দুজনই অলরাউন্ডার। আরো স্পষ্ট করে বললে দুজনই ডানহাতি অলরাউন্ডার। ব্যাট করেন লোয়ার মিডল অর্ডারে, বোলিংয়ে অবদান রাখেন অফ স্পিনার হিসাবে।
একই ধরনের দুই অলরাউন্ডারকে সাধারণত একই দলে খেলতে দেখা যায় না। তবে মেহেদী হাসান মিরাজ ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত বাংলাদেশের হয়ে একসঙ্গে খেলে ফেলেছেন ৩৭ ম্যাচ, যার বেশিরভাগই ওয়ানডে।
তবে এই দুজন দেশের জার্সিতে সর্বশেষ খেলেছেন ২০২২ সালে। এরপর দুজন যেন উল্টো পথের যাত্রী হয়ে পড়েন। মিরাজ নিজেকে প্রমাণ করে এখন ওয়ানডে অধিনায়ক। আর মোসাদ্দেক জাতীয় দলে জায়গা হারিয়ে আবারো ফিরে আসার জন্য লড়াই করেছেন। সেই লড়াইয়ে সফলও হয়েছেন।
মিরপুরে আগামীকাল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শুরু হতে চলা ওয়ানডে সিরিজের বাংলাদেশ স্কোয়াডে আছেন মোসাদ্দেক। এই সিরিজ দিয়েই প্রায় ৪ বছর পর জাতীয় দলে ফিরছেন তিনি।
মিরাজ-মোসাদ্দেক যেহেতু আবার একসঙ্গে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন, তাহলে এবার কার ভূমিকা কী হবে? মিরপুর শের-ই-বাংলায় আজ ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মিরাজ উত্তরটা দিলেন এভাবে, ‘আমি আর মোসাদ্দেক কিন্তু একসঙ্গে বাংলাদেশ দলে অনেকদিন খেলেছি। ২০১৯ বিশ্বকাপেও আমরা একসঙ্গে খেলেছি। আমার কাছে মনে হয়, এটা কোনো ভিন্ন ইস্যু নয়। মোসাদ্দেক তার ভূমিকা পালন করবে, আমি আমার কাজ করব। মোসাদ্দেক ব্যাটিং অলরাউন্ডার, আমি বোলিং অলরাউন্ডার। দুজনের ভূমিকাটা আলাদা।’
ঘরোয়া ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ পারফর্ম করায় মোসাদ্দেককে আর জাতীয় দলে উপেক্ষা করার উপায় ছিল না। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) গত মৌসুমে আবাহনীকে শিরোপা জেতাতে বড় অবদান রাখেন। ব্যাটিংয়ে ৪৮.৭০ গড় ও ১০৬.৩৩ স্ট্রাইক রেটে করেন ৪৮৭ রান। বল হাতে নেন ৩০ উইকেট। ডিপিএলের চলতি মৌসুমে ভালো করেছেন। ৭৭.৫০ গড় ও ১২৯.১৬ স্ট্রাইক রেটে তার রান ৩১০, উইকেট ১২টি।
মোসাদ্দেকের এই ছন্দ জাতীয় দলেও চান মিরাজ, ‘আমার কাছে মনে হয়, সে যদি পারফর্ম করতে পারে, এটা আমার জন্য এবং দলের জন্য বিরাট সহায়ক হবে। দিন শেষে আমরা সবাই চিন্তা করি যে, দলটাকে কোন জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়। যেভাবে সে ঘরোয়ায় পারফর্ম করেছে, তাকে নিয়ে আমি অনেক আত্মবিশ্বাসী। যদি সুযোগ আসে, আশা করি সে ভালো করবে।’
মিরপুরে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া প্রথম ওয়ানডে শুরু আগামীকাল সকাল ১১টায়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় করতে সব ম্যাচ দিনের আলোয় আয়োজন করছে বিসিবি।





