• ই-পেপার

'হাতে নয়, পায়ে তার কলম' অদম্য পলি রানীর এইচএসসি পরীক্ষা

  • স্বপ্ন প্রশাসনের কর্মকর্তা হওয়ার

একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত হচ্ছে মঙ্গলবার

অনলাইন ডেস্ক
একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত হচ্ছে মঙ্গলবার
ছবি : কালের কণ্ঠ

একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির লক্ষ্যে ‘ভর্তি নীতিমালা-২০২৬’ চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১০টায় এ উপলক্ষে একটি সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভাটি একই সঙ্গে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং বাংলাদেশ সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে হাইব্রিড মডেলে অনুষ্ঠিত হবে।

আজ সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-১ শাখা থেকে প্রকাশিত এক নোটিশে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

উপসচিব মো. আ. কুদ্দুসের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে এই সভায় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সভার মূল আলোচ্যসূচি হলো একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নীতিমালা-২০২৬ চূড়ান্ত করা।

এই নীতি নির্ধারণী সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতিকে প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট ও কার্যপত্রসহ উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের অনলাইনে এই সভায় যুক্ত হতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের অতিরিক্ত ও যুগ্মসচিবদের এই সভায় যথাসময়ে অংশ নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এইচএসসির তৃতীয় দিনে বহিষ্কার ৫০ শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক
এইচএসসির তৃতীয় দিনে বহিষ্কার ৫০ শিক্ষার্থী

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার তৃতীয় দিনে সারা দেশে বহিষ্কার হয়েছেন ৫০ পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডেই ইংরেজি ১ম পত্র পরীক্ষায় ৪৫ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদরাসায় ২ জন ও কারিগরি বোর্ডে ৩ জন বহিষ্কার হয়েছেন। এদিন এইচএসসি পরীক্ষায় অনুপস্থিতির হার ২ দশমিক ৫১ শতাংশ। সোমবার (৬ জুলাই) পরীক্ষা শেষে আন্ত শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ তথ্য জানিয়েছে।

জানা গেছে, সোমবার ৯টি সাধারণ ধারার শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৯ লাখ ৯৭ হাজার ২১ জন। ১ হাজার ৬২০টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৯ লাখ ৭১ হাজার ৯৮৭ জন পরীক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেন। অনুপস্থিত ছিলেন ২৫ হাজার ৩৪ জন পরীক্ষার্থী।

এদিন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ১০ জন, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের ৩ জন, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ৪ জন, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ৩ জন,  দিনাজপুর বোর্ডের ৭ জন, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ৮ জন, ময়মনসিংহ বোর্ডের ৭ জন ও যশোর শিক্ষা বোর্ডের ৩ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছেন।

ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডের ৫ হাজার ৮৪১, চট্টগ্রাম বোর্ডে ২ হাজার ১১২, রাজশাহী বোর্ডে ৩ হাজার ৫২২, বরিশাল বোর্ডে ১ হাজার ৬২৯, সিলেট বোর্ডের ১ হাজার ৪৬৪, দিনাজপুর বোর্ডে ২ হাজার ৮৫২, কুমিল্লা বোর্ডের ২ হাজার ৩৩৬, ময়মনসিংহ বোর্ডে ১ হাজার ৭০৬ ও যশোর বোর্ডে ৩ হাজার ৫৭২ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।

এদিকে তৃতীয় দিনে আলিমের বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় ২ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন ৫ হাজার ১৫২ জন। সারা দেশের ৪৬০টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন ৮৩ হাজার ৩৩৩ জন পরীক্ষার্থীর এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিলো। তবে অংশ নেন ৭৮ হাজার ১৮১ জন পরীক্ষাথী। অনুপস্থিতির হার ৬ দশমিক ১৮ শতাংশ।

এদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার অফিস এ্যাপ্লিকেশন-২ ও ক্যারিয়ার গাইডেন্স আত্মকর্মসংস্থান বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অসদুপায় অবলম্বন করায় ৩ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৯৪৩ জন। সারা দেশের ৬১১টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন ৮৩ হাজার ৭৭৬ জন পরীক্ষার্থীর এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিলো। এ পরীক্ষায় অংশ নেন ৮০ হাজার ৮৩৩ জন। অনুপস্থিতির হার ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বই রাখার নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বই রাখার নির্দেশ

দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠাগারে তিনটি নির্দিষ্ট বই রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বই তিনটি হলো—‘প্রেসিডেন্ট জিয়া : রাজনৈতিক জীবনী’, ‘বেগম খালেদা জিয়া : জীবন ও সংগ্রাস’ ও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

গত ১৮ মে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশটি সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রওশন আরা পলির সই করা অফিস আদেশে বলা হয়, দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া : রাজনৈতিক জীবনী’, ‘বেগম খালেদা জিয়া : জীবন ও সংগ্রাস’ এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক তিনটি বইয়ের সমন্বয়ে এক সেট বই সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

৭৪ বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
৭৪ বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার ক্যাম্পাসে শোভাযাত্রা বের করা হয়। ছবি: কালের কণ্ঠ

৭৪ বছরে পড়েছে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)। সোমবার (৬ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটির ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৫৩ সালের এই দিনে বড়কুঠির সীমিত পরিসরে যে প্রতিষ্ঠান যাত্রা করে, সময়ের পরিক্রমায় আজ তা রূপ নিয়েছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বৃহৎ  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। 

শিক্ষা, গবেষণা এবং মুক্তবুদ্ধি চর্চায় পূর্ববঙ্গের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর উচ্চ শিক্ষার আলো ছড়াতে ব্রিটিশ আমলেই রাজশাহীতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি ওঠে। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর পাকিস্তান সরকার দেশের সব কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করে। রাজশাহীতে ওই সময় স্যাডলার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে আন্দোলন শুরু হয়। 

১৯৫৩ সালের পূর্ববঙ্গ আইনসভায় ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৫৩’ পাস হয়। এরপর শিক্ষাবিদ ড. ইতরাত হোসেন জুবেরীকে প্রথম উপাচার্য করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে সাতটি বিভাগ, ১৬১ জন শিক্ষার্থী এবং পাঁচজন শিক্ষক নিয়ে যাত্রা শুরু করে এই বিদ্যাপীঠ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সবশেষ তথ্যকণিকা ও প্রাতিষ্ঠানিক সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে ১২টি অনুষদের অধীনে ৫৯টি বিভাগ ও ছয়টি ইনস্টিটিউট রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। ৩০ হাজারেরও বেশি নিয়মিত শিক্ষার্থীর বিপরীতে এখানে পাঠদানে নিয়োজিত রয়েছেন এক হাজার ১৩০ জন শিক্ষক। কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন দুই হাজার ২৭৯ জন। 

বর্তমানে ১১টি ছাত্র হল ও ছয়টি ছাত্রী হলে মোট ৯ হাজার ৬৭৩ জন শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে একটি আন্তর্জাতিক ডরমিটরি, যেখানে বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩৪। প্রতিষ্ঠানটিতে উচ্চতর গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন ৭৭৬ জন শিক্ষার্থী।  ক্যাম্পাসে দুইটি নতুন আবাসিক হল ও একটি একাডেমিক ভবন নির্মীয়মাণ।

ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিকভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অবিস্মরণীয়। ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৯’র গণ-অভ্যুত্থান, ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ৯০ ও ২৪’র গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের সব জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে  অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহা পাকিস্তানি মিলিটারির বুলেটের সামনে নিজের বুক পেতে দিয়ে এ দেশের ইতিহাসে প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে আত্মাহুতি দেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র ও কর্মচারীসহ অনেকে প্রাণ দিয়েছেন। শহীদদের স্মৃতিকে অম্লান রাখতে ক্যাম্পাসে গড়ে উঠেছে ‘সাবাস বাংলাদেশ’ ভাস্কর্য, শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা এবং শহীদ মিনার।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ (সোমবার) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে, সকাল ১০টা ৫ মিনিটে প্রশাসন ভবনের সামনে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। এরপর বেলুন, ফেস্টুন ও পায়রা উড়িয়ে কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় বের করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। 

সকাল ১১টায় বৃক্ষরোপণ এবং সাড়ে ১১টায় সিনেট ভবনে ছিল আলোচনাসভা। এছাড়া বিকেলে ৪টায় কেন্দ্রীয় স্টেডিয়ামে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং সন্ধ্যা ৭টায় কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন উপাচার্য। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণাকে আরো সহজ, আধুনিক ও কার্যকর করা।’ 

উপাচার্য বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের থিসিস পর্যায় থেকেই আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। আমরা সমন্বিত প্রয়াসের মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের একটি শীর্ষস্থানীয় গবেষণা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই।’