প্রবল বর্ষণের জেরে পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রাণহানি ঘটেছে নারী ও শিশুসহ আটজনের। বাকি একজন নিহত হন কক্সবাজার শহরে। এ ছাড়া জেলার পেকুয়ায় আরো এক শিশু পাহাড়ধসে মারা যায়। গত রবিবার প্রথম প্রহর ও গতকাল সোমবার ভিন্ন সময়ে এসব ঘটনা ঘটে।
এদিকে, ভারি বর্ষণে কয়েকটি স্থান পানিতে নিমজ্জিত হলে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কেও যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। বর্ষণের পানিতে জেলা শহরসহ কয়েকটি উপজেলার জনজীবনে নেমে আসে দুর্ভোগ।
তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে আটজন নিহতের বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার। রবিবার পাহাড়ধসের প্রথম ঘটনা ঘটে রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে। রাতে ক্যাম্পের বস্তিসংলগ্ন পাহাড়ের মাটি রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর ধসে পড়ে। ওই সময় বস্তিতে ঘুমন্ত রোহিঙ্গা কামাল হোসাইন (৪৪), তাঁর স্ত্রী হুমায়রা (৩৯) ও ছেলে মোহাম্মদ আনাস (৪) মাটিচাপা পড়ে নিহত হন। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ও রোহিঙ্গারা তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করে। উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে তিনজনকে মৃত ও দুজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন।’
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে। রাত ১টা ৪৫ মিনিটে মাটিচাপায় একরাম নামে সাত বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়। নিহত একরাম ক্যাম্পের মোহাম্মদ রশিদের ছেলে। ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানান, ‘খবর পেয়ে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। ‘রাত ৩টায় উখিয়ার বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ চারজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতরা হলেন, ক্যাম্পের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭) ও তাঁর বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) ও তার ভাই হারুনুর রশিদ (৩)। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, ভারি বর্ষণে পাহাড়ধসের আশঙ্কার বিষয়টি আগেভাগেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পাহাড়গুলো আগে থেকেই মাটি কাটার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তাই এমন দু:খজনক ঘটনা ঘটেছে।’
অন্যদিকে কক্সবাজার শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনায় পাহাড়ধসে আলী আকবর (৫৫) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার ভোর ৪টার কিছুক্ষণ পর এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় পাহাড়ধসে চাপা পড়ে একই পরিবারের চারজন। স্থানীয়রা তিনজনকে উদ্ধার করে। এ সময় আলী আকবরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে বর্ষণে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের রামু ও উখিয়া উপজেলার কয়েকটি স্থান নিমজ্জিত হয়ে পড়ায় গতকাল সকালে যানবাহন চলাচল কয়েক ঘণ্টা বন্ধ ছিল। কক্সবাজার শহরে পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সাগরপারের পর্যটন এলাকা কলাতলীসহ বেশ কয়েকটি স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কুতুবদিয়া দ্বীপে বর্ষণের পানিতে লেমশিখালী-কৈয়ারবিল পাকা সংযোগ সেতুটি বিধ্বস্ত হয়। গতকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করার তথ্য দিয়েছেন কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান।
পেকুয়ায় শিশুর মৃত্যু
আমাদের চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজারের পেকুয়ায় গতকাল সোমবার সন্ধ্যার দিকে টৈটং ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের খলিফামুড়ার আলিম্যার ঝিরি এলাকায় মো. মিনহাজ উদ্দিন (৭) নামের এক শিশু পাহাড়ধসে মারা যায়। সে একই এলাকার কলিম উল্লাহর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুর ও বিকেলের ভারি বর্ষণে পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে কলিম উল্লাহর বাড়ির ওপর। ওই সময় বাড়ির দেয়ালে চাপা পড়ে শিশুটি মারা যায়। স্থানীয় লোকজন মাটির নিচ থেকে শিশুকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মনজুর আলম পাহাড়ধসে শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শিশু ও তার নানি পানি নিষ্কাশনের কাজ করছিল। এ সময় হঠাৎ পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে বসতঘরের ওপরে গিয়ে পড়ে। এতে বাড়ির দেয়ালে চাপা পড়ে শিশুটি মারা যায়। এ সময় নুরুন্নাহার বেগম (৫৫) নামের সঙ্গে থাকা নানিও আহত হন। তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।



তখন সকাল ৬টা। তেহরানের আকাশে সূর্যের আলো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। অথচ অনেক আগেই জেগে উঠেছে শহর। আজাদি স্ট্রিট ও ইয়াদেগারে ইমাম মহাসড়কের সংযোগস্থলে অবস্থিত মাহদিয়া ইমাম হাসান (আ.) এলাকা থেকে মূল শোকযাত্রা শুরু হয়। 

