কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ২১ নং বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের নোয়াপুস্কুনী এলাকায় এক ব্যবসায়ীর দোকানে সংঘবদ্ধ হামলা, মারধর, ভাঙচুর, মালামাল লুট এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন বখাটের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া এসব বখাটেদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী।
এ ঘটনায় বখাটে আব্দুল মান্নান (৪০), খালেক শেখ (৪৮) ও স্বপন শেখ (২৩)-কে নামীয় আসামি এবং আরো ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে মুরাদনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আহত ব্যবসায়ী মো. নুর উদ্দিন ভূঁইয়া প্রকাশ মাঈন উদ্দিন। অভিযোগপত্রে ঘটনার ১০ জন সাক্ষীর নামও উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা দেখা দিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যেদের।
অভিযোগকারী মাঈন উদ্দিন জানান, গত ৩ জুলাই বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে নোয়াপুস্কুনী দাখিল মাদরাসার সামনে অবস্থিত তার ‘রায়হান কম্পিউটার’ দোকানের সামনে এলাকার পূর্বের খেলাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে তার দুই ভাই ঘটনাস্থলে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত বখাটারে কাঠের রোল, বাঁশ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে নুর উদ্দিনসহ তার দুই ভাই আহত হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হামলার সময় অভিযুক্তরা দোকান বন্ধ করতে বাধা দেয়। এসময় তারা দোকানের চাবি নিয়ে যায় এবং দোকানে থাকা প্রায় ৫০ হাজার টাকা নগদ অর্থ ও কম্পিউটারসহ আনুমানিক আড়াই লাখ টাকার মালামাল ভাঙচুর ও লুটে নেয়। ঘটনার পরও অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মাঈন উদ্দিনের বড় মাদ্রসা শিক্ষক মো. রায়হান উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘এ ধরনের উগ্র ও বখাটে লোকজনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও শিক্ষিত পরিবারগুলো আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। গ্রামের শান্তি-শৃঙ্খলা ও সামাজিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত স্বপন শেখের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
মুরাদনগর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষটি খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’