• ই-পেপার

সুপ্রিম কোর্ট বারের জন্য নতুন ভবন নির্মাণে সহযোগিতার আশ্বাস আইনমন্ত্রীর

অবশেষে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেল ওয়ার্কশপে হাত হারানো শিশু নাঈম

নিজস্ব প্রতিবেদক
অবশেষে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেল ওয়ার্কশপে হাত হারানো শিশু নাঈম
কিশোরগঞ্জের ভৈরবের একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়ে ডান হাত হারানো শিশু নাঈম হাসান নাহিদ।

সর্বোচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপে অবশেষে ক্ষতিপূরণের ৩০ লাখ টাকা পেল কিশোরগঞ্জের ভৈরবের একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়ে ডান হাত হারানো শিশু নাঈম হাসান নাহিদ। গত বছর ৮ মে থেকে এখন পর্যন্ত মোট চারটি পে অর্ডারের (ব্যাংকের গ্যারান্টিযুক্ত পরিশোধনামা) মাধ্যমে এই টাকা পরিশোধ করেন ওয়ার্কশপ মালিক ইয়াকুব হোসেন।  

এসব পে অর্ডার আজ সোমবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চে উপস্থাপন করেন শিশুটিকে আইনি সহায়তা দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওমর ফারুক। পরে আদালত ইয়াকুব হোসেনের আদেশ প্রতিপালনের আবেদন মঞ্জুর করেন।

ওমর ফারুক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নাঈমকে ক্ষতিপূরণের টাকা দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর আইনি লড়াই করতে হয়েছে। আপিল বিভাগের রায় দেওয়ার পরও ওয়ার্কশপপের মালিক রায় না মেনে পালিয়ে বেড়িয়েছেন। আদালত অবমাননার আবেদন করার পর কয়েক ধাপে টাকা পরিশোধ করেছেন।’

‘ভৈরবে শিশুশ্রমের করুণ পরিণতি’ শিরোনামে ২০২০ সালের ১ নভেম্বর প্রতিবেদন ছাপায় একটি একটি জাতীয় দৈনিক। প্রতিবেদনের বলা হয়, ওয়ার্কশপে কাজে নেওয়ার সময় নাহিদের বয়স ছিল ১০ বছর। তখন সে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়তো। তার বাবা আনোয়ার হোসেন জুতার ব্যবসা করতেন। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হলে আনোয়ার কর্মহীন হয়ে পড়েন। এ সময় সংসারের চাপ সামলাতে নাঈমকে তার মা-বাবা কিশোরগঞ্জের ভৈরবের নূর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে কাজে দেন। এই ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়ে একদিন তার ডান হাত মেশিনে ঢুকে যায়। শেষে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কনুই থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয় হাতটি।

প্রকাশিত এই প্রতিবেদন যুক্ত করে ২০২০ সালে হাইকোর্টে রিট করেন নাঈমের বাবা আনোয়ার। রিটে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়। প্রাথমিক শুনানির পর ওই বছর ২৭ ডিসেম্বর আদালত শিশুটির ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে রুল জারি করেন। ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি এই রুল নিষ্পত্তি করে রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে ওয়ার্কশপের মালিক ইয়াকুব হোসেনকে এক বছরের মধ্যে ১০ বছর মেয়াদি দুটি এফডিআর-এর মাধ্যমে ৩০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এচএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত শিক্ষাখরচ বাবাদ প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা একটি ব্যাংক হিসাবে জমা দিতেও নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন (লিভ টু আপিল) করলে তা খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। ফলে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে। কিন্তু আদালতের আদেশ প্রতিপালন না করে ইয়াকুব হোসেন পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। এ অবস্থায় ইয়াকুব হোসেনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেন নাঈমের বাবা আনোয়ার হোসেন। গত বছর ১০ ফেব্রুয়ারি এই আবেদনে শুনানি নিয়ে ইয়াকুবকে তলব করেন আপিল বিভাগ। সেই তলবে ২১ এপ্রিল হাজির হয়ে ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর চারটি পে অর্ডারের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের ৩০ লাখ টাকা পরিশোধ করলেন ইয়াকুব।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটাই বাতিল হওয়া উচিত, আপিল শুনানি মঙ্গলবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটাই বাতিল হওয়া উচিত, আপিল শুনানি মঙ্গলবার

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী সম্পূর্ণ বাতিল করা হলে কিছু ক্ষেত্রে কালো অধ্যায়ের দিকে ফিরে যাওয়া হবে। এর পরিণতি হতে পারে ধ্বংসাত্মক। তা ছাড়া পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটা বাতিল করা হলে সংবিধান থেকে ‘বিস্‌মিল্লাহির-রহ্‌মানির রহিম’, সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণ সংক্রান্ত ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’ এবং হাইকোর্ট বিভাগের রিট ক্ষমতা বাদ হয়ে যাবে। সংবিধানে পুনরুজ্জীবীত হবে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা ‘বাকশাল।’ এসব যুক্তিতে গেল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘গণভোট’ পর‌্যন্ত আপিল শুনানি স্থগিত রাখার আরজি জানিয়েছিল জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। পরে গত বছর ১১ মে আপিল বিভাগ মামলাটির শুনানি মুলতবি করেন। 

গত ১২ ফেব্রিুয়ারি দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট হয়। এর পর বিভিন্ন সময় মামলাটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় ওঠে। সর্বশেষ গত ২৩ জুন মামলাটির শুনানি আজ সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করেছিলেন আপিল বিভাগ। সেই ধারাবাহিকতায় প্রায় ১৪ মাস পর সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চে আংশিক শুনানি হয়। সাংবিধানিক বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ মামলাটি আগামীকাল মঙ্গলবার ফের শুনানির জন্য রাখা হয়েছে। 

সোমবার আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. শরীফ ভূইয়া। এসময় অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ অনীক রুশদ হকসহ অন্যান্য আইন কর্মকর্তারা। ছিলেন এ মামলায় ইন্টারভেনার (স্বার্থসংশ্লিষ্ট মধ্যস্থতাকারী) হিসেবে যুক্ত হওয়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

শুনানিতে কী বলেছেন, জানতে চাইলে আইনজীবী মো. শরীফ ভূইয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ে যেমন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে পুনর্বহাল করা হয়েছিল। কিন্তু দেখা গেছে যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত কিছু জিনিস পুনর্বহাল হয়েছে। কিন্তু সবকিছু হয়নি। তো, সেটা আপিল বিভাগের রায়ের মাধ্যমে সংশোধিত হতে পারে।’

শরীফ ভূইয়া বলেন, ‘পঞ্চদশ সংশোধনী সম্পূর্ণটাই একটা অবৈধ সংশোধনী। এটা যে সমস্ত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশোধন করা উচিত ছিল, তা করা হয়নি। এটাতে (পঞ্চদশ সংশোধনীতে) এত বেশি জনবিরোধী বিষয় আছে যে, দেশের জনগণের স্বার্থে এটা পুরোটাই বাতিল হওয়া উচিত।’

তবে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটা বাতিল করলে কিছু সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে জানিয়ে এই আইজীবী বলেন, ‘যেগুলোর ব্যাপারে সমস্যার সৃষ্টি হয়, সেগুলোর ব্যাপারে আদালত সুরক্ষা দিতে পারেন। এগুলো আমরা আদালতে বলতে পারি।’

আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে অবসরে যাবেন। তাই এর আগেই শুনানি শেষ করে আদালত রায় ঘোষণা করবেন বলে আশা শরীফ ভূইয়ার।

২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে ‘পঞ্চদশ সংশোধনী আইন’ নামে পাস হয় এবং রাষ্ট্রপতি ২০১১ সালের ৩ জুলাই তাতে অনুমোদন দেন। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনসংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয় এই সংশোধনীর মাধ্যমে। 

সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল এবং রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়। এছাড়াও অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করাকে রাষ্ট্রদ্রোহ এবং এই অপরাধের শাস্তির বিধানও যুক্ত করা হয়েছিল পঞ্চদশ সংশোধনীতে। আগে সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনে নির্বাচন করার বিধান থাকলেও পঞ্চদশ সংশোধনীতে পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বিধান সংযোজন করা হয়। এসব সংশোধনী বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি। এই রিটে প্রাথমিক শুনানির পর ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট হাইকোর্ট রুল জারি করেন। 

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন, ২০১১ কেন অসাংবিধানিক এবং বাতিল ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয় রুলে। পরে এই রুল সমর্থন করে সহায়তাকারী (ইন্টারভেনার) হিসেবে যুক্ত হন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দল হিসেবে যুক্ত করা হয় গণফোরাম এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব নামের একটি রাজনৈতিক দলকে। এছাড়া মোফাজ্জল হোসেন নামের এক বীর মুক্তিযোদ্ধা পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ হাইকোর্টে রিট করেছিলেন। চূড়ান্ত শুনানির পর রুল রিট দুটি নিষ্পত্তি করে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট।

রায়ে বলা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের ৫৮ক অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে তা বাতিল ঘোষণা করা হল। রায়ে আরও বলা হয় সংবিধানের মৌলিক কাঠামো হিসেবে ধারা দুটি গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে।

এই রায়ের বিরুদ্ধে গত বছর ৩ নভেম্বর আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন (লিভটু আপিল) করেন চার রিট আবেদনকারী। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও লিভ টু আপিল করেন। গত ১৩ নভেম্বর এসব লিভটু আপিল মঞ্জুর করে তাঁদের আপিল করার অনুমিত দেন সর্বাচ্চ আদালত। এরপর শুরু হয় শুনানি। আপিলে শুনানি চলার মধ্যে গত ২ ডিসেম্বর বিএনিপির পক্ষে এসব আপিলে পক্ষভুক্ত হন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত বছর ৭ ডিসেম্বর রিটকারীদের পক্ষে শুনানি শেষ করেছিলেন আইনজীবী মো. শরীফ ভূইয়া। এরপর শুনানি শুরু করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। গত বছর ১১ মে এই আইনজীবীর আরজিতেই শুনানি মুলতবি করেছিলেন সর্বোচ্চ আদালত।

সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ : সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিচার শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ : সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিচার শুরু

রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় ২৭ কাঠা সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুস সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

সোমবার (৬ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক মো. আব্দুস সালামের আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে চার্জগঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১৯ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন। 

আসামি পক্ষের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

এদিন সকালে কারাগারে থাকা সালাম মুর্শেদীসহ অন্য আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা অন্য আসামিরা আদালতে হাজিরা দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন এহসানুল হক সমাজী, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বোরহান উদ্দীন, শাহীনুর ইসলাম খাদেমুল ইসলাম। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে চার্জগঠনের আদেশ দেন। 

মামলার অন্য আসামিরা হলেন—রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন খাদেম, প্রকৌশলী এম আজিজুল হক, সাবেক সদস্য (এস্টেট) লে. কর্নেল (অব.) এম নুরুল হক, সাবেক পরিচালক আবদুর রহমান ভূঁঞা, সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট) মো. আজহারুল ইসলাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিব উল্লাহ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সহকারী সচিব আবদুস সোবহান, সাবেক শাখা সহকারী মো. মাহবুবুল হক এবং কক্সবাজারের রামুর বাসিন্দা মীর মোহাম্মদ হাসান ও তার ভাই মীর মো. নুরুল আফছার।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি কর্মচারী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং অসৎ উদ্দেশ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত গেজেটে ‘খ’ তালিকাভুক্ত গুলশান আবাসিক এলাকার সিইএন (ডি) ২৭ নং, হোল্ডিং নং-২৯, রোড নং-১০৪ প্লটটি পরিত্যক্ত ২৭ কাঠা সম্পত্তির তালিকাভুক্ত থাকা সত্ত্বেও অবমুক্তকরণ ছাড়াই জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে মিথ্যা রেকর্ড তৈরি করেন। পরে হস্তান্তর অনুমতি ও নামজারি অনুমোদন করার মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করায় তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর সালাম মুর্শেদীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নোয়াখালীতে শিশু আসমাকে ধর্ষণ-হত্যায় জেঠাতো ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড

নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীতে শিশু আসমাকে ধর্ষণ-হত্যায় জেঠাতো ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালীর চাটখিলে শিশু আসমা আক্তারকে (৫) ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় একমাত্র আসামি শাহাদাত হোসেনকে (২৬) মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

আজ সোমবার (৬ জুলাই) সকালে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আকতার এ রায় ঘোষণা করেন। নারীও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি সেলিম শাহী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদেশে আরো বলা হয়েছে, মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখতে। রায় ঘোষনার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘ চার বছরের বিচারিক কার্যক্রম শেষে অবশেষে সর্বোচ্চ শাস্তির রায় পেলো ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার।

আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, নিহত আসমা আক্তার চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের মৃধা বাড়ির বাসিন্দা মাওলানা মো. শাহজাহানের মেয়ে। সাজাপ্রাপ্ত একমাত্র আসামি শাহাদাত হোসেন একই গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে এবং সম্পর্কে আসমার জেঠাতো ভাই।

২০২২ সালের ২৪ মার্চ দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয় পাঁচ বছরের শিশু আসমা। নিখোঁজের দীর্ঘ ৯ দিন পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে আসমার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরই শাহাদাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার তদন্ত চলাকালে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে গা শিউরে ওঠা বর্ণনা দেন আসামি শাহাদাত। তিনি স্বীকার করেন, ঘটনার দিন দুপুরে তিনি শিশু আসমাকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পর বিষয়টি সবার কাছে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি অবুঝ শিশুটিকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরবর্তীতে আলামত গোপন করতে মরদেহটি বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন। এরপর ৬ এপ্রিল নিহত শিশুর বাবা মাওলানা শাহজাহান বাদী হয়ে চাটখিল সদর থানায় শাহাদাতকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

সেসময় এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি জানাজানি হলে নোয়াখালীজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। আসমা হত্যার দ্রুত বিচার ও আসামির ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোগে টানা মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।