• ই-পেপার

ফেনী

মা-মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় দুজনের যাবজ্জীবন, একজনের ১০ বছরের জেল

কিশোরগঞ্জ

বাস-গরুবাহী পিকআপের সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন ৩ জন

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
বাস-গরুবাহী পিকআপের সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন ৩ জন
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঢাকা-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পাকুন্দিয়ায় গরুবাহী পিকআপ ভ্যান ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুজন। এ দুর্ঘটনায় পিকআপে থাকা ছয়টি গরুরও মারা গেছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে পাকুন্দিয়া উপজেলার সুখিয়া বাজারের ব্র্যাক ব্যাংকের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের শঙ্কা, নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের শঙ্কা, নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং
সংগৃহীত ছবি

নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন। সোমবার (৬ জুলাই) সকাল থেকে নগরের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাইকিং করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন জানায়, আকবরশাহ ঝিল ১, ২ ও ৩ নম্বর এলাকা, বিজয়নগর পাহাড়, শান্তিনগর পাহাড়, বেলতলীঘোনা পাহাড়, টাংকির পাহাড়, আমিন জুট মিল এলাকা, পাহাড়িকা, সমবায় আবাসিক এলাকা, মিয়ার পাহাড়, মুরাদপুর রেলস্টেশন-সংলগ্ন রেলওয়ের পাহাড়, মতিঝর্ণা, লালখান বাজারের পোড়া কলোনি, ঢেবারপাড়, আমবাগান এবং উত্তর হালিশহর উপকূলসংলগ্ন এলাকায় বিশেষভাবে মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খন্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। 

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তর ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। মানুষের জানমাল রক্ষায় জেলা প্রশাসনের কয়েকটি দল মাঠে কাজ করছে। মাইকিংয়ের পাশাপাশি মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ছাড়া পাহাড়সংলগ্ন স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোকেও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে

জলাবদ্ধতা

এক দশক ধরে চাষের বাইরে দামুড়হুদার কুঠির বিল

দ্রুত খাল পুনঃখনন ও স্লুইসগেট দাবি

হাবিবুর রহমান, দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা)
এক দশক ধরে চাষের বাইরে দামুড়হুদার কুঠির বিল
পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় এক দশক ধরে চাষের বাইরে রয়েছে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার পুড়াপাড়া গ্রামের কুটির বিল। সবুজ ঘাসে ছেয়ে গেছে সেখানকার কৃষিজমি। রবিবার তোলা। -কালের কণ্ঠ

কুঠির বিলে একসময় ধানের চাষ হতো বছরে দুইবার। পাট হতো। সুনাম ছিল এ বিলের সবজির। তবে এখন সেসব অতীত। বিলটির বড় অংশজুড়ে এখন জলাবদ্ধতা। একটি স্লুইসগেট হলে ফিরতে পারে আগের অবস্থায়। কৃষকদের সেই ন্যূনতম দাবিটিও পূরণ হচ্ছে গত ১০ বছর ধরে। 

বিলটির অবস্থান চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার পুড়াপাড়া গ্রামে। 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কুঠির বিলে কৃষিজমির পরিমাণ দেড় শ বিঘা। তবে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা থাকায় এখন বছরে কেবল একবার সেখানকার এক-তৃতীয়াংশ জমিকে ধান চাষের আওতায় আনা যাচ্ছে। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিলের পানি আগে উপজেলার কেশবপুর গ্রামের পশ্চিম পাশে দামুড়হুদা-বিষুপুর সড়কের খানপাড়া সেতুর নিচ দিয়ে মাথাভাঙ্গা নদীতে পড়ত। প্রায় ১২ বছর আগে সেতুটির নিচে পানিপ্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পানি সরতে না পারায় বিলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে বিলের খালটিও ভরাট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। 

সূত্র জানায়, এক সময় ওই বিলে বছরে তিন ফসলের আবাদ হলেও পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন একটি ফসলও  হচ্ছে না। কারণ বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই জমিতে পানি  জমে।

স্থানীয়দের দাবি, কুঠির বিলের খালটি পুনঃখনন করে খালের মুখে মাথাভাঙ্গা নদীসংলগ্ন স্থানে সেতুর নিচ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হোক। বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন করতে পারলে আবারও ওই বিলের প্রায় ১৫০ বিঘা জমি তিন ফসলের আওতায় আনা যাবে। 

স্থানীয় কৃষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, কুঠির বিল পলি ও আবর্জনায় ভরে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে। এতে আমন ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়। চলতি মৌসুমে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় ধান রোপণ করা যাচ্ছে না। এতে এলাকার কৃষক বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হচ্ছে। খালটি পুনঃখনন করে একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হলে প্রায় দেড় শ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করা সম্ভব হবে। 

দুই কৃষক খলিলুর রহমান ও মমিনুল ইসলাম বলেন, বর্ষা মৌসুমে জমির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় আমরা জমিতে কৃষিকাজ করতে পারছি না। এতে আমরা  ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। দ্রুত কুঠির বিলের খাল পুনঃখনন এবং একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হলে উপকৃত হবো। 

অতিরিক্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অভিজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, কুঠির বিলে ৫০ একর (দেড় শ বিঘা) জমি রয়েছে। জলবদ্ধতার কারণে এখানে এক ফসলের চাষ হয়ে থাকে। খাল পুনঃখনন করেতে পারলে তিন ফসলের আওতায় আনা সম্ভব। তিনি বলেন, এ ব্যপারে একবার প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানকার জমির মালিকরা তাতে রাজি না হওয়ায় কাজ করা সম্ভব হয়নি। 

এদিকে আজ (সোমবার) উপজেলা প্রকৌশলী খালিদ হাসান বিল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে এখানে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। তবে পুড়াপাড়া কেশবপুর অংশে আগে যে খালটি ছিল, সেটি পুনঃখনন করে মাথাভাঙ্গা নদীতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে সেখানকার জমি আবারো তিন ফসলি জমিতে পরিণত হবে। তবে সে জন্য জমির মলিকদের একমত হতে হবে। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কাভার্ড ভ্যানচাপায় প্রকৌশলীর স্ত্রী নিহত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কাভার্ড ভ্যানচাপায় প্রকৌশলীর স্ত্রী নিহত
সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে কাভার্ড ভ্যানচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী তানজিলা আক্তার নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার আশুগঞ্জ গোলচত্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত তানজিলা আক্তার আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনের ৪০০ মেগাওয়াট নর্থ ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন ভূঁইয়ার স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তানজিলা আক্তার স্বামী আমজাদ হোসেন ভূঁইয়ার মোটরসাইকেলযোগে ভৈরবের একটি আইটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে গ্রাফিক্স ডিজাইন কোর্সের ক্লাস করতে যাচ্ছিলেন। পথে আশুগঞ্জ গোলচত্বর এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যান মোটরসাইকেলটিকে ওভারটেক করার সময় পেছন দিকে ধাক্কা দেয়। এতে তানজিলা মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে যান। এ সময় কাভার্ড ভ্যানের চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

খাটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু তাহের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পর কাভার্ড ভ্যানটি আটক করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।