• ই-পেপার

সাভারে গৃহবধূকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ

অটোরিকশার চার্জার খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

বরগুনা প্রতিনিধি
অটোরিকশার চার্জার খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

বরগুনায় চার্জে থাকা অটোরিকশার বিদ্যুৎ সংযোগ খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তাদের বড় মেয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা রয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের ডালভাঙা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেন, মো. বেল্লাল (৪৫) ও তার স্ত্রী মোসা. কমলা বেগম (৪০)। তাদের তিন ছেলে-মেয়ে রয়েছে। 

স্থানীয় ও স্বজন সূত্রে জানা যায়, মৃত বেল্লাল বাড়িতে একটি গরুর ফার্ম তৈরির কাজ করছিলেন। কাজের শেষ দিকে হওয়ায় ফার্মের জন্য নতুন টিন ক্রয়ের জন্য তিনি তার অটোরিকশা নিয়ে বাজারে আসার প্রস্তুতি নেন। এসময় বাড়িতে থাকা নিজের অটোরিকশার চার্জের সংযোগ খুলতে গিয়ে তিনি (বেল্লাল) বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাকে উদ্ধার করতে স্ত্রী কমলা ও তার মেয়ে সেখানে গেলে তারাও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। বিষয়টি স্থানীয়রা টের পেয়ে বাড়িতে থাকা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে তাদের উদ্ধার করে বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বেল্লাল ও তার স্ত্রী কমলাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিদ্যুৎস্পৃষ্টে পায়ে জখম হয়ে আহত মেয়ে আরিফাকে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়।

মৃত বেল্লালের প্রতিবেশী মোসা. ফিরোজা বেগম বলেন, সকালে চার্জে থাকা অটোরিকশা আনতে গিয়ে প্রথমে বেল্লাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। তাকে ছাড়াতে গিয়ে স্ত্রী ও মেয়েও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। খবর পেয়ে এলাকাবাসী মিলে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। কিন্তু হাসপাতালে আসার পর ডাক্তার বলেন, বেল্লাল ও তার স্ত্রী কমলার মৃত্যু হয়েছে।

বেল্লালের দুলাভাই মো. কবির বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর শুনে হাসপাতালে এসে দেখি বেল্লাল ও তার স্ত্রী কমলা মারা গেছেন। তাদের বড় মেয়েও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হয়েছে। তবে মেয়েকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, এখন সে সুস্থ আছে।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি মেডিক্যাল অফিসার ডা. অপূর্ব কুমার চৌধুরী বলেন, সোমবার সকালে বেল্লাল ও কমলা নামের দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। 

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী ও স্ত্রীর মৃত্যুর খবর শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
 

চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
ছবি : কালের কণ্ঠ

লাগাতার ভারি বর্ষণ ও পার্বত্য অববাহিকার মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে দুই উপজেলার অন্তত ১৬টি ইউনিয়নের অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকায় বসবাসকারী অন্তত ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে বেশ কিছু গ্রামীণ সড়ক।

এদিকে চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী থেকে মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজের জন্য নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স কম্পানির দেওয়া অপরিকল্পিত মাটির বাঁধের কারণে ফাঁসিয়াখালী ও চিরিঙ্গা ইউনিয়নের অন্তত ৫টি গ্রামের লোকালয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। এখানকার নারী-পুরুষেরা নিজেদের সহায়-সম্পদ রক্ষায় ম্যাক্সের দেওয়া অপরিকল্পিত মাটির বাঁধ অপসারণ করতেও দেখা যায়।

পার্বত্য অববাহিকার মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি বৃদ্ধি পেলেও আজ সোমবার বিকেল পর্যন্ত বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। তবে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় ভয়াবহ বন্যার শঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন দুই উপজেলার মানুষ। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পাহাড়বেষ্টিত গ্রামীণ এলাকায় পাহাড় ধসের আশঙ্কা থাকায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে নিরাপদে সরে যাওয়ার বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে।

দুই উপজেলার সিংহভাগ ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, অতি ভারি বর্ষণের কারণে ইউনিয়নগুলোর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় এবং মাতামুহুরী নদীতে উজানের ঢলের পানি প্রবাহিত হওয়ায় যেকোনো সময় ভয়াবহ বন্যার পদধ্বনি দেখা দিয়েছে।

চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীদ দেলোয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। উজানের পানি যাতে দ্রুত ভাটির দিকে নেমে যেতে পারে সেজন্য উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোর পানি নিষ্কাশনের স্লুইস গেটগুলোর কপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সার্বিক পরিস্থিতি তদারকির জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’

ফেনী

মা-মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় দুজনের যাবজ্জীবন, একজনের ১০ বছরের জেল

ফেনী প্রতিনিধি
মা-মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় দুজনের যাবজ্জীবন, একজনের ১০ বছরের জেল
ছবি : কালের কণ্ঠ

ফেনীর দাগনভূঞায় মা-মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় দুজনের যাবজ্জীবন ও একজনের ১০ বছরের জেল দিয়েছেন আদালত। রবিবার (৫ জুলাই) বিকেলে মামলার যাবতীয় কার্যক্রম শেষে ফেনী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম মোর্শেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছেন দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের বারাহীগুনী গ্রামের মনু কাজী বাড়ির জয়নাল আবেদীনের ছেলে সাইফুল ইসলাম, একই বাড়ির মৃত মাহমুদ আলীর ছেলে আজাদ ও একই এলাকার জেলে বাড়ির প্রভাত কুমার দাসের ছেলে নিপু কুমার দাস। রায় ঘোষণাকালে আসামি আজাদ ও নিপু দাস কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের দক্ষিণ বারাহীগুনী গ্রামের নদী পাড়ে জেলে বাড়ি অবস্থিত। ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট রাতে ওই বাড়িতে ঢুকে কয়েকজন সহযোগী নিয়ে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ করে সাইফুল ইসলাম। ধর্ষণের ঘটনায় বাধা দেওয়ায় ভুক্তভোগীর মাকে বাড়ি থেকে বের করে ব্রিজের ওপর এনে ধর্ষণ করেন আজাদ ও নিপু নামের দুজন। ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রচারের পর ১১ আগস্ট দাগনভূঞা থানায় তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন প্রবাসীর স্ত্রী। পরে দাগনভূঞা থানার এসআই আবদুর রহীম ২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

ফেনী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট সাহাব উদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে জানান, এ মামলায় আদালতে সাতজনের সাক্ষী গ্রহণ করা হয়। চলতি বছরের ২৪ মার্চ উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রবিবার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। ঘটনাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামি সাইফুল ও নিপুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ ও ১ লাখ টাকা করে জরিমানা এবং আজাদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতা‌লে ভ‌র্তি ব্রা‌জি‌ল সমর্থক

আঞ্চ‌লিক প্রতি‌নি‌ধি, কু‌ড়িগ্রাম
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতা‌লে ভ‌র্তি ব্রা‌জি‌ল সমর্থক
ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রিয় দল ব্রাজিলের বিদায়ের হতাশা সহ্য করতে না পেরে আলমগীর হোসেন (৩৫) না‌মের এক ভক্ত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত থাকলেও চিকিৎসকেরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। আলমগীর কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রবিবার গভীর রাতে অনুষ্ঠিত ব্রাজিল ও নরওয়ের মধ্যকার বিশ্বকাপ ম্যাচটি নিজ বাড়িতে বন্ধু ও এলাকার অন্যান্য ব্রাজিল সমর্থকদের সঙ্গে দেখছিলেন আলমগীর। ম্যাচের শুরু থেকেই তিনি দারুণ উৎসাহ-উদ্দীপনায় খেলা উপভোগ করছিলেন। তবে ব্রাজিল পিছিয়ে পড়ার পর থেকেই তিনি দৃশ্যত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। খেলা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দলের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হলে তিনি প্রবল মানসিক আঘাত পান। কিছুক্ষণের মধ্যেই বুকে তীব্র ব্যথা, অস্বস্তি ও শ্বাসকষ্ট অনুভব করে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন।

পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি করে পর্যবেক্ষণে রাখেন।

আলমগীরের পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ব্রাজিল ফুটবল দলের সমর্থক। বিশ্বকাপ এলেই বন্ধুদের নিয়ে খেলা দেখতেন এবং দলের জয়-পরাজয়কে খুব আবেগের সঙ্গে গ্রহণ করতেন। এবারের ব্রাজিলের বিদায়ে মানসিকভাবে মেনে নিতে পারেননি তিনি।

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী বলেন, অতিরিক্ত আবেগ, মানসিক চাপ বা হঠাৎ তীব্র উত্তেজনা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে। খেলাধুলা বিনোদনের বিষয় হলেও তা নিয়ে অতিরিক্ত মানসিক চাপ নেওয়া উচিত নয়।

ডা. নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী বলেন, আলমগীর হোসেন বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং সম্পূর্ণ সুস্থতা নিশ্চিত করতে তাকে আরো কয়েক দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।