চ্যাটজিপিটি, ক্লড ও জেমিনির মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক চ্যাটবটের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নতুন নিয়ম আনার কথা ভাবছে যুক্তরাজ্য। বিশেষ করে মানুষ আর্থিক পরামর্শ নেওয়ার ক্ষেত্রে এসব এআই টুলের ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
সোমবার (৬ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।
সোমবার যুক্তরাজ্যের ফাইন্যান্সিয়াল কন্ডাক্ট অথরিটি (এফসিএ)-এর নির্বাহী পরিচালক শেলডন মিলস বলেন, চ্যাটজিপিটি, ক্লড ও জেমিনির মতো সাধারণ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত বড় ভাষা মডেল (লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল) বর্তমানে কোনো নির্দিষ্ট আর্থিক নিয়ন্ত্রণের আওতায় নেই। কিন্তু এগুলোর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তাই এগুলোকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা প্রয়োজন কি না, তা আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে পর্যালোচনা করা উচিত।
এফসিএর এক পর্যালোচনায় দেখা যায়, যুক্তরাজ্যের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি মানুষ আর্থিক পরামর্শের জন্য চ্যাটজিপিটি, ক্লড বা জেমিনির মতো এআই টুলের ওপর আস্থা রাখছেন। তবে অনেকেই জানেন না, এসব এআই থেকে পাওয়া পরামর্শ নিয়ন্ত্রিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরামর্শের মতো আইনি সুরক্ষার আওতায় পড়ে না।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮১ শতাংশ আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোনো না কোনোভাবে এআই ব্যবহার করছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বড় পরিসরে এআই প্রযুক্তি কাজে লাগাচ্ছে।
শুরুতে এআই মূলত অফিসের অভ্যন্তরীণ কাজেই ব্যবহৃত হলেও, এখন যুক্তরাজ্যের অনেক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের অভিযোগ নিষ্পত্তি, বিনিয়োগ-সংক্রান্ত পরামর্শ এবং বিভিন্ন গ্রাহকসেবায় এআই ব্যবহার শুরু করেছে।
তবে এফসিএ সতর্ক করে বলেছে, অনেক প্রতিষ্ঠান যদি একই ধরনের এআই মডেল, ক্লাউড সেবা বা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিলে একসঙ্গে অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এতে পুরো আর্থিক খাত ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এফসিএর চেয়ারম্যান অ্যাশলি অ্যালডার বলেন, এআই প্রযুক্তি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। তাই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রয়োজন হলে বিদ্যমান নিয়মকানুনও পরিবর্তন করতে হবে।




