জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ মহিবুজ্জামান কচির (৬৩) মৃত্যুর প্রায় ৫ মাস পর কবর থেকে তার লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে নগরীর টুটপাড়া কবরস্থান থেকে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উত্তোলন করা হয়।
এ ঘটনায় আদালতে দায়ের করা হত্যার মামলার সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুস সাকিবের উপস্থিতিতে লাশটি তোলা হয়েছে।
চলতি বছরে ১২ ফেব্রুয়ারি খুলনায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে খুলনা-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর পক্ষে খুলনা আলিয়া কামিল মাদরাসা ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে কচির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় খুলনা সদর থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইউসুফ হারুন মজনু বাদী হয়ে মুখ্য মহানগর হাকিমের আমলী আদালতে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে আলিয়া মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রহিম সরদারসহ ৩ জনের নামাল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০জনকে আসামী করা হয়।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত সংস্থার আবেদনে সোমবার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কচির লাশ উত্তোলন করা হয়। পরে সেটি ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মামলার বাদীর মো. ইউসুফ হারুন মজনুর অভিযোগ, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন চলাকালে সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে আলিয়া মাদরাসা কেন্দ্রের ভেতরে পুকুর পাড়ে আসামিরা ভোটারদের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য প্রচ্ছন্ন হুমকি ও বেআইনিভাবে চাপ সৃষ্টি করছিল। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর পক্ষে বিএনপি নেতা কচির বিষয়টির প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে প্রতিপক্ষরা ক্ষুব্ধ হন। এক পর্যায়ে মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও জামায়াত সমর্থক মো. আব্দুর রহিম সরদার কচিকে সজোরে গলা ধরে ধাক্কা দেন। কচির মাথা পাশের গাছে গিয়ে আঘাত লেগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে তিনি মারা যান।
বিএনপির এক নেতা বলেন, আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসুক। দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
অবশ্য বিএনপির পক্ষ থেকে হামলায় কচির মৃত্যুর অভিযোগ করা হলেও সেই সময়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন। তিনি দাবি করেন, তিনি (কচি) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। হাসপাতালের চিকিৎসকরাও তাঁর শরীরে বড় ধরণের দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পায়নি। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরাও বড় ধরণের সংঘর্ষের ঘটনা দেখেননি।
নাম প্রকাশ না করে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, বিএনপি নেতার মৃত্যুর কারণ নিয়ে শুরু থেকেই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। এ অবস্থায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা জরুরি। তদন্তকে আরো গ্রহণযোগ্য করতে আদালতের অনুমতি নিয়ে লাশ উত্তোলন করে পুন:ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।






