তৃণমূল থেকেই দুর্নীতিকে একেবারে না বলতে হবে। নিজে ঠিক থাকলে অন্যকে ঠিক করা যাবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী

তৃণমূল থেকেই দুর্নীতিকে একেবারে না বলতে হবে। নিজে ঠিক থাকলে অন্যকে ঠিক করা যাবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী

প্রবল বর্ষণের জেরে পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রাণহানি ঘটেছে নারী ও শিশুসহ আটজনের। বাকি একজন নিহত হন কক্সবাজার শহরে। এ ছাড়া জেলার পেকুয়ায় আরো এক শিশু পাহাড়ধসে মারা যায়। গত রবিবার প্রথম প্রহর ও গতকাল সোমবার ভিন্ন সময়ে এসব ঘটনা ঘটে।
এদিকে, ভারি বর্ষণে কয়েকটি স্থান পানিতে নিমজ্জিত হলে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কেও যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। বর্ষণের পানিতে জেলা শহরসহ কয়েকটি উপজেলার জনজীবনে নেমে আসে দুর্ভোগ।
তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে আটজন নিহতের বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার। রবিবার পাহাড়ধসের প্রথম ঘটনা ঘটে রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে। রাতে ক্যাম্পের বস্তিসংলগ্ন পাহাড়ের মাটি রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর ধসে পড়ে। ওই সময় বস্তিতে ঘুমন্ত রোহিঙ্গা কামাল হোসাইন (৪৪), তাঁর স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) ও ছেলে মোহাম্মদ আনাস (৪) মাটিচাপা পড়ে নিহত হন। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ও রোহিঙ্গারা তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করে। উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে তিনজনকে মৃত ও দুজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন।’
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে। রাত ১টা ৪৫ মিনিটে মাটিচাপায় একরাম নামে সাত বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়। নিহত একরাম ক্যাম্পের মোহাম্মদ রশিদের ছেলে। ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানান, ‘খবর পেয়ে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। ‘রাত ৩টায় উখিয়ার বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ চারজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতরা হলেন, ক্যাম্পের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭) ও তাঁর বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) ও তার ভাই হারুনুর রশিদ (৩)। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, ভারি বর্ষণে পাহাড়ধসের আশঙ্কার বিষয়টি আগেভাগেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পাহাড়গুলো আগে থেকেই মাটি কাটার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তাই এমন দু:খজনক ঘটনা ঘটেছে।’
অন্যদিকে কক্সবাজার শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনায় পাহাড়ধসে আলী আকবর (৫৫) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার ভোর ৪টার কিছুক্ষণ পর এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় পাহাড়ধসে চাপা পড়ে একই পরিবারের চারজন। স্থানীয়রা তিনজনকে উদ্ধার করে। এ সময় আলী আকবরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে বর্ষণে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের রামু ও উখিয়া উপজেলার কয়েকটি স্থান নিমজ্জিত হয়ে পড়ায় গতকাল সকালে যানবাহন চলাচল কয়েক ঘণ্টা বন্ধ ছিল। কক্সবাজার শহরে পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সাগরপারের পর্যটন এলাকা কলাতলীসহ বেশ কয়েকটি স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কুতুবদিয়া দ্বীপে বর্ষণের পানিতে লেমশিখালী-কৈয়ারবিল পাকা সংযোগ সেতুটি বিধ্বস্ত হয়। গতকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করার তথ্য দিয়েছেন কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান।
পেকুয়ায় শিশুর মৃত্যু : আমাদের চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজারের পেকুয়ায় গতকাল সোমবার সন্ধ্যার দিকে টৈটং ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের খলিফামুড়ার আলিম্যার ঝিরি এলাকায় মো. মিনহাজ উদ্দিন (৭) নামের এক শিশু পাহাড়ধসে মারা যায়। সে একই এলাকার কলিম উল্লাহর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুর ও বিকেলের ভারি বর্ষণে পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে কলিম উল্লাহর বাড়ির ওপর। ওই সময় বাড়ির দেয়ালে চাপা পড়ে শিশুটি মারা যায়। স্থানীয় লোকজন মাটির নিচ থেকে শিশুকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মনজুর আলম পাহাড়ধসে শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শিশু ও তার নানি পানি নিষ্কাশনের কাজ করছিল। এ সময় হঠাৎ পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে বসতঘরের ওপরে গিয়ে পড়ে। এতে বাড়ির দেয়ালে চাপা পড়ে শিশুটি মারা যায়। এ সময় নুরুন্নাহার বেগম (৫৫) নামের সঙ্গে থাকা নানিও আহত হন। তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

চারদিকে শুধু মানুষ আর মানুষ। এ যেন অন্তহীন এক সুবিশাল জনসমুদ্র। কেউ নীরবে কোরআন তিলাওয়াত করছে, কেউ বুক চাপড়ে মাতম করছে, কেউ আবার স্লোগানে মুখর করে তুলছে রাজপথ। তাদের চোখে অশ্রু, মুখে ঐক্যে আত্মপ্রত্যয়ী দৃঢ়তার স্লোগান।
গতকাল সোমবার ইরানের রাজধানী তেহরানে এমন দৃশ্য দেখা গেছে, যেখানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় শহীদ দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ নিয়ে ১২ ঘণ্টার এক শোকযাত্রা শুরু হয়। এই শোকমিছিলে লাখো মানুষের ঢল নামে। গতকাল ছিল এই শহীদ নেতার সাত দিনের শেষবিদায়ের অনুষ্ঠানের তৃতীয় দিন।
তখন সকাল ৬টা। তেহরানের আকাশে সূর্যের আলো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। অথচ অনেক আগেই জেগে উঠেছে শহর। আজাদি স্ট্রিট ও ইয়াদেগারে ইমাম মহাসড়কের সংযোগস্থলে অবস্থিত মাহদিয়া ইমাম হাসান (আ.) এলাকা থেকে মূল শোকযাত্রা শুরু হয়।
শোকমিছিলের কেন্দ্রে ছিল শহীদ নেতার কফিন, সঙ্গে বহন করা হয় তাঁর পরিবারের আরো কয়েকজন শহীদ সদস্যের মরদেহ। এর মধ্যে রয়েছে তাঁর কন্যা সাইয়্যেদাহ বুশরা হোসাইনি-খামেনি, জামাতা ড. মেসবাহ-উল-হোদা বাকিরি-কানি, পুত্রবধূ জাহরা হাদ্দাদ-আদেল এবং ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদী গোলপায়েগানি। তারা সবাই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রথম দিন শহীদ হয়।
সকাল ৬টার দিকে আজাদি সড়কে গিয়ে দেখা যায়, গোটা তেহরান যেন এক শোকমঞ্চে পরিণত হয়েছে। ভালিয়াসর চৌরাস্তা হয়ে আজাদি স্কয়ার পেরিয়ে ইনকিলাব স্কয়ার পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটারের সেই যাত্রা শুধু একটি শোকমিছিল ছিল না; ছিল একটি জাতির সম্মিলিত আবেগ, বিশ্বাস ও স্মৃতির বহিঃপ্রকাশ।
কান্না ও বজ্রকণ্ঠে স্লোগান : ভোর থেকে শেষবিদায়ের শোকযাত্রার নির্ধারিত সড়কগুলো মানুষের ঢলে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অংশগ্রহণকারীরা ইরানের জাতীয় পতাকা, শহীদ বিপ্লবী নেতার ছবি বহন করে এবং স্লোগানে জাতীয় ঐক্য ও শহীদ ইমামের আদর্শের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করে। সব বয়সী নারী-পুরুষ, সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এই শোকযাত্রায় অংশ নেয়। শহীদ নেতাকে সর্বোচ্চ সম্মান জানিয়ে শেষবিদায় জানাতে তারা রাজপথে নেমে আসে। পুরো পরিবেশ ছিল শপথ, সংকল্প, দোয়া, শোকগাথা ও অশ্রুসিক্ত আবেগে পরিপূর্ণ।
শিশু ও বৃদ্ধরাও ছিল : সবচেয়ে বেশি নাড়া দেয় ছোট ছোট শিশুর উপস্থিতি। হাজার হাজার মা তাঁদের কয়েক মাস বয়সী শিশুকে কোলে নিয়ে শোকযাত্রায় অংশ নেন। শিশুরা হয়তো কিছুই বুঝতে পারেনি, কিন্তু তাদের মায়েরা মনে করছেন, এই বিশেষ দিনে তাঁদের সন্তানদেরও উপস্থিত থাকা প্রয়োজন।
হৃদয়স্পর্শী ছিল বৃদ্ধদের অবস্থান। অনেকে লাঠিতে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে হাঁটছিলেন। কারো পক্ষে পুরো পথ অতিক্রম করা সম্ভব হয়নি। তাঁরা রাস্তার পাশের ফুটপাতে গাছের ছায়ায় বসে মাইকে ভেসে আসা বক্তব্য শুনেছেন, আবার স্লোগানে কণ্ঠ মিলিয়েছেন। তাঁদের চোখের ভাষা যেন বলছিল, শরীর ক্লান্ত হতে পারে, কিন্তু বিশ্বাসের পথ দীর্ঘ হলেও থেমে থাকে না।
স্বেচ্ছাসেবী ক্যাম্প ও আপ্যায়ন : শহীদ নেতা খামেনির এই দীর্ঘ শোকযাত্রা উপলক্ষে ভোর থেকে রাস্তার পাশে অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। সেখানে শোকার্ত মানুষের জন্য সকালের নাশতা দেওয়া হয়। সঙ্গে ছিল ঠাণ্ডা পানি, শরবত, চা ও কফি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবকরা ঠাণ্ডা পানির বোতল ও শরবত নিয়ে মানুষের ভিড়ের মধ্যে ছুটে যাচ্ছিলেন। কেউ তৃষ্ণার্ত হয়ে দাঁড়ালে তার হাতে তুলে দিচ্ছিলেন পানীয়।
দুপুরে পথজুড়ে বিভিন্ন স্থানে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। ক্লান্ত মানুষ একটু বিশ্রাম নিয়ে আবার শোকমিছিলে যোগ দিয়েছে। কোথাও বিশৃঙ্খলা নয়, কোথাও হুড়াহুড়ি নয়, সবকিছু ছিল সুশৃঙ্খল।
ইনকিলাব স্কয়ারে শোকের ভাষা : ইনকিলাব স্কয়ারে পৌঁছে শোকযাত্রা নতুন এক মাত্রা পায়। সেখানে ছিল শহীদ নেতার শেষবিদায়ের আলোচনা, শোকগীতি, বিপ্লবী সংগীত, রণসংগীত এবং নেতার রক্তের প্রতিশোধের অবিরাম স্লোগান। বক্তারা শহীদ নেতার জীবন, নেতৃত্ব ও সংগ্রামের বিভিন্ন দিক স্মরণ করেন।
কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা : এত বিশাল জনসমাগম সত্ত্বেও নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত কঠোর ও সুসংগঠিত। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। একই সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় উপস্থিতি শহীদ নেতার শোকযাত্রাকে সুশৃঙ্খল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এর আগে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে দুই দিন খামেনির কফিন রাখা হয়। গত রবিবার লাখো মানুষের যোগদানে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই শহীদ নেতা এবং তাঁর সঙ্গে শহীদ তিন স্বজনের প্রথম জানাজা।
এ সময় কর্তৃপক্ষ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ মোকাবেলায় সরকারের দৃঢ়তার প্রশংসা করেছে এবং তাঁর হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবফ সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ইসলামী ইরানের গর্বিত ও অপরাজেয় জাতি’র ‘শহীদ’-এর প্রতি ‘সর্বসম্মতভাবে’ শ্রদ্ধা জানানোর বিষয়টির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
গতকালের এই শোভাযাত্রার পর আজ মঙ্গলবার ধর্মীয় কেন্দ্র কোম-এ এবং বুধবার ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হবে; সব শেষে বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদে, যেখানে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন, সেখানে খামেনিকে সমাহিত করা হবে।
মোজতবা খামেনি কোথায় : খামেনির রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠানে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত ছেলে মোজতবা খামেনি আসেননি। এতে তাঁর শারীরিক অবস্থা এবং কর্তৃত্ব প্রদর্শনের সক্ষমতা নিয়ে নানা জল্পনাকল্পনা চলছে।
বাবার শেষবিদায় অনুষ্ঠানে মোজতবার তিন ভাই জনসমক্ষে এলেও তিনি আসেননি। সপ্তাহব্যাপী এই আনুষ্ঠানিকতায় নতুন সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার বিষয়টিকে উল্লেখ করেছে।
প্রায় চার দশক ধরে ইরানের জনজীবনে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করা বাবার বিপরীতে ৫৬ বছর বয়সী এই ধর্মীয় নেতা সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মনোনীত হওয়ার আগের বছরগুলোতে নিজেকে অনেকটা আড়ালেই রেখেছিলেন।
সমঝোতা বাস্তবায়ন কঠিন তবে সম্ভব : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন করা কঠিন তবে সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তবে যেকোনো কূটনীতিতে যুদ্ধক্ষেত্রের অর্জনগুলোকে অবশ্যই বজায় রাখতে হবে বলে জোর দিয়েছেন ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া এই শীর্ষ নেতা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএসএনএর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, খামেনির বিদায়ি অনুষ্ঠানের ফাঁকে হামাসের লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান মোহাম্মদ দারবিশের সঙ্গে বৈঠকে গালিবাফ এই মন্তব্য করেন।
তেহরানের আকাশসীমা বন্ধ : খামেনির শোক অনুষ্ঠান ও জানাজায় সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা এড়াতে তেহরানের আকাশসীমা বন্ধ করেছে সরকার। গতকাল সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা আইএসএনএ।
ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে আইএসএনএ জানিয়েছে, রবিবার থেকে তেহরানের আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে এবং খামেনির দাফনের আগ পর্যন্ত এটি বন্ধ থাকবে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ ৭ জুন শুধু অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য মেহরাবাদ বিমানবন্দর আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হলেও ইমাম খোমেনি বিমানবন্দর বন্ধই থাকবে। খামেনির মরদেহ দাফন করা হবে ৯ জুলাই। ওই দিন মাশহাদের শহীদ হাশেমনিজাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

দেশের বৃহৎ শিল্প ও ব্যাবসায়িক গ্রুপগুলোর উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান ব্যাংকটির মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। গত রবিবারও তিনি এ বিষয়ে কথা বলেছেন।
জটিলতা সমাধানে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে। আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘অনেক সময় বড় প্রতিষ্ঠান এমন সমস্যায় জর্জরিত হয়, সেটা সরাসরি সলভ (সমাধান) করা যায় না। কিন্তু আমরা কিছু জটিলতা সমাধান করে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগোষ্ঠীগুলো সাময়িক আর্থিক সংকটে পড়লেও তাদের কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় এবং বাজারে পণ্য এবং সেবার সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
আরিফ হোসেন খান বলেন, দেশের বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান, ব্যাংকিং খাতের বড় অঙ্কের ঋণ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম জড়িত। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠান সাময়িক সংকটে পড়লে সেটির প্রভাব যাতে পুরো অর্থনীতিতে না পড়ে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। দেশের অর্থনীতি সচল, কর্মসংস্থান তৈরি ও বাজারে নিত্যপণ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখছে শিল্পগোষ্ঠীগুলো। তবে ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার, রাজনৈতিক অবস্থা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশের বড় অনেক শিল্পগোষ্ঠীও আর্থিক সংকটে পড়েছে।
সহায়তার ক্ষেত্রে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর মধ্যে সমন্বয়, ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ, প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক সুবিধা এবং উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান মুখপাত্র।
এসব উদ্যোগ কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া নয় বলেও জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে। এই সহায়তার মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, কর্মসংস্থান রক্ষা করা ও বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই উদ্দেশ্য।
আব্দুল মোনেম সুগারকে এলসি খোলার অনুমতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক : আব্দুল মোনেম সুগার রিফাইনারি লিমিটেডকে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিনে আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার বিশেষ অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সুবিধার আওতায় আগামী ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ক্ষেত্রে ব্যাংক কম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৭কক(৩) ধারার বিধান কার্যকর হবে না। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ব্যাংক কম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১২১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এ সুবিধার আওতায় দেওয়া ঋণের কারণে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো ধরনের আর্থিক ক্ষতি সৃষ্টি করা যাবে না। এ ছাড়া ভবিষ্যতে এ ঋণ সুবিধার বিপরীতে কোনো ব্যাংক সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না।
ব্যাংক কম্পানি আইন অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের জামিনদাররাও খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হন। ফলে তাঁরা নতুন ঋণ সুবিধা বা এলসি খোলার সুযোগ পান না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনের ফলে প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ওই বিধান আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত শিথিল থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল মোনেম সুগার রিফাইনারি রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকে আব্দুল মোনেম লিমিটেডের একটি খেলাপি ঋণের করপোরেট গ্যারান্টার। আব্দুল মোনেম লিমিটেডই আব্দুল মোনেম গ্রুপের প্রধান প্রতিষ্ঠান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫ সালের মার্চের তথ্য অনুযায়ী, অগ্রণী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি), ডাচ-বাংলা ব্যাংকসহ ২৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আব্দুল মোনেম লিমিটেডের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু অগ্রণী ব্যাংকের পাওনাই প্রায় ৪৫৫ কোটি টাকা। গত বছরের আগস্টে প্রতিষ্ঠানটি এসব ঋণ বিশেষ শর্তে পুনর্গঠনের আবেদন করেছিল।
এরপর গত ৭ জুন শতভাগ নগদ মার্জিনে এলসি খোলার বিশেষ সুবিধা চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে আবেদন করা হয়। শোধনাগার কর্তৃপক্ষ আবেদনে উল্লেখ করে, অপরিশোধিত চিনি আমদানির জন্য একাধিক আন্তর্জাতিক চুক্তি কার্যকর রয়েছে। সময়মতো এলসি খুলতে না পারলে প্রতিদিন প্রায় ২৩ হাজার মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ গুনতে হতে পারে। পাশাপাশি দেশে বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি চিনি শোধনাগার পূর্ণ সক্ষমতায় চালু থাকায় আমদানি ব্যাহত হলে বাজারে চিনির সরবরাহেও ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
বর্তমানে বিক্রয় চুক্তির আওতায় শোধনাগারটি আবুল খায়ের লিমিটেড পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত চিনি ‘স্টারশিপ সুগার’ ব্র্যান্ড নামে বাজারজাত করা হচ্ছে। তবে মালিকানা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি।