• ই-পেপার

মুক্তিপণের বিনিময়ে এক সপ্তাহ পর ফিরলেন অপহৃত পল্লী চিকিৎসক

মাদারীপুরে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, দুইজনের কারাদণ্ড

মাদারীপুর প্রতিনিধি
মাদারীপুরে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, দুইজনের কারাদণ্ড
ছবি: কালের কণ্ঠ

মাদারীপুরে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী এবং বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য মজুদ ও বাজারজাতের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে পাঁচ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাদের ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (৫ জুলাই) বিকেলে মাদারীপুর সদর উপজেলার শকুনি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আক্তার লাবনী।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সদর উপজেলার শকুনি এলাকার হাবিবুল্লাহ এবং একই এলাকার শামিম হাওলাদার।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, শকুনি এলাকায় অবস্থিত জেএস মার্কেটিং ফিডিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য অবৈধভাবে মজুদ ও বাজারজাত করা হচ্ছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য জব্দ করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে হাবিবুল্লাহ ও শামিম হাওলাদারকে আটক করা হয়।

জব্দ পণ্যের মধ্যে ছিল ভোজ্যতেল, ডাল, চিনি, সাবানের গুঁড়া, ডিশ ওয়াশিং বার, পোলাওয়ের চালসহ বিভিন্ন ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এসব পণ্য ধ্বংসের নির্দেশ দেন।

এসময় প্রতিষ্ঠানের মালিক জুয়েলকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি অবৈধভাবে ব্যবহৃত পণ্যের গুদামটি সিলগালা বা বন্ধ রাখার নির্দেশও দেন আদালত।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আক্তার লাবনী বলেন, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য উৎপাদন, মজুদ এবং বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থান জিরো টলারেন্স। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।

প্রেমিকার বিয়ের আসরে বিষপান যুবকের, অতঃপর...

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রেমিকার বিয়ের আসরে বিষপান যুবকের, অতঃপর...

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রেমিকার বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে বিষপান করেছেন মাসুদ রানা নামের এক যুবক। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রবিবার (৫ জুলাই) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে পৌর শহরের মুজিবনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই যুবকের সঙ্গে তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি পারিবারিকভাবে অন্যত্র তরুণীর বিয়ে ঠিক হলে বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি প্রেমিক। বিয়ের দিন প্রেমিকার বাড়িতে গিয়ে হঠাৎ বিষপান করলে সেখানে উপস্থিত স্বজনদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। 

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী বলেন, মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে ঘটনায় পুলিশের একটি পাঠানো হয়। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিয়ের আসরে একজনের বিষপানের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটে প্রাণ হারালেন তিন বন্ধু

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটে প্রাণ হারালেন তিন বন্ধু
সংগৃহীত ছবি

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে একে একে তিন বন্ধু পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী সাবিক আহমদ (১৬) ঘটনাস্থলেই মারা যান। অপর দুই আরোহীকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে  তারাও মারা যান।

নিহত সাকিব গোয়াইনঘাট উপজেলার নয়াবস্তি এলাকার মহরম মিয়ার ছেলে। অন্য দুজন হলেন একই উপজেলার ৮ম খ-এলাকার হবি মিয়ার ছেলে রায়হান (১৬) ও লাখেরপাড়া এলাকার রাজ্জাক মিয়ার ছেলে জয় (১৬)। তারা তিনজনই জাফলং আমির মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

রবিবার (৬ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের রাধানগর-বাউরভাগ চা বাগান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে এই তিন কিশোর মোটরসাইকেলে করে রাধানগর বাউরভাগ চা বাগানের সড়ক দিয়ে রাধানগর বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ তাদের মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে একটি গাছের সঙ্গে লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই সাবিক নিহত হন। বাকি দুজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেটের নূরজাহান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে রায়হানের মৃত্যু হয়। এরপর আহত জয়কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাত ৯টার দিকে তিনিও মারা যান।

সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক দুর্ঘটনায় নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অপর দুজন কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

কেরানীগঞ্জে দর্জিকে মারধর, গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
কেরানীগঞ্জে দর্জিকে মারধর, গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় বিএনপি নেতা গাজী জাহাঙ্গীরের ছেলের বিরুদ্ধে আজগর আলী নামের এক দর্জিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা হামলায় গুরুতর আহত দর্জি আজগর আলীকে উদ্ধার করে রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রবিবার (৫ জুলাই) রাত ৮টার দিকে আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাজ শেষে আজগর আলী বাসায় ফেরার জন্য আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে রিকশায় উঠতে গেলে পূর্ব শত্রুতার জেরে তেঘরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য গাজী জাহাঙ্গীরের ছেলে গাজী সায়মনের নেতৃত্বে কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় আজগর আলীকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহতের বড় ভাই আবু অভিযোগ করে বলেন, গাজী সায়মনের নেতৃত্বে কয়েকজন অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার ভাইকে গুরুতর আহত করে। হামলার পর থানায় অভিযোগ করলে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা গাজী জাহাঙ্গীর বলেন, আমার ছেলের সঙ্গে কিছুটা ঝামেলা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে সে কাউকে মারধর করেছে কি না, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিয়ে পরে আপনাকে জানাচ্ছি।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঘটনাটি শুনেছি ভিকটিম মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ বিষয়ে আমরা কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।