• ই-পেপার

অভিষেকে ভারতকে জিতিয়ে ম্যাচসেরা কে এই মানব সুতার?

‘এবারও মেসির হাতেই বিশ্বকাপ’

ক্রীড়া ডেস্ক
‘এবারও মেসির হাতেই বিশ্বকাপ’
আর্জেন্টিনার সাবেক ফরোয়ার্ড সার্জিও আগুয়েরোর ঘাড়ে ট্রফি হাতে মেসি। ছবি : এক্স থেকে

‘অমরত্বের প্রত্যাশা নেই, নেই কোনো দাবিদাওয়া, এই নশ্বর জীবনের মানে শুধু তোমাকেই চাওয়া’—কাতার বিশ্বকাপের আগে জনপ্রিয় শিল্পী কবির সুমনের এই গানের মতোই ছিল লিওনেল মেসির চাওয়া। ব্যক্তিগত সব কিছু জিতলেও বিশ্বকাপের ছোঁয়া তখন ছিল অধরা। অবশেষে ২০২২ বিশ্বকাপে সেই স্বাদ পেলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।

মেসির এই স্বাদকে অমরত্বের সঙ্গে তুলনা করেছেন জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার পিটার ডুরি। ফ্রান্সকে হারিয়ে ৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিশ্বকাপ নিশ্চিত হতেই তার কণ্ঠে শোনা যায়, ‘শেষ চূড়া জিতে অমরত্বের স্বাদ পেয়েছে মেসি।’

এক জীবনে তাই আর কোনো কিছু পাওয়ার বাকি নেই মেসির। তাহলে ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে আজন্ম স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পরও কেন থামলেন না মেসি? ৪ বছর পর কেন-ই-বা নামছেন আরেকটি বিশ্বকাপে। সব কিছুর উত্তর যেন ‘ক্ষুধা’ শব্দটিতে। ‘হে মহাজীবন’ কবিতায় কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তো বলেই গেছেন ‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি’। 

আরাধ্য ট্রফি জয়ের পরও তাই মেসির ‘ক্ষুধা’ এখনো শেষ হয়নি। ক্ষুধা শেষ হলে সাবেক সতীর্থ আনহেল দি মারিয়ার সঙ্গেই নিজের বুটজোড়া তুলে রাখতেন তিনি। ক্যারিয়ারের শেষটা তাই রাঙানোর অপেক্ষায় আছেন ৮ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। ‘শেষ রাতে ওস্তাদের মাইর’ দেখানোর প্রতীক্ষা যারে বলে। ৩৮ বছর বয়সী শিষ্য তা দেখাতে পারবেন এমন বিশ্বাস আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ পাবলো আইমারেরও। মেসির শৈশবের আইডল বলেছেন, ‘সর্বশেষ মেসিই সেরা মেসি।’

বয়স হওয়ার কারণে বনের রাজা খ্যাত সিংহ যেমন করেন, ঠিক তেমনি কৌশলে পরিবর্তন এনেছেন মেসিও। মাঠে কম দৌড়ে খেলা নিয়ন্ত্রণে মনোযোগী এখন তিনি। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে গেল কয়েক বছর ধরে সেই কাজটা করে আসছেন তিনি। মাঠের পজিশনেও কিছুটা পরিবর্তন এনেছেন। এখন মাঝমাঠ নয়, একটু উপরেই খেলেন তিনি। যেন জমানো শক্তিতে ‘ঝোপ বুঝে কোপ মারতে’ পারেন ইন্টার মায়ামির অধিনায়ক।

বিশ্বকাপের জন্যই নিজেকে প্রস্তুত করেছেন মেসি, এমনটা তার মুখে শোনা না গেলেও সেটা নিশ্চিত করেছেন রদ্রিগো দি পল। দল ঘোষণার আগে তার জাতীয় ও ক্লাব সতীর্থ মিডফিল্ডার বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বকাপের জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছি। গত দুই-তিন মাস ধরে ক্লাবের অনুশীলনের পাশাপাশি আমরা প্রতিদিন আলাদা অনুশীলন করছি। সেরা ফিটনেসের জন্যই লিও এবং আমি সর্বোচ্চটা উজাড় করে দিচ্ছি। বিশ্বকাপের ভাবনা ছাড়া কি আর থাকা যায়।’

বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পাওয়ায় এখন মানসিকভাবে চাপহীন এবং নির্ভার মেসি। সঙ্গে তার ওপর থেকে অনেকটাই নির্ভরতা কমিয়ে দিয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনিও। কাতার বিশ্বকাপে খেলা তার অন্য শিষ্যরা এখন তরুণ থেকে অভিজ্ঞ হয়েছে। শুধু অভিজ্ঞই নন, ইউরোপীয় ফুটবল মাতাচ্ছেনও তারা। অভিজ্ঞতার প্রমাণ বাছাই পর্ব ও প্রীতি ম্যাচে দিয়েছেন তারা। কনমেবলের বাছাইপর্বে সর্বোচ্চ ৩৮ পয়েন্ট এনে দিয়ে। বড় উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে, সর্বশেষ কোপা আমেরিকার ফাইনালে অর্ধেকের মতো সময় মেসিকে ছাড়াই খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। ২০২২ বিশ্বকাপে খেলা ১৬ জন এবারও স্কোয়াডে আছেন। গতবারের বিশ্বকাপ খেলা খেলোয়াড়দের ধরে রাখার দিক থেকে সর্বোচ্চ। নিজেদের বোঝাপড়াটা তাই আরও পাকাপোক্তই হয়েছে।

মেসিদের বিশ্বকাপ ধরে রাখতে সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের পারফরম্যান্স। সর্বশেষ কোপা আমেরিকায় আলবিসেলেস্তরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশেই। দলের বড় সুপারস্টার মেসি তো গত ৩ বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে খেলছেন। গত বছর ইন্টার মায়ামিতে নিয়ে এসেছেন দি পলকেও। তাতে কিছুটা বলা যায় ‘ঘরের মাঠেই’ খেলবেন মেসি-দি পলরা।

ক্ষুধা কিভাবে নিবারণ করতে হয় তা ভালো জানেন মেসি। তা না হলে ফুটবলের অধিকাংশ রেকর্ডে তার নাম থাকার কথা ছিল না। যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকো বিশ্বকাপে তালিকাটা আরও দীর্ঘ করার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে বিশ্বের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড গড়বেন তিনি। ইতিমধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৬ ম্যাচ খেলা মেসি এবারের বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ডটাও নিজের করে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ৪ গোল করতে পারলেই জার্মানির সাবেক ফরোয়ার্ড মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড নিজের করে নেবেন মেসি।

বিশ্বকাপ জিততে পারলে আর্জেন্টিনার সঙ্গে নিজেও রেকর্ডের ছোট্ট তালিকায় জায়গা পাবেন মেসি। এখন পর্যন্ত টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড আছে শুধু ইতালি ও ব্রাজিলের। ইতালির ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালের বিপরীতে ব্রাজিল জিতেছে ১৯৫৮ ও ১৯৬২ বিশ্বকাপে। আর মেসি জায়গা পাবেন টানা দুই বিশ্বকাপ জেতা খেলোয়াড়দের তালিকায়। এখন পর্যন্ত ব্রাজিল-ইতালি মিলিয়ে ১৮ জন জিতেছেন। এর মধ্যে ‘কালা মানিক’ পেলেও টানা দুইবারের সঙ্গে বিশ্বের একমাত্র ফুটবলার হিসেবে সর্বোচ্চ ৩ বার বিশ্বকাপ জিতেছেন। 

কীর্তি গড়ার নজির তাই মেসির সামনে আছেই। আরও কিছু নজির তাকে বিশ্বকাপ জয়ের অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে। তার সঙ্গে বার্সেলোনায় জুটি বেঁধে কখনোই চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে না পারা উসমান দেম্বেলে পিএসজির হয়ে টানা দুইবার ট্রফি জিতেছেন। অথচ, মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের ট্রফি জেতার জন্যই চাঁদের হাট বসিয়েছিল ফ্রান্সের ক্লাবটি। সেই চাঁদের হাটে ছিলেন ‘দ্বিতীয় ঘর’ বার্সা ছেড়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে-নেইমারের সঙ্গে জুটি বাঁধা মেসি। ক্লাব ইতিহাসের ৫৫ বছরের মধ্যে ২০২৫ সালে প্রথমবার জিতেছিল পিএসজি। এ বছর আর্সেনালকে হারিয়ে দ্বিতীয়টি জিতেছে তারা।

সময়ের হিসেবে আর্জেন্টিনার তৃতীয় শিরোপাও অনেকটা একইভাবে আসে। সর্বশেষ শিরোপা জিততে ৩৬ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে তাদের। এ তো গেল ফুটবলের, চলুন ক্রিকেটের গল্পটাও মিলাই। মেসি যেমন ফুটবলের ‘গোট’ ঠিক তেমনি ক্রিকেটে বিরাট কোহলি। দেশের হয়ে সবকিছু জিতলেও আইপিএলের ট্রফিটায় চুমু এঁকে দেওয়া হচ্ছিল না কোহলির। ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসে সেই অপেক্ষা ফুরালেন ভারতীয় কিংবদন্তি। ২০২৫ আইপিএলে রয়্যাল চালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে শুধু প্রথমটাই জিতেননি, এ বছর ট্রফিটা ধরে রেখেছে তার দল। 

দেম্বেলে-কোহলির পর তাই পালাটা এবার মেসির। সঙ্গে পিএসজি-বেঙ্গালুরুর মতো লক্ষ্য থাকছে আর্জেন্টিনারও! আত্মবিশ্বাসী আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিও, ‘আমরা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন, ধরে রাখার সুযোগ পাওয়াটা তাই দারুণ এক ব্যাপার। জাতীয় দলের হয়ে খেলা সবসময় স্বপ্নের, বিশেষ করে অফিসিয়াল টুর্নামেন্টগুলোতে। আশা করি, ঈশ্বর আমাকে আরও একবার এমনটা করার সুযোগ দেবেন।’

মেসি বিশ্বকাপ জিতবেন মনে করেন পাবলো জাবালেতাও। আর্জেন্টিনার সাবেক ডিফেন্ডার বলেছেন, ‘আমাদের মেসির খেলা উপভোগ করা উচিত। কারণ এটিই হতে পারে তার শেষ বিশ্বকাপ। আশা করি, ম্যাচ এবং বিশ্বকাপ জয়ের জাদুকরী মুহূর্ত তার মধ্যে এখনও বাকি আছে।’

অনেক অসম্ভবকে যেহেতু সম্ভব করেছেন মেসি, এবারও পারবেন এমন বিশ্বাস তার ভক্ত-সমর্থকদের! আর কথায় আছে বিশ্বাসে মেলায় বস্তু।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ

‘মিরাজের মতোই অলরাউন্ডার’ মোসাদ্দেক কোন ভূমিকায় খেলবেন

ক্রীড়া প্রতিবেদক
‘মিরাজের মতোই অলরাউন্ডার’ মোসাদ্দেক কোন ভূমিকায় খেলবেন
মেহেদী হাসান মিরাজ (বাঁয়ে) ও মোসাদ্দেক হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

দুজনই অলরাউন্ডার। আরো স্পষ্ট করে বললে দুজনই ডানহাতি অলরাউন্ডার। ব্যাট করেন লোয়ার মিডল অর্ডারে, বোলিংয়ে অবদান রাখেন অফ স্পিনার হিসেবে। 

একই ধরনের দুই অলরাউন্ডারকে সাধারণত একই দলে খেলতে দেখা যায় না। তবে মেহেদী হাসান মিরাজ ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত বাংলাদেশের হয়ে একসঙ্গে খেলে ফেলেছেন ৩৭ ম্যাচ, যার বেশির ভাগই ওয়ানডে। 

তবে এই দুজন দেশের জার্সিতে সর্বশেষ খেলেছেন ২০২২ সালে। এরপর দুজন যেন উল্টো পথের যাত্রী হয়ে পড়েন। মিরাজ নিজেকে প্রমাণ করে এখন ওয়ানডে অধিনায়ক। আর মোসাদ্দেক জাতীয় দলে জায়গা হারিয়ে আবারও ফিরে আসার জন্য লড়াই করেছেন। সেই লড়াইয়ে সফলও হয়েছেন। 

মিরপুরে আগামীকাল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শুরু হতে চলা ওয়ানডে সিরিজের বাংলাদেশ স্কোয়াডে আছেন মোসাদ্দেক। এই সিরিজ দিয়েই প্রায় ৪ বছর পর জাতীয় দলে ফিরছেন তিনি। 

মিরাজ-মোসাদ্দেক যেহেতু আবার একসঙ্গে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন, তাহলে এবার কার ভূমিকা কী হবে? মিরপুর শের-ই-বাংলায় আজ ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মিরাজ উত্তরটা দিলেন এভাবে, ‘আমি আর মোসাদ্দেক কিন্তু একসঙ্গে বাংলাদেশ দলে অনেক দিন খেলেছি। ২০১৯ বিশ্বকাপেও আমরা একসঙ্গে খেলেছি। আমার কাছে মনে হয়, এটা কোনো ভিন্ন ইস্যু নয়। মোসাদ্দেক তার ভূমিকা পালন করবে, আমি আমার কাজ করব। মোসাদ্দেক ব্যাটিং অলরাউন্ডার, আমি বোলিং অলরাউন্ডার। দুজনের ভূমিকাটা আলাদা।’

ঘরোয়া ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ পারফর্ম করায় মোসাদ্দেককে আর জাতীয় দলে উপেক্ষা করার উপায় ছিল না। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) গত মৌসুমে আবাহনীকে শিরোপা জেতাতে বড় অবদান রাখেন। ব্যাটিংয়ে ৪৮.৭০ গড় ও ১০৬.৩৩ স্ট্রাইক রেটে করেন ৪৮৭ রান। বল হাতে নেন ৩০ উইকেট। ডিপিএলের চলতি মৌসুমে ভালো করেছেন। ৭৭.৫০ গড় ও ১২৯.১৬ স্ট্রাইক রেটে তার রান ৩১০, উইকেট ১২টি। 

মোসাদ্দেকের এই ছন্দ জাতীয় দলেও চান মিরাজ, ‘আমার কাছে মনে হয়, সে যদি পারফর্ম করতে পারে, এটা আমার জন্য এবং দলের জন্য বিরাট সহায়ক হবে। দিনশেষে আমরা সবাই চিন্তা করি যে দলটাকে কোন জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়। যেভাবে সে ঘরোয়ায় পারফর্ম করেছে, তাকে নিয়ে আমি অনেক আত্মবিশ্বাসী। যদি সুযোগ আসে, আশা করি সে ভালো করবে।’

মিরপুরে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া প্রথম ওয়ানডে শুরু আগামীকাল সকাল ১১টায়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় করতে সব ম্যাচ দিনের আলোয় আয়োজন করছে বিসিবি।

বিসিবি পরিচালক হওয়ার পরদিনই প্রতিমন্ত্রীর ছেলের পদত্যাগ

বগুড়া প্রতিনিধি
বিসিবি পরিচালক হওয়ার পরদিনই প্রতিমন্ত্রীর ছেলের পদত্যাগ
পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন মীর সীমান্ত। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক নির্বাচিত হলেও দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন—কয়েক দিন আগে কালের কণ্ঠকে এ কথা জানিয়েছিলেন মীর শাকরুল আলম সীমান্ত। নির্বাচিত হওয়ার পর সেই কথা রাখলেন তিনি। 

বিসিবির নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের ২৪ ঘণ্টাও হয়নি। এরই মধ্যে পদত্যাগ করলেন মীর সীমান্ত। আজ সোমবার (৮ জুন) নতুন বোর্ডপ্রধান তামিম ইকবাল বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন বগুড়ার এই ক্রীড়া সংগঠক। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি ব্যাবসায়িক ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করেন। 

মীর সীমান্ত ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ছেলে। মীর শাহে আলম নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও লিমিটেড কম্পানির শেয়ারসহ সার্বিক দায়িত্ব পালন করছেন তার ছেলে মীর সীমান্ত।

বর্তমানে একাধিক ফিলিং স্টেশন, অটো রাইস মিল, পুষ্টি চালের কার্নেল ফ্যাক্টরি, আয়োডিন ফ্যাক্টরি, পুষ্টি মিশ্রণ ফ্যাক্টরি, মিনি কোল্ড স্টোরেজ, কৃষি খামার, প্রাণী খামার, ফ্লাওয়ার মিলসহ আরো কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরাসরি তদারকি করছেন মীর সীমান্ত।

পদত্যাগপত্রে মীর সীমান্ত লিখেছেন, ‘বিসিবি নির্বাচনে রাজশাহী অঞ্চল থেকে আমি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হয়েছি। তবে আমার বাবা সরকারের প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় বর্তমানে পারিবারিক ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আমার ওপর ন্যস্ত রয়েছে। এ কারণে বিসিবির মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠানে পরিচালকের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না।’

মীর সীমান্ত আরো উল্লেখ করেছেন, দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে এবং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ বিবেচনায় তিনি পরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের জন্য বিসিবি সভাপতির (তামিম ইকবাল) প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

সাড়ে ৫ ঘণ্টায় ১৫ উইকেট হারিয়ে ভারতের কাছে বিধ্বস্ত আফগানিস্তান

ক্রীড়া ডেস্ক
সাড়ে ৫ ঘণ্টায় ১৫ উইকেট হারিয়ে ভারতের কাছে বিধ্বস্ত আফগানিস্তান
ছবি : বিসিসিআই

আফগানিস্তানকে একমাত্র টেস্টে আড়াই দিনে ইনিংস এবং ৩০০ রানের ব্যবধানে হারাল ভারত।  ভারতের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয় এটি। ভারতের ৫৬৪ রানের জবাবে আফগানিস্তান দুই ইনিংসে করেছে ১৫২ এবং ১১২ রান। অভিষেক টেস্টেই ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পেয়েছেন মানব সুতার।

সোমবার (৮ জুন) নিউ চণ্ডীগড়ে রেকর্ড জয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ইনিংস এবং ২৭২ রানে হারানোকে পেছনে ফেলল গাম্ভীরের শিষ্যরা। আর তৃতীয় স্থানে চলে গেল ২০১৮ সালে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ইনিংস এবং ২৬২ রানের জয়।

তৃতীয় দিনের শুরুতে মাঠে নামার আগে ভারতের টেস্ট জয় ছিল সময়ের ব্যাপার। জয় নিয়ে কোনো সংশয় ছিল না ক্রিকেটপ্রেমীদেরও। তবে কত বড় ব্যবধানে জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা সেটাই ছিল দেখার বিষয়। 

তৃতীয় দিনে ৫ উইকেটে ১১৩ রান নিয়ে খেলা শুরু করে আফগানরা। ৪৩ রানে ব্যাট অপরাজিত রহমত শাহ ক্রিজে মাটি আকড়ে থাকলেও বাকি ছিল যাওয়া-আসার মিছিলে। ভারতীয় বোলিং আক্রমণে আজমতুল্লা (০), শরফুদ্দিন (১১), সালিম (০), জিয়াউর (৬) রানে আউট হন। ইনিংসে সর্বোচ্চ ৬০ রান করেন রহমত শাহ। তাতে ১৫২ রানে শেষ হয়ে যায় আফগানদের প্রথম ইনিংস। ভারতের সফলতম বোলার অভিষেককারী সুতার। প্রথম ইনিংসে ৩৩ রানে ৬ উইকেট নেন তিনি। এ ছাড়া ৩৭ রানে ৩ উইকেট প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের। ২১ রানে ১ উইকেট নেন ওয়াশিংটন সুন্দর।

৪১২ রানে পিছিয়ে থাকা সফরকারীদের ফলোঅন করায় ভারত। দ্বিতীয় ইনিংসেও উল্লেখ লড়াই করতে পারেননি কোনো ব্যাটারই। ওপেনার সেদিকুল্লা অটল করেন ৪২। এছাড়া তিন নম্বরে নামা রহমানুল্লা গুরবাজের অবদান ২৪। বাকিরা কেউ দাঁড়াতেই পারেননি। আবদুল মালিক (৮), রহমত শাহ (১৩), হাসমতুল্লা শাহিদি (৫), আফসর জাজাই (৮), ওমরজাই (৪) রানে দ্রুত ফিরে যান সাজঘরে। ১০৬ রানে আফগানিস্তানের ৭ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ভারতের জয় ছিল সময়ের অপেক্ষা। তার ওপর চোটের জন্য ব্যাট করতে নামতে পারেনি আশরাফ।

স্কোর বোর্ডে আর কোনো রান যোগ করতে পারেননি শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে নামা পেসার সালিশ। তিনি ইনিংসের ৩৬তম ওভারে শূন্য রানে কুলদীপের বলে সুদর্শনের তালুবন্দি হলে ইনিংস ও ৩০০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারে আফগানরা।
 
দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের সফলতম বোলার ওয়াশিংটন সুন্দর ৩৬ রানে তুলে নেন ৪ উইকেট। ৩০ রানে ৩ উইকেট নেন কুলদীপ যাদব। ২৯ রানে ১ উইকেট সুতারের। এ ছাড়া মহম্মদ সিরাজ ১১ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন।