• ই-পেপার

যশোরে বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ গেল রাজমিস্ত্রির

জিম্মিদশা থেকে অসুস্থ বাবাকে উদ্ধারের আকুতি মেয়ের

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
জিম্মিদশা থেকে অসুস্থ বাবাকে উদ্ধারের আকুতি মেয়ের
ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের ভালুকায় অসুস্থ বাবাকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে দাবি করে তাকে উদ্ধারের আকুতি জানিয়েছেন একমাত্র মেয়ে নাজমিন আক্তার লিজা। সোমবার (৬ জুলাই) ভালুকা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

নাজমিন আক্তার লিজা উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের ধীতপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. নুরুল ইসলামের মেয়ে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে লিজা বলেন, তার বাবা দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। সে সময় তার চাচা শামছুদ্দিন ও চাচাতো ভাইয়েরা নুরুল ইসলামের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দেখাশোনা করতেন। দেশে ফেরার পর চাচা শামছুদ্দিন, চাচাতো ভাই আপেল এবং আপেলের স্ত্রী কৌশলে তার বাবাকে একাধিক ফিশারি ও মুরগির খামারে এক কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, বিনিয়োগের হিসাব চাইলে তার বাবার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এতে তিনি স্ট্রোক করে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন। পরে অসুস্থতার সুযোগে তার বাবার জমিজমা, পাসপোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিজেদের দখলে নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও বিনিয়োগ থেকে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাতেরও অভিযোগ করেন তিনি।

লিজার দাবি, তিনি বাবার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে অভিযুক্তরা বাধা দেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার থানায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। পরে আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত সার্চ ওয়ারেন্ট জারি করেন। তবে সেই ওয়ারেন্ট থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তার বাবাকে উদ্ধার করেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার অসুস্থ বাবাকে দ্রুত উদ্ধার এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পাশাপাশি এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সলঙ্গায় অপহৃত প্রবাসী রাসেলকে উদ্ধার, অপহরণকারী চক্রের নারী সদস্য গ্রেপ্তার

তাড়াশ-রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সলঙ্গায় অপহৃত প্রবাসী রাসেলকে উদ্ধার, অপহরণকারী চক্রের নারী সদস্য গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার অপহরণকারী চক্রের নারী সদস্য লাকী খাতুন।

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় সৌদি আরব থেকে তিন মাসের ছুটিতে দেশে আসা এক প্রবাসীকে কৌশলে বাড়িতে ডেকে এনে অপহরণ, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ এবং সেই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মূলহোতা লাকী খাতুন (২৬) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় অপহৃত প্রবাসী রাসেল ফকিরকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

রবিবার (৫ জুলাই) রাতে সলঙ্গা থানার তেলকুপি পূর্বপাড়া গ্রামে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগী রাসেলকে উদ্ধার। 

রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সলঙ্গা থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, বেলকুচি উপজেলার শোলাকুড়া গ্রামের রহিম ফকিরের ছেলে ও সৌদি প্রবাসী রাসেল ফকির গত ৪ জুলাই বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাসেলের মোবাইল ফোন থেকে তার স্ত্রী হাসি খাতুনের কাছে ফোন আসে। ফোনে এক নারী নিজেকে অপহরণকারীদের পক্ষের পরিচয় দিয়ে জানান, রাসেল তাদের জিম্মায় রয়েছে। তাকে জীবিত ফিরে পেতে হলে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে এবং তার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।

একটি বিকাশ নম্বরে দ্রুত টাকা পাঠানোর নির্দেশ দিলে রাসেলের পরিবার তাকে উদ্ধারের আশায় মেঘুল্লা বাসস্ট্যান্ডের একটি বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে দুই দফায় মোট ৫০ হাজার টাকা পাঠায়। এর পরও অপহরণকারীরা রাসেলকে মুক্তি না দিয়ে নগদ আরো ৫ লাখ টাকা নিয়ে সলঙ্গার তেলকুপি গ্রামে যেতে বলে।

বিষয়টি জানার পর রাসেলের পরিবার সলঙ্গা থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে রবিবার রাত আনুমানিক ১০টা ১০ মিনিটে পুলিশের একটি দল ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছদ্মবেশে ৫ লাখ টাকা নিয়ে তেলকুপি নদীর পাড়ে অবস্থান নেয়।

এ সময় লাকী খাতুন টাকা নিতে এলে পুলিশ তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তেলকুপি পূর্বপাড়ায় তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরেক আসামি পালিয়ে গেলেও লাকীর শয়নকক্ষের তালা ভেঙে সেখান থেকে অপহৃত রাসেল ফকিরকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

অভিযানের সময় লাকী খাতুনের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ে ব্যবহৃত সিমসহ একটি মোবাইল ফোন, নগদ ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

উদ্ধারের পর রাসেল ফকির পুলিশকে জানান, বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা রয়েছে বলে লাকী খাতুন তাকে গত ৪ জুলাই বিকেলে মোবাইল ফোনে ডেকে নেয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।

তার অভিযোগ, রাতে লাকী খাতুন জোরপূর্বক আপত্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন এবং সেই সময় তার সহযোগী মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছে বিপুল অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার মূল আসামিকে গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। পলাতক অপর আসামিদেরকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় সলঙ্গা থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ২ গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত ১০

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ২ গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত ১০
সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকের মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। 

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের শ্যামবাড়ী গ্রাম এবং বাদৈর ইউনিয়নের হাতুড়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষের সময় মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো হতে বলা হয়। 

স্থানীয়রা জানায়, সড়কে পড়ে থাকা গাছ সরানোকে কেন্দ্র করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেলের চালকদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে বিষয়টি দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে বিরোধে রূপ নেয়। পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হলে উভয় গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

গলাচিপায় গাঁজাসহ ৩ মাদক কারবারি আটক

গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
গলাচিপায় গাঁজাসহ ৩ মাদক কারবারি আটক
সংগৃহীত ছবি

পটুয়াখালীর গলাচিপায় মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারিকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুজর মো. ইজাজুল হকের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে পটুয়াখালী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক (এসআই) এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন লালু হাওলাদার (৩২), মাহিন (২২) ও মনিরুজ্জামান (৫২)। তারা এই উপজেলার বাসিন্দা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযান চলাকালে গাঁজাসহ ওই তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে জব্দ করা মাদক বিধি অনুযায়ী ধ্বংস করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, ‘মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও সচেতনতা প্রয়োজন।’