তৃণমূল থেকেই দুর্নীতিকে একেবারে না বলতে হবে। নিজে ঠিক থাকলে অন্যকে ঠিক করা যাবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী

তৃণমূল থেকেই দুর্নীতিকে একেবারে না বলতে হবে। নিজে ঠিক থাকলে অন্যকে ঠিক করা যাবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী

চারদিকে শুধু মানুষ আর মানুষ। এ যেন অন্তহীন এক সুবিশাল জনসমুদ্র। কেউ নীরবে কোরআন তিলাওয়াত করছে, কেউ বুক চাপড়ে মাতম করছে, কেউ আবার স্লোগানে মুখর করে তুলছে রাজপথ। তাদের চোখে অশ্রু, মুখে ঐক্যে আত্মপ্রত্যয়ী দৃঢ়তার স্লোগান।
গতকাল সোমবার ইরানের রাজধানী তেহরানে এমন দৃশ্য দেখা গেছে, যেখানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় শহীদ দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ নিয়ে ১২ ঘণ্টার এক শোকযাত্রা শুরু হয়। এই শোকমিছিলে লাখো মানুষের ঢল নামে। গতকাল ছিল এই শহীদ নেতার সাত দিনের শেষবিদায়ের অনুষ্ঠানের তৃতীয় দিন।
তখন সকাল ৬টা। তেহরানের আকাশে সূর্যের আলো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। অথচ অনেক আগেই জেগে উঠেছে শহর। আজাদি স্ট্রিট ও ইয়াদেগারে ইমাম মহাসড়কের সংযোগস্থলে অবস্থিত মাহদিয়া ইমাম হাসান (আ.) এলাকা থেকে মূল শোকযাত্রা শুরু হয়।
শোকমিছিলের কেন্দ্রে ছিল শহীদ নেতার কফিন, সঙ্গে বহন করা হয় তাঁর পরিবারের আরো কয়েকজন শহীদ সদস্যের মরদেহ। এর মধ্যে রয়েছে তাঁর কন্যা সাইয়্যেদাহ বুশরা হোসাইনি-খামেনি, জামাতা ড. মেসবাহ-উল-হোদা বাকিরি-কানি, পুত্রবধূ জাহরা হাদ্দাদ-আদেল এবং ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদী গোলপায়েগানি। তারা সবাই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রথম দিন শহীদ হয়।
সকাল ৬টার দিকে আজাদি সড়কে গিয়ে দেখা যায়, গোটা তেহরান যেন এক শোকমঞ্চে পরিণত হয়েছে। ভালিয়াসর চৌরাস্তা হয়ে আজাদি স্কয়ার পেরিয়ে ইনকিলাব স্কয়ার পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটারের সেই যাত্রা শুধু একটি শোকমিছিল ছিল না; ছিল একটি জাতির সম্মিলিত আবেগ, বিশ্বাস ও স্মৃতির বহিঃপ্রকাশ।
কান্না ও বজ্রকণ্ঠে স্লোগান : ভোর থেকে শেষবিদায়ের শোকযাত্রার নির্ধারিত সড়কগুলো মানুষের ঢলে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অংশগ্রহণকারীরা ইরানের জাতীয় পতাকা, শহীদ বিপ্লবী নেতার ছবি বহন করে এবং স্লোগানে জাতীয় ঐক্য ও শহীদ ইমামের আদর্শের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করে। সব বয়সী নারী-পুরুষ, সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এই শোকযাত্রায় অংশ নেয়। শহীদ নেতাকে সর্বোচ্চ সম্মান জানিয়ে শেষবিদায় জানাতে তারা রাজপথে নেমে আসে। পুরো পরিবেশ ছিল শপথ, সংকল্প, দোয়া, শোকগাথা ও অশ্রুসিক্ত আবেগে পরিপূর্ণ।
শিশু ও বৃদ্ধরাও ছিল : সবচেয়ে বেশি নাড়া দেয় ছোট ছোট শিশুর উপস্থিতি। হাজার হাজার মা তাঁদের কয়েক মাস বয়সী শিশুকে কোলে নিয়ে শোকযাত্রায় অংশ নেন। শিশুরা হয়তো কিছুই বুঝতে পারেনি, কিন্তু তাদের মায়েরা মনে করছেন, এই বিশেষ দিনে তাঁদের সন্তানদেরও উপস্থিত থাকা প্রয়োজন।
হৃদয়স্পর্শী ছিল বৃদ্ধদের অবস্থান। অনেকে লাঠিতে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে হাঁটছিলেন। কারো পক্ষে পুরো পথ অতিক্রম করা সম্ভব হয়নি। তাঁরা রাস্তার পাশের ফুটপাতে গাছের ছায়ায় বসে মাইকে ভেসে আসা বক্তব্য শুনেছেন, আবার স্লোগানে কণ্ঠ মিলিয়েছেন। তাঁদের চোখের ভাষা যেন বলছিল, শরীর ক্লান্ত হতে পারে, কিন্তু বিশ্বাসের পথ দীর্ঘ হলেও থেমে থাকে না।
স্বেচ্ছাসেবী ক্যাম্প ও আপ্যায়ন : শহীদ নেতা খামেনির এই দীর্ঘ শোকযাত্রা উপলক্ষে ভোর থেকে রাস্তার পাশে অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। সেখানে শোকার্ত মানুষের জন্য সকালের নাশতা দেওয়া হয়। সঙ্গে ছিল ঠাণ্ডা পানি, শরবত, চা ও কফি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবকরা ঠাণ্ডা পানির বোতল ও শরবত নিয়ে মানুষের ভিড়ের মধ্যে ছুটে যাচ্ছিলেন। কেউ তৃষ্ণার্ত হয়ে দাঁড়ালে তার হাতে তুলে দিচ্ছিলেন পানীয়।
দুপুরে পথজুড়ে বিভিন্ন স্থানে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। ক্লান্ত মানুষ একটু বিশ্রাম নিয়ে আবার শোকমিছিলে যোগ দিয়েছে। কোথাও বিশৃঙ্খলা নয়, কোথাও হুড়াহুড়ি নয়, সবকিছু ছিল সুশৃঙ্খল।
ইনকিলাব স্কয়ারে শোকের ভাষা : ইনকিলাব স্কয়ারে পৌঁছে শোকযাত্রা নতুন এক মাত্রা পায়। সেখানে ছিল শহীদ নেতার শেষবিদায়ের আলোচনা, শোকগীতি, বিপ্লবী সংগীত, রণসংগীত এবং নেতার রক্তের প্রতিশোধের অবিরাম স্লোগান। বক্তারা শহীদ নেতার জীবন, নেতৃত্ব ও সংগ্রামের বিভিন্ন দিক স্মরণ করেন।
কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা : এত বিশাল জনসমাগম সত্ত্বেও নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত কঠোর ও সুসংগঠিত। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। একই সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় উপস্থিতি শহীদ নেতার শোকযাত্রাকে সুশৃঙ্খল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এর আগে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে দুই দিন খামেনির কফিন রাখা হয়। গত রবিবার লাখো মানুষের যোগদানে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই শহীদ নেতা এবং তাঁর সঙ্গে শহীদ তিন স্বজনের প্রথম জানাজা।
এ সময় কর্তৃপক্ষ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ মোকাবেলায় সরকারের দৃঢ়তার প্রশংসা করেছে এবং তাঁর হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবফ সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ইসলামী ইরানের গর্বিত ও অপরাজেয় জাতি’র ‘শহীদ’-এর প্রতি ‘সর্বসম্মতভাবে’ শ্রদ্ধা জানানোর বিষয়টির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
গতকালের এই শোভাযাত্রার পর আজ মঙ্গলবার ধর্মীয় কেন্দ্র কোম-এ এবং বুধবার ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হবে; সব শেষে বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদে, যেখানে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন, সেখানে খামেনিকে সমাহিত করা হবে।
মোজতবা খামেনি কোথায় : খামেনির রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠানে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত ছেলে মোজতবা খামেনি আসেননি। এতে তাঁর শারীরিক অবস্থা এবং কর্তৃত্ব প্রদর্শনের সক্ষমতা নিয়ে নানা জল্পনাকল্পনা চলছে।
বাবার শেষবিদায় অনুষ্ঠানে মোজতবার তিন ভাই জনসমক্ষে এলেও তিনি আসেননি। সপ্তাহব্যাপী এই আনুষ্ঠানিকতায় নতুন সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার বিষয়টিকে উল্লেখ করেছে।
প্রায় চার দশক ধরে ইরানের জনজীবনে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করা বাবার বিপরীতে ৫৬ বছর বয়সী এই ধর্মীয় নেতা সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মনোনীত হওয়ার আগের বছরগুলোতে নিজেকে অনেকটা আড়ালেই রেখেছিলেন।
সমঝোতা বাস্তবায়ন কঠিন তবে সম্ভব : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন করা কঠিন তবে সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তবে যেকোনো কূটনীতিতে যুদ্ধক্ষেত্রের অর্জনগুলোকে অবশ্যই বজায় রাখতে হবে বলে জোর দিয়েছেন ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া এই শীর্ষ নেতা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএসএনএর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, খামেনির বিদায়ি অনুষ্ঠানের ফাঁকে হামাসের লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান মোহাম্মদ দারবিশের সঙ্গে বৈঠকে গালিবাফ এই মন্তব্য করেন।
তেহরানের আকাশসীমা বন্ধ : খামেনির শোক অনুষ্ঠান ও জানাজায় সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা এড়াতে তেহরানের আকাশসীমা বন্ধ করেছে সরকার। গতকাল সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা আইএসএনএ।
ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে আইএসএনএ জানিয়েছে, রবিবার থেকে তেহরানের আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে এবং খামেনির দাফনের আগ পর্যন্ত এটি বন্ধ থাকবে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ ৭ জুন শুধু অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য মেহরাবাদ বিমানবন্দর আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হলেও ইমাম খোমেনি বিমানবন্দর বন্ধই থাকবে। খামেনির মরদেহ দাফন করা হবে ৯ জুলাই। ওই দিন মাশহাদের শহীদ হাশেমনিজাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরে বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারকে নিয়ে একটি অর্থনৈতিক করিডর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেয় বেইজিং। প্রস্তাবটি এখনো আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই করিডর বাস্তবায়নে বড় বাধা মিয়ানমার পরিস্থিতি। এ ছাড়া ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় শক্তিগুলোর মনোভাবও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
জানা গেছে, প্রস্তাবিত করিডরের সম্ভাব্য রুট হিসেবে চীনের খুনমিং, মিয়ানমারের রুইলি-মুসে-মান্দালয়-কিয়াউকফিউ-রাখাইন অঞ্চল-মংডু এবং বাংলাদেশের টেকনাফ-কক্সবাজার-চট্টগ্রাম বন্দরের কথা ভাবা হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে খুনমিং-রুইলি-মান্দালয়-রাখাইন-পালেতোয়া-মংডু-টেকনাফ-চট্টগ্রাম রুট নিয়েও আলোচনা রয়েছে। এই রুটে সড়ক, রেল, সমুদ্রপথ ও লজিস্টিকস সুবিধার সমন্বিত একটি মাল্টিমোডাল করিডর গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা ভাবা হচ্ছে।
সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য সড়কপথে খুনমিং থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব দুই হাজার কিলোমিটারের মতো। বর্তমানে চীনের পূর্ব উপকূল থেকে সমুদ্রপথে চট্টগ্রামে পণ্য পৌঁছাতে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগে। করিডর চালু হলে ট্রাক বা রেলপথে সেই সময় ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নেমে আসতে পারে। এতে পরিবহন ব্যয় ও সময় উভয়ই কমবে এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এই করিডর বাস্তবায়নে কত ব্যয় হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়নি। কারণ প্রকল্পটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, চীন ধাপে ধাপে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কৌশল নিতে পারে। প্রথম পর্যায়ে বিদ্যমান সড়ক ও বন্দর অবকাঠামো ব্যবহার করে সীমিত ট্রানজিট চালু করা হতে পারে। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন রেললাইন ও এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হবে। এতে প্রাথমিক ব্যয় তুলনামূলক কম হবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, অর্থায়নের চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মিয়ানমারের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি। সেখানে স্থিতিশীলতা না ফিরলে বড় আকারের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা কঠিন হবে।
চীন সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবিত করিডর সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘চীনের প্রস্তাবিত করিডর নিয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত অবস্থান নেওয়া হয়নি।’
করিডর গঠনে চীনের আগ্রহের কারণ : কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চীনের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে ইউনান প্রদেশকে সরাসরি বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা। বর্তমানে চীনের বেশির ভাগ সমুদ্র বাণিজ্য মালাক্কা প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা জ্বালানি তেলের বড় অংশ ওই পথেই চীনে পৌঁছে। কোনো সংঘাত বা অবরোধের কারণে মালাক্কা প্রণালি অচল হয়ে গেলে চীনের জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। সে কারণে বিকল্প সংযোগপথ গড়ে তোলার কৌশলের অংশ হিসেবে বঙ্গোপসাগরমুখী একটি স্থল করিডরকে গুরুত্ব দিচ্ছে বেইজিং।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ এই করিডরে যুক্ত হলে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে চীন সরাসরি বঙ্গোপসাগরে প্রবেশের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়বে, দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্যিক উপস্থিতি আরো শক্তিশালী হবে এবং ইউনান প্রদেশকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। পাশাপাশি ভারত মহাসাগর অঞ্চলেও চীনের কৌশলগত অবস্থান আরো শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
করিডর বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ : বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডর বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মিয়ানমারের চলমান সংঘাত। বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যে জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন বিস্তীর্ণ এলাকা এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। বর্তমানে মংডু, বুথিডংসহ বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকায় করিডর বাস্তবায়নে তাদের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এ ছাড়া চীনের এই উদ্যোগ নিয়ে ভারতেরও কৌশলগত উদ্বেগ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রাম বা মোংলা বন্দরে চীনের গভীর সম্পৃক্ততা ভবিষ্যতে ভারত মহাসাগরে বেইজিংয়ের উপস্থিতি আরো জোরালো করতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে চীনের একটি স্থল করিডর গড়ে উঠলে দিল্লি সেটিকে নিজের কৌশলগত পরিসরে চীনের প্রবেশ হিসেবেও বিবেচনা করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর এবং ওই সফরে বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে আলোচনার বিষয়টিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত। গত শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলোর যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ ভারত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়।’
অতীতে বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম) করিডর বাস্তবায়নের উদ্যোগেও ভারত সক্রিয় আগ্রহ দেখায়নি। ফলে এখন ভারতকে বাদ দিয়ে নতুন ত্রিপক্ষীয় করিডর বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডরের পেছনে কোনো ভূ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। এটি মূলত অর্থনৈতিক সংযোগের উদ্যোগ। যেকোনো দেশ চাইলে এতে অংশ নিতে পারে।’
ভারতের সম্ভাব্য অবস্থান প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘বর্তমান বাস্তবতায় ভারতের আপত্তি থাকার সম্ভাবনা খুব বেশি নেই। বরং ভবিষ্যতে ভারত চাইলে এ ধরনের সংযোগ ব্যবস্থার অংশও হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘চীন ও ভারত বর্তমানে ব্রিকস, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা এবং অন্যান্য বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে একসঙ্গে কাজ করছে। ফলে বিষয়টি শুধু প্রতিযোগিতার দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ কম।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই প্রকল্প নিয়ে পক্ষে ও বিপক্ষে নানা মতামত দেওয়া হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা গবেষণাভিত্তিক নয়। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন প্রয়োজন। দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাই ও গবেষণা সম্পন্ন করে আলোচনায় এগোনো উচিত। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।’
প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডরকে বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় সুযোগ হিসেবে দেখছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ যে সংযোগ সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হয়েছে, এ ধরনের একটি করিডর বাস্তবায়িত হলে তা অনেকাংশে দূর হতে পারে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের সঙ্গে সরাসরি স্থল যোগাযোগ গড়ে উঠলে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক সংযোগে বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
তবে তিনি মনে করেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। প্রথমত, মিয়ানমার এই করিডরের অন্যতম প্রধান অংশীদার। তাই দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সহযোগিতার মনোভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয়ত, এটি একটি বড় ভূ-রাজনৈতিক প্রকল্প হওয়ায় ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দেশের অবস্থানও বিবেচনায় নিতে হবে। এসব দেশের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকল্পটির অগ্রগতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।’
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বাংলাদেশ যদি নীতিগত, প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরো শক্তিশালী করতে পারে এবং বিষয়টি দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারে, তাহলে করিডরটি দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।’
বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত করিডরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। সম্প্রতি চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনও ইঙ্গিত দিয়েছেন, অর্থনৈতিক করিডর বাস্তবায়িত হলে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের পথ সহজ হতে পারে।

দেশের বৃহৎ শিল্প ও ব্যাবসায়িক গ্রুপগুলোর উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান ব্যাংকটির মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। গত রবিবারও তিনি এ বিষয়ে কথা বলেছেন।
জটিলতা সমাধানে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে। আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘অনেক সময় বড় প্রতিষ্ঠান এমন সমস্যায় জর্জরিত হয়, সেটা সরাসরি সলভ (সমাধান) করা যায় না। কিন্তু আমরা কিছু জটিলতা সমাধান করে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগোষ্ঠীগুলো সাময়িক আর্থিক সংকটে পড়লেও তাদের কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় এবং বাজারে পণ্য এবং সেবার সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
আরিফ হোসেন খান বলেন, দেশের বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান, ব্যাংকিং খাতের বড় অঙ্কের ঋণ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম জড়িত। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠান সাময়িক সংকটে পড়লে সেটির প্রভাব যাতে পুরো অর্থনীতিতে না পড়ে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। দেশের অর্থনীতি সচল, কর্মসংস্থান তৈরি ও বাজারে নিত্যপণ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখছে শিল্পগোষ্ঠীগুলো। তবে ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার, রাজনৈতিক অবস্থা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশের বড় অনেক শিল্পগোষ্ঠীও আর্থিক সংকটে পড়েছে।
সহায়তার ক্ষেত্রে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর মধ্যে সমন্বয়, ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ, প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক সুবিধা এবং উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান মুখপাত্র।
এসব উদ্যোগ কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া নয় বলেও জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে। এই সহায়তার মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, কর্মসংস্থান রক্ষা করা ও বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই উদ্দেশ্য।
আব্দুল মোনেম সুগারকে এলসি খোলার অনুমতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক : আব্দুল মোনেম সুগার রিফাইনারি লিমিটেডকে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিনে আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার বিশেষ অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সুবিধার আওতায় আগামী ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ক্ষেত্রে ব্যাংক কম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৭কক(৩) ধারার বিধান কার্যকর হবে না। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ব্যাংক কম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১২১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এ সুবিধার আওতায় দেওয়া ঋণের কারণে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো ধরনের আর্থিক ক্ষতি সৃষ্টি করা যাবে না। এ ছাড়া ভবিষ্যতে এ ঋণ সুবিধার বিপরীতে কোনো ব্যাংক সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না।
ব্যাংক কম্পানি আইন অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের জামিনদাররাও খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হন। ফলে তাঁরা নতুন ঋণ সুবিধা বা এলসি খোলার সুযোগ পান না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনের ফলে প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ওই বিধান আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত শিথিল থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল মোনেম সুগার রিফাইনারি রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকে আব্দুল মোনেম লিমিটেডের একটি খেলাপি ঋণের করপোরেট গ্যারান্টার। আব্দুল মোনেম লিমিটেডই আব্দুল মোনেম গ্রুপের প্রধান প্রতিষ্ঠান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫ সালের মার্চের তথ্য অনুযায়ী, অগ্রণী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি), ডাচ-বাংলা ব্যাংকসহ ২৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আব্দুল মোনেম লিমিটেডের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু অগ্রণী ব্যাংকের পাওনাই প্রায় ৪৫৫ কোটি টাকা। গত বছরের আগস্টে প্রতিষ্ঠানটি এসব ঋণ বিশেষ শর্তে পুনর্গঠনের আবেদন করেছিল।
এরপর গত ৭ জুন শতভাগ নগদ মার্জিনে এলসি খোলার বিশেষ সুবিধা চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে আবেদন করা হয়। শোধনাগার কর্তৃপক্ষ আবেদনে উল্লেখ করে, অপরিশোধিত চিনি আমদানির জন্য একাধিক আন্তর্জাতিক চুক্তি কার্যকর রয়েছে। সময়মতো এলসি খুলতে না পারলে প্রতিদিন প্রায় ২৩ হাজার মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ গুনতে হতে পারে। পাশাপাশি দেশে বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি চিনি শোধনাগার পূর্ণ সক্ষমতায় চালু থাকায় আমদানি ব্যাহত হলে বাজারে চিনির সরবরাহেও ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
বর্তমানে বিক্রয় চুক্তির আওতায় শোধনাগারটি আবুল খায়ের লিমিটেড পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত চিনি ‘স্টারশিপ সুগার’ ব্র্যান্ড নামে বাজারজাত করা হচ্ছে। তবে মালিকানা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি।