• ই-পেপার

‘এবারও মেসির হাতেই বিশ্বকাপ’

জাকেরের সেঞ্চুরি ও রাতুলের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ইমার্জিং দলের বড় জয়

আতিক রহমান, বগুড়া
জাকেরের সেঞ্চুরি ও রাতুলের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ইমার্জিং দলের বড় জয়
বাংলাদেশ ইমার্জিং দল ও জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের ম্যাচের একটি মুহূর্ত। আজ বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে। ছবি: কালে কণ্ঠ

৩৬৫ রানের আকাশ সমান টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুটা দারুণ করেছিল জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল। ওপেনার ইনোসেন্ট কায়া এবং ম্যাথু ক্যাম্পবেল ৯.৪ ওভারে স্কোর বোর্ডে ৬০ রান তুলে শক্ত প্রতিরোধের আভাস দিয়েছিলেন। 

কিন্তু এরপর ইনোসেন্ট কায়া ব্যক্তিগত ২৬ রানে আলিস আল ইসলামের বলে এলবিডব্লু হলে ছন্দপতন ঘটে। এরপর ৫৬ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারালে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় সফরকারীরা। 

পরে ওয়েসলি মাধেভেরে সেঞ্চুরি করলেও তা জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের কোনো কাজে আসেনি। ৮৫ রানের দাপুটে জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। 

বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে জাকির হোসেনের সেঞ্চুরিতে ৩৬৪ রান করে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭০ রান করেন ইফতেখার।

ইনিংসের শেষ দিকে সামিউন বশির রাতুলের ক্যামিওতে (১৮ বলে অপরাজিত ৩৯ রান) জিম্বাবুয়েকে বিশাল চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় বাংলাদেশ। 

জবাবে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল ২৭৯ রানে গুটিয়ে যায়। রাতুল ও বর্ষণ ৩টি করে উইকেট নেন। 

বিসিবি দর্শকদের জন্য বিনা টিকিটে খেলা দেখার সুযোগ করে দিলেও আজ শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে দর্শক উপস্থিতি ছিল খুব কম। শামিয়ানায় ঢাকা একটি গ্যালারি দর্শকে ভরা থাকলেও গোটা স্টেডিয়াম ছিল প্রায় ফাঁকা।  

আগামী বুধবার (১০ জুন) বগুড়াতেই হবে দ্বিতীয় ওয়ানডে।

মেসি ম্যানিয়া সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড গড়েছে কাইল ফিল্ড স্টেডিয়াম

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসি ম্যানিয়া সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড গড়েছে কাইল ফিল্ড স্টেডিয়াম

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের কলেজ স্টেশনের বিখ্যাত কাইল ফিল্ড স্টেডিয়ামে এক প্রীতি ম্যাচে ৯১ হাজার ১০২ জন দর্শকের উপস্থিতি ছিল। গেল শুক্রবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে  ‘টুয়েলভথ ম্যানে’র হোম গ্রাউন্ড এক নতুন রূপ ধারণ করে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে ‘রোড টু ২৬’ প্রদর্শনীর অংশ ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ান আর্জেন্টিনা হন্ডুরাসের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলে। 

বিশ্বকাপ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে, স্টেডিয়ামটির ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করে। যা টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে যেকোনো ফুটবল (সকার) ম্যাচের সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড এটি।

টেক্সাসের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা বিশ্ব তারকাদের খেলা দেখতে সমবেত হয়েছিলেন। ফুটবল ও সকারের মধ্যকার মেলবন্ধনটি পুরোপুরিভাবে ফুটে উঠেছিল যখন সুপার বোল চ্যাম্পিয়ন ভন মিলার আনুষ্ঠানিক টসটি সম্পন্ন করেন।

অনেক ভক্তের কাছে ম্যাচটি ছিল ঘরের কাছে বিশ্বমানের ফুটবল দেখার এক বিরল সুযোগ। এ সময় নাভাসোটার বাসিন্দা মিগুয়েল নুনেজ বলেছেন, টেক্সাসে আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়াটা স্থানীয় এবং তরুণ ফুটবল খেলোয়াড়দের জন্য বেশ উত্তেজনা তৈরি করে।

আর্জেন্টিনায় বেড়ে ওঠা ডালাসের বাসিন্দা জুলিয়েটা দেশাইস বলেছেন, টেক্সাসে নিজের মাতৃভূমিকে সমর্থন করার সুযোগটি ছিল অবিস্মরণীয়। ম্যাচের পরবর্তী টেক্সাস সকার দল এএন্ডএমের কোয়ার্টারব্যাক তারকা মার্সেল রিড এবং লিওনেল মেসির সাক্ষাৎও হয়েছিল। যেখানে রিড আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে একটি ১০ নম্বর অ্যাগিস জার্সি উপহার দেন।

এর আগে ২০২৪ সালে মেক্সিকো বনাম ব্রাজিলের ম্যাচে ৮৫,০০০ দর্শকের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যায় এই ম্যাচে।

অভিষেকে ভারতকে জিতিয়ে ম্যাচসেরা কে এই মানব সুতার?

ক্রীড়া ডেস্ক
অভিষেকে ভারতকে জিতিয়ে ম্যাচসেরা কে এই মানব সুতার?
ছবি : বিসিসিআই

ভারতীয় টেস্ট দলে ৩১৯ নম্বর ক্যাপ মাথায় চড়িয়ে আফগানিস্তানে বিরুদ্ধে ঘূর্ণির জাদু দেখালেন রাজস্থানের বাঁহাতি স্পিনার মানব সুতার। ঘরোয়া ক্রিকেট ও গুজরাট টাইটান্সের জার্সিতে নজর কাড়া এই তরুণের বোলিং দক্ষতার নেপথ্যে রয়েছেন কোচ রাহুল দ্রাবিড়।  

ভারতীয় ক্রিকেটে আবিষ্কার আরেক স্পিনারের উত্থান আফগানিদের বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্টে। নিউ চণ্ডীগড়ে অভিষেক টেস্টে ৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা সুতার এখন আলোচনার কেন্দ্রে। টেস্ট অভিষেকের আগে ভারতের ৩১৯ নম্বর ক্যাপটি তাঁর হাতে তুলে দেন কুলদীপ যাদব। 

সতীর্থদের অভিনন্দন আর করতালির মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন রাজস্থানের এই তরুণ। তারপর মাঠে নেমে এমন পারফরম্যান্স, যা তাঁকে সরাসরি জাতীয় আলোচনায় টেনে এনেছে ।

আরো পড়ুন
সাড়ে ৫ ঘণ্টায় ১৫ উইকেট হারিয়ে ভারতের কাছে বিধ্বস্ত আফগানিস্তান

সাড়ে ৫ ঘণ্টায় ১৫ উইকেট হারিয়ে ভারতের কাছে বিধ্বস্ত আফগানিস্তান

 

আফগানদের বিরুদ্ধে শুধু বলে নয়, ব্যাট হাতেও উজ্জ্বল সুতার। প্রথম ইনিংসে ৪১ বলে ২৮ রান করেন। হাঁকান দুটি ছক্কাও। তবে আসল ম্যাজিক বল হাতে। ঘূর্ণির জাল বিস্তারের ফলে আফগান ব্যাটিং লাইনআপকে কার্যত দিশেহারা করে দেন তিনি।

রাজস্থানের ছেলে, আইপিএলেও পরিচিত মুখ

মানবের জন্ম রাজস্থানের গঙ্গানগরে। বাঁহাতে প্রাথাগত স্পিনের পাশাপাশি প্রয়োজনে ব্যাটও পারেন ভালো। ঘরোয়া ক্রিকেটে রাজস্থানের প্রতিনিধি, আইপিএলে তাঁর দল গুজরাট টাইটান্স। ২০২৫ সালের নিলামে ৩০ লক্ষ টাকায় মানবকে কিনে নেয় গুজরাট। আইপিএলে প্রথম সুযোগ পান ২০২৪ সালে। সেই মৌসুমে একটি ম্যাচ খেলেন। এরপর চলতি সিজনে চারটি ম্যাচে সুযোগ, যেখানে ঝুলিতে দুই উইকেট। আইপিএলে খুব বেশি আলোচনায় না এলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স নির্বাচকদের অনেক আগেই নজর কেড়েছিল।

২০২২-২৩ রঞ্জি ট্রফিই ছিল মানব সুতারের বড় ব্রেকথ্রু। সেই মৌসুমে মাত্র ৬ ম্যাচে ৩৯ উইকেট তুলে চমকে দেন ভারতীয় ক্রিকেট অঙ্গনকে। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ইতিমধ্যে ১২০ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। দীর্ঘ স্পেল বল করার ক্ষমতা, টার্ন এবং নিয়ন্ত্রণ—তিন অস্ত্রই তাঁকে আলাদা করেছে। চণ্ডীগড় টেস্টেও এই বৈশিষ্ট্যগুলি দেখা গিয়েছে। আফগান ব্যাটারদের বিরুদ্ধে ধৈর্য ধরে আক্রমণ চালিয়েছেন সমান তালে। শেষ পর্যন্ত তার পুরস্কার ৬ উইকেট।

আরো পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রের রাগবি তারকার কাছ থেকে বিশেষ উপহার পেলেন মেসি

যুক্তরাষ্ট্রের রাগবি তারকার কাছ থেকে বিশেষ উপহার পেলেন মেসি

 

ছিলেন দ্রাবিড়ের নজরেও

জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার অনেক আগেই মানব সুতার রাহুল দ্রাবিড়ের নজরে। কোচ ধীরাজ শর্মার দাবি, সাবেক ক্রিকেটার সুতারের অলরাউন্ড দক্ষতায় মুগ্ধ হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। কোচের বক্তব্য অনুযায়ী, দ্রাবিড় মনে করেছিলেন, দীর্ঘ এবং সফল ক্রিকেট ক্যারিয়ার গড়তে হলে সুতারের আসল মনোযোগ থাকা উচিত ব্যাটিং নয়, বোলিংয়ের উপর।

অভিষেক টেস্ট অন্তত বলছে, টিম ইন্ডিয়ার সাবেক কোচের পরামর্শ গুরুত্ব দিয়েছেন মানব। ৬ উইকেটের পারফরম্যান্স শুধু ইতিবাচক পদক্ষেপ নয়, ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন এক স্পিনারের আগমনের ইঙ্গিতও বটে।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ

‘মিরাজের মতোই অলরাউন্ডার’ মোসাদ্দেক কোন ভূমিকায় খেলবেন

ক্রীড়া প্রতিবেদক
‘মিরাজের মতোই অলরাউন্ডার’ মোসাদ্দেক কোন ভূমিকায় খেলবেন
মেহেদী হাসান মিরাজ (বাঁয়ে) ও মোসাদ্দেক হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

দুজনই অলরাউন্ডার। আরো স্পষ্ট করে বললে দুজনই ডানহাতি অলরাউন্ডার। ব্যাট করেন লোয়ার মিডল অর্ডারে, বোলিংয়ে অবদান রাখেন অফ স্পিনার হিসেবে। 

একই ধরনের দুই অলরাউন্ডারকে সাধারণত একই দলে খেলতে দেখা যায় না। তবে মেহেদী হাসান মিরাজ ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত বাংলাদেশের হয়ে একসঙ্গে খেলে ফেলেছেন ৩৭ ম্যাচ, যার বেশির ভাগই ওয়ানডে। 

তবে এই দুজন দেশের জার্সিতে সর্বশেষ খেলেছেন ২০২২ সালে। এরপর দুজন যেন উল্টো পথের যাত্রী হয়ে পড়েন। মিরাজ নিজেকে প্রমাণ করে এখন ওয়ানডে অধিনায়ক। আর মোসাদ্দেক জাতীয় দলে জায়গা হারিয়ে আবারও ফিরে আসার জন্য লড়াই করেছেন। সেই লড়াইয়ে সফলও হয়েছেন। 

মিরপুরে আগামীকাল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শুরু হতে চলা ওয়ানডে সিরিজের বাংলাদেশ স্কোয়াডে আছেন মোসাদ্দেক। এই সিরিজ দিয়েই প্রায় ৪ বছর পর জাতীয় দলে ফিরছেন তিনি। 

মিরাজ-মোসাদ্দেক যেহেতু আবার একসঙ্গে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন, তাহলে এবার কার ভূমিকা কী হবে? মিরপুর শের-ই-বাংলায় আজ ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মিরাজ উত্তরটা দিলেন এভাবে, ‘আমি আর মোসাদ্দেক কিন্তু একসঙ্গে বাংলাদেশ দলে অনেক দিন খেলেছি। ২০১৯ বিশ্বকাপেও আমরা একসঙ্গে খেলেছি। আমার কাছে মনে হয়, এটা কোনো ভিন্ন ইস্যু নয়। মোসাদ্দেক তার ভূমিকা পালন করবে, আমি আমার কাজ করব। মোসাদ্দেক ব্যাটিং অলরাউন্ডার, আমি বোলিং অলরাউন্ডার। দুজনের ভূমিকাটা আলাদা।’

ঘরোয়া ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ পারফর্ম করায় মোসাদ্দেককে আর জাতীয় দলে উপেক্ষা করার উপায় ছিল না। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) গত মৌসুমে আবাহনীকে শিরোপা জেতাতে বড় অবদান রাখেন। ব্যাটিংয়ে ৪৮.৭০ গড় ও ১০৬.৩৩ স্ট্রাইক রেটে করেন ৪৮৭ রান। বল হাতে নেন ৩০ উইকেট। ডিপিএলের চলতি মৌসুমে ভালো করেছেন। ৭৭.৫০ গড় ও ১২৯.১৬ স্ট্রাইক রেটে তার রান ৩১০, উইকেট ১২টি। 

মোসাদ্দেকের এই ছন্দ জাতীয় দলেও চান মিরাজ, ‘আমার কাছে মনে হয়, সে যদি পারফর্ম করতে পারে, এটা আমার জন্য এবং দলের জন্য বিরাট সহায়ক হবে। দিনশেষে আমরা সবাই চিন্তা করি যে দলটাকে কোন জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়। যেভাবে সে ঘরোয়ায় পারফর্ম করেছে, তাকে নিয়ে আমি অনেক আত্মবিশ্বাসী। যদি সুযোগ আসে, আশা করি সে ভালো করবে।’

মিরপুরে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া প্রথম ওয়ানডে শুরু আগামীকাল সকাল ১১টায়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় করতে সব ম্যাচ দিনের আলোয় আয়োজন করছে বিসিবি।