• ই-পেপার

টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলে রেললাইনের পাশ থেকে ২ নারীর মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন বিরোধী মানববন্ধন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন বিরোধী মানববন্ধন
সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিশু ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন বিরোধী সামাজিক আন্দোলন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ব্যানারে শনিবার বেলা ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

উদীচী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা সভাপতি জহিরুল ইসলাম স্বপনের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক ফরহাদুল ইসলাম পারভেজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আহ্বায়ক সাংবাদিক আবদুন নূর, অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিলাল বণিক, জেলা সিপিবির সভাপতি সাজিদুল ইসলাম, জেলা নাগরিক কমিটির সহসভাপতি আব্দুস সালাম, জেলা নারীমুক্তি সংসদের সভাপতি ফজিলাতুন নাহার, জেলা উদীচীর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ ভূঁইয়া, জেলা ঐক্য ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক আবু কালাম নাঈম, জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাথী চৌধুরী, সরাইল উপজেলা কমিউিনিস্ট লীগের সম্পাদক আবদুস সোবহান মাখন, শ্রমিক নেতা মো. আল আমীন, আইনজীবী সহকারী কুঞ্জ মোহন ঋষি, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের আহ্বায়ক ওমর ফারুক, জেলা ছাত্রমৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ প্রমুখ। 

এ সময় সাম্প্রতিক ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনাবলী দ্রুততম সময়ে বিচারকাজ সম্পন্ন করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব চত্বরে এসে শেষ হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশে দেশব্যাপী আশঙ্কাজনক হারে শিশু ও নারী ধর্ষণসহ যৌন নিপীড়নের ঘটনায় গভীর উদ্বেগের পাশাপাশি এসব নারকীয় ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান বক্তারা। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনাবলীর দ্রুততম সময়ে বিচারকার্য সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়।

নকলা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আটক

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি
নকলা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আটক
ছাত্রলীগ নেতা মুজিবুল আজাদ ডেবিট। সংগৃহীত ছবি

শেরপুরের নকলা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল আজাদ ডেবিটকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (৮ জুন) রাত সাড়ে ৭টার দিকে নকলা পৌর শহরের শুঁটকি মহল্লায় নিজ বাসভবন থেকে তাকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর বড় ভাই ও নকলা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার ফরিদুল হক ফরিদ।

তিনি জানান, মুজিবুল আজাদ ডেবিট নকলা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। গত ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে এলে সোমবার রাতে পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যায়। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা রয়েছে বলে পরিবারের জানা নেই। এর আগের রাতেও পুলিশের একটি দল তাদের বাড়িতে গিয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল আজাদ ডেবিটকে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

লক্ষ্মীপুরে শিক্ষকের ইজারা নেওয়া জমি বিএনপি নেতার দখলে

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরে শিক্ষকের ইজারা নেওয়া জমি বিএনপি নেতার দখলে
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে তোরাবগঞ্জ বাজারে স্কুল শিক্ষকের নামে ইজারাকৃত পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখল করে বিএনপি নেতার দোকান নির্মাণ। ছবি : কালের কণ্ঠ।

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে তোরাবগঞ্জ বাজারে অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষকের নামে ইজারাকৃত পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে  বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। তোরাবগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক ব্যবসায়ী মোছলেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী শিক্ষক আলী আকবর। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে দুটি টিনসেট দোকানঘর নির্মাণ করেছেন ওই বিএনপি নেতা।

এদিকে ঘটনার প্রতিকার চেয়ে শিক্ষক আকবর লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। 

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ৩ জন ব্যবসায়ী জানায়, সরকার পরিবর্তনের পর মোছলেহ উদ্দিন তোরাবগঞ্জ বাজারের একাধিক স্থানে পাউবো’র জায়গায় মাটি ভরাটসহ দখল করেছেন। পূর্ব বাজারে পাউবোর জমিতে একটি মাদরাসা বসিয়ে প্রায় ৪০ শতক একটি খাল ভরাট করে ফেলেছেন। এতে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। সবশেষ তিনি উপজেলার দক্ষিণ চরমার্টিন এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আকবরের নামে ইজারাকৃত জমি দখল করে দোকান নির্মাণ করেছেন।

অভিযোগে আলী আকবর উল্লেখ করেন, ১৯৭৫ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে তিনি তফসিলভুক্ত একটি ভূমি ইজারা গ্রহণ করেন। এরপর থেকেই নিয়মিত সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করেও আসছেন। লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়কের তোরাবগঞ্জ উত্তর বাজারে সড়কের পূর্ব পাশে তার দোকানঘরের জায়গাটি দীর্ঘ দিন খালি পড়ে ছিল। বিএনপি নেতা মোছলেহ উদ্দিন গত ঈদুল আযহার বন্ধের সুযোগে তার ইজারাকৃত জমিটি রাতের আঁধারে দখল করে। পরে সেখানে দুটি দোকানঘর নির্মাণ করেন। ঈদের ছুটির পর এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এরপর ঘটনাটি শিক্ষককের নজরে আসলে তাৎক্ষণিক তিনি জেলা প্রশাসক এবং কমলনগর থানায় অভিযোগ দাখিল করেন।

আলী আকবর বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপি নেতার বড় ভাই কৃষক লীগ নেতা আজিজুল হক ফারুক একই কায়দায় ২০০৯ সালের ২০ জুন ওই জমিটি দখলের চেষ্টা করেন। সে সময়েও বর্তমান এমপি এবং লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপারের নিকট অভিযোগ দিলে ফারুক মুচলেকা দিয়ে থেকে সরে যান। এখন ক্ষমতার পালাবদলে এবার বিএনপির নাম ভাঙিয়ে ওই জমিতে দোকানঘর তৈরি করেছেন।’

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মোছলেহ উদ্দিন বলেন, ‘তোরাবগঞ্জ বাজারে অধিকাংশ দোকানপাটই পাউবোর জমিতে। আর জমিটি পাউবো থেকে আমাদের লীজ নেওয়া আছে।

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ-উজ জামান খান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। বিস্তারিত জানা ছাড়া কিছু বলা যাচ্ছে না।’

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসানের মোবাইলফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

পুলিশ পরিচয়ে অপহরণচেষ্টায় দুজন কারাগারে

বারহাট্টা  (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি
পুলিশ পরিচয়ে অপহরণচেষ্টায় দুজন কারাগারে
সংগৃহীত ছবি

পুলিশ পরিচয়ে নেত্রকোনার বারহাট্টা থেকে সোহরাব হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। 

সোমবার (৮ জুন) দুপুরের দিকে আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে গতকাল রবিবার নেত্রকোনার ভারতীয় সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা উপজেলার আটবাড়িবাজার থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে বারহাট্টা থানায় পাঠায় কলমাকান্দা থানার পুলিশ। 

সোহরাব হোসেন (২৮) বারহাট্টা উপজেলার চন্দ্রপুর-পালপাড়া গ্রামের ওয়ারেছ আলীর ছেলে।

গ্রেফতাররা হলেন নেত্রকোনা সদর উপজেলার ঠাকুরাকোণা ইউনিয়নের ঠাকুরাকোণা গ্রামের সুজাত মিয়া (৩৩) ও সিজন মিয়া (৩৫)। 

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে ৪ জন জ্ঞাত ও ২ থেকে ৩ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে বারহাট্টা থানায় মামলা করেছেন।

মামলার অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, পালপাড়া গ্রামের মামুন (৩৫) নামের এক ব্যক্তি সোহরাব হোসেনকে তার বাড়িতে ঝগড়া লাগার মিথ্যা অজুহাতে  দ্রুত বাড়ি ফিরতে ফোন করেন। সোহরাব হোসেন এলাকার নৈহাটীবাজারে দোকান পরিচালনা করেন। মামুনের ফোন পেয়ে বাড়ি আসার পথে দুটি মোটর সাইকেল আরোহী ৫ ব্যক্তি সোহরাব হোসেনের গতিরোধ করে এবং হ্যান্ডকাপ দিয়ে মাথায় আঘাত করে। তার নামে ওয়ারেন্ট আছে বলে দ্রুত গাড়িতে উঠায়। ওদের হেলমেট ও মোটরসাইকেলের পেছনে পুলিশ লেখা ছিল। পুলিশ পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা সোহরাব হোসেনকে মারধর করে জোর করে ওদের মোটরসাইকেলের চড়ায়। পরে কলমাকান্দা উপজেলার প্রত্যন্ত আটবাড়িবাজার এলাকায় একটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে তার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। জীবন বাঁচানোর তাগিতে সোহরাব হোসেন ওদের টাকা দিতে চাইলে একপর্যায়ে তাকে আটবারিবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে  কৌশলে স্থানীয়দের কাছে নিজের অপহরণের ঘটনা জানান তিনি। স্থানীয়রা সুজাত মিয়া ও সিজন মিয়াকে একটি মোটরসাইকেলসহ আটকে রেখে পুলিশে খবর পাঠান। পরে কলমাকান্দা পুলিশ এসে সোহরাব হোসেনকে উদ্ধার ও ওই দুজনকে আটক করে।

বারহাট্টা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) চম্পক দাম বলেন, পুলিশ সেজে অপহরণের ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তার ও প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে জোর তৎপরতা চলছে।