগ হিসেবে দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জমিসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।

গোপালগঞ্জ

স্ত্রীকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
স্ত্রীকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে
সংগৃহীত ছবি

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে স্ত্রীকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী আলামিন পলাতক রয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি তার স্ত্রীকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের তানপুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত মিলি বেগম (৩০) ওই গ্রামের মিজান শেখের মেয়ে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিলি বেগম ও তার স্বামী আলামিন (৩০) একসঙ্গে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে গোসল করতে নামেন। গোসল শেষে আলামিন একাই শ্বশুরবাড়িতে ফিরে এসে নিজের টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। যাওয়ার সময় আলামিনের শাশুড়ি মিলি বেগমের খোঁজ জানতে চাইলে তিনি শাশুড়িকে বলেন, মিলি পরে বাড়িতে ফিরবেন।

কিন্তু দীর্ঘসময় অতিবাহিত হলেও মিলি বাড়িতে না ফেরায় তার মা পুকুরপাড়ে গিয়ে তাকে পানিতে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি কাশিয়ানী থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গোপালগঞ্জ আড়াইশ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।

কাশিয়ানী-মুকসুদপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাফিছুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক বিরোধজনিত হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।