• ই-পেপার

দেখে নিন নরওয়ের বিপক্ষে কারা আছে ব্রাজিলের একাদশে

বলের দখলে নরওয়ে, সুযোগে ব্রাজিল, গোলশূন্য প্রথমার্ধ

ক্রীড়া ডেস্ক
বলের দখলে নরওয়ে, সুযোগে ব্রাজিল, গোলশূন্য প্রথমার্ধ

শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে ব্রাজিল-নরওয়ে। গোলহীন প্রথমার্ধে সুযোগ অবশ্য এসেছিল দুই দলের কাছেই তবে এগিয়ে যাওয়ার বড় ধরণের সুযোগ বেশি মিস করেছে সেলেসাওরা।

এর মধ্যে ম্যাচের ১১ মিনিটের মাথায় বক্সে ম্যাথিউস কুনহাকে ফাউল করায় ভিএআর দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। তবে স্পটকিক থেকে তা মিস করে বসেন ব্রাজিল মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারাইস। দারুণ দক্ষতায় তার শট ঠেকান নরওয়ের গোলকিপার ওরইয়ান নিল্যান্ড।

এরপর ম্যাচের ৪০ মিনিটের মাথায় ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত শট ঠেকিয়ে আবারও দলকে ম্যাচে রাখেন নিল্যান্ড।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে অবশ্য দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিল নরওয়ে। হালান্ড-গ্যাব্রিয়াল যুদ্ধ থেকে বক্সে বল পান মার্টিন ওডেগার্ড। দারুণ এক শট নিলেও তা চমৎকার দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন আলিসন।

এর আগে ম্যাচের শুরুতে চতুর্থ মিনিটে একবার বল জালে জড়িয়েছিল নরওয়ে। তবে অফসাইডের কারণে বাতিল হয় গোলটি।

ইংল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে বিশ্বকাপে সপ্তম মুকুট অস্ট্রেলিয়ার

ক্রীড়া ডেস্ক
ইংল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে বিশ্বকাপে সপ্তম মুকুট অস্ট্রেলিয়ার
সংগৃহীত ছবি

বোলারদের নৈপুণ্যে লক্ষ্যটা নাগালেই ছিল অস্ট্রেলিয়ার। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে অনবদ্য ইনিংস খেলেছে দলটি। রান তাড়ায় দলকে পথ দেখালেন বেথ মুনি ও ফিবি লিচফিল্ড। ইংল্যান্ডকে অনায়াসে হারিয়ে আরেকবার উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলো অস্ট্রেলিয়া।

রবিবার লর্ডসের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে জয় পায়।

ইংল্যান্ড ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫০ রান সংগ্রহ করে। এ রান তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ১৭ বল হাতে রেখেই।

উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১০ আসরের মধ্যে ৮ বার ফাইনালে খেলে ৭ বার চ্যাম্পিয়ন হলো অস্ট্রেলিয়া। একটির বেশি শিরোপা নেই আর কারো।

২০০৯ সালে ঘরের মাঠে প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এই নিয়ে চারটি ফাইনালে হারল ইংল্যান্ড।

অস্ট্রেলিয়ার জয়ে ব্যাট হাতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন বেথ মুনি। ১০ চারে ৪৯ বলে ৬৪ রান করেন অভিজ্ঞ কিপার-ব্যাটার। সেমি-ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে রান তাড়ায় ৩৬ বলে অপরাজিত ৬১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।

৩২ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারই জেতেন ফাইনাল ও টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার। এতে তার নাম খোদাই হয়ে গেছে ইতিহাসের পাতায়। উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুইবার (২০২৩ ও ২০২৬) ফাইনাল সেরা ও দুইবার (২০২০ ও ২০২৬) টুর্নামেন্ট সেরা হওয়া প্রথম ক্রিকেটার তিনিই।

ইতিহাস গড়েছেন পেরিও। নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ৯টি আইসিসি ট্রফি জিতলেন অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি।

এবারের আসর দিয়ে নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ম্যাচ খেলার ফিফটিও করেন চিরসবুজ এই অলরাউন্ডার।

সেমি-ফাইনালে ব্যাটিংয়ের সময় অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়ায় ফাইনালে পেরির খেলা নিয়ে ছিল শঙ্কা। শেষ পর্যন্ত মাঠে নেমে তিনি গড়েন আরেকটি কীর্তি। উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সাতটি ফাইনালের খেলার রেকর্ডে স্বদেশী অ্যালিসা হিলির পাশে বসেন তিনি।

ফাইনালে উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য খুব একটা সহজ ছিল না। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ৫ ওভারের মধ্যে দুই ওপেনার অ্যামি জোন্স ও ড্যানি ওয়াট-হজকে হারায় ইংল্যান্ড।

প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে তিনশ রানের কীর্তি গড়েন ওয়াট-হজ (৩০২)।

ভালো শুরু করে ইনিংস টেনে নিতে পারেননি অ্যালিস ক্যাপসি। অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক সোফি মলিনিউকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন তিনি (২০ বলে ২৩)। হিদার নাইট বিদায় নেন দ্রুতই।

একাদশ ওভারে ৭০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা।

সেখান থেকে অবিচ্ছিন্ন ৮০ রানের জুটিতে দলকে দেড়শ পর্যন্ত নিয়ে যান অধিনায়ক ন্যাট সিভার-ব্রান্ট ও ফ্রেয়া কেম্প।

জুটিতে আগ্রাসী ছিলেন কেম্প। সিভার-ব্রান্ট চেষ্টা করেও শেষের দিকে দ্রুত রান তুলতে পারেননি। ৫ চারে ৫৩ বলে ৫৮ রান করেন তিনি। ৪টি চার ও এক ছক্কায় ২৮ বলে ৪৪ রান করেন কেম্প।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একটি করে উইকেট নেন কিম গার্থ, লুসি হ্যামিল্টন, মলিনিউ ও অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড।

লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম বলে মিড অন ফিল্ডারের মাথার ওপর দিয়ে চার মেরে শুরু করেন জর্জিয়া ভল। বেশিক্ষণ যদিও টিকতে পারেননি তিনি। দ্বিতীয় ওভারে তাকে বোল্ড করে দেন লরেন বেল।

দ্বিতীয় উইকেটে ৬৭ বলে ১০০ রানের জুটিতে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন মুনি ও ফিবি লিচফিল্ড।

উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে দ্বিতীয় উইকেটে প্রথম শতরানের জুটি এটি। শতরানের উদ্বোধনী জুটি আছে দুটি।

ফিফটির কাছে গিয়ে বিদায় নেন লিচফিল্ড। ছয় চার ও দুই ছক্কায় ৩৫ বলে ৪৮ রান করেন তিনি।

৩৮ বলে ফিফটি ছুঁয়ে এগিয়ে যান মুনি। দলের জয় থেকে ১১ রান দূরে থাকতে বিদায় নেন তিনি।

পরের ওভারে মিড-অফে পেরির একটি নিচু ক্যাচ নেন এক্লেস্টোন। কিন্তু বেশ কয়েক রিপ্লে দেখে আউট দেননি টিভি আম্পায়ার। সিদ্ধান্তটি নিয়ে ক্ষুব্ধ দেখা যায় ইংলিশ ক্রিকেটারদের।

তাতে কিছুটা উত্তেজনা ছড়ালেও ম্যাচে প্রভাব পড়েনি। বাকিটা অনায়াসে সারেন গার্ডনার ও পেরি।

গ্রুপ পর্বে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তি প্রতিপক্ষকে হারিয়ে, সেমি-ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বিদায় করে, ফাইনালে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হলো অস্ট্রেলিয়া। প্রথমবার বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দিয়েই দলকে ট্রফি এনে দিলেন মলিনিউ। বছরের শুরুতে অনেকটা চমক জাগিয়ে তিন সংস্করণেই অস্ট্রেলিয়ার নতুন অধিনায়ক ঘোষণা করা হয় বাঁহাতি এই স্পিনিং অলরাউন্ডারকে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ইংল্যান্ড : ২০ ওভারে ১৫০/৪ (জোন্স ৬, ওয়াট-হজ ৮, সিভার-ব্রান্ট ৫৮*, ক্যাপসি ২৩, নাইট ২, কেম্প ৪৪*; গার্থ ৪-০-২০-১, হ্যামিল্টন ৩-০-১৯-১, মলিনিউ ৪-০-৩২-১, সাদারল্যান্ড ৪-০-৩৪-১, ওয়্যারহ্যাম ২-০-৯-০, গার্ডনার ৩-০-৩২-০)

অস্ট্রেলিয়া : ১৭.১ ওভারে ১৫৩/৩ (ভল ৯, মুনি ৬৪, লিচফিল্ড ৪৮, পেরি ১৩*, গার্ডনার ৩*; ডিন ৪-০-২৮-১, বেল ৩-০-৩৮-১, স্মিথ ৪-০-৩০-০, কেম্প ২-০-২২-০, এক্লেস্টোন ৩.১-০-২৪-১, গিবসন ১-০-৭-০)

ফল : অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে জিতে চ্যাম্পিয়ন

প্লেয়ার অব দ্য ফাইনাল : বেথ মুনি

প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট : বেথ মুনি

এক অনবদ্য রেকর্ডের দারপ্রান্তে মোহাম্মদ সালাহ

ক্রীড়া ডেস্ক
এক অনবদ্য রেকর্ডের দারপ্রান্তে মোহাম্মদ সালাহ

বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে জয় নিশ্চিত করে মিশর। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ট্রাইব্রেকারে কষ্টার্জিত জয় তুলে নেয় ফারাওরা। জয়ে শেষ ষোলোয় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মুখোমুখি হবে মিশর। তাই রাউন্ড অফ সিক্সটিনের ম্যাচেও অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ’র ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখছেন কোচ হোসাম হাসান। 

আর্জেন্টিনার ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম 'ডায়ারিও ওলে'র প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রাউন্ড অফ সিক্সটিনে যদি এই মিশরীয় তারকা অসাধারণ কোনো পারফরম্যান্স করেন। তাহলে হয়তো নিজের কোচের করা একটি দুর্দান্ত রেকর্ডে ভাগ বসাতে পারেন। এমনকি তাকে ছাড়িয়েও যাওয়ার সুযোগ আছে ইজিপশিয়ান মেসির সামনে।

দেশের হয়ে এখন পর্যন্ত সালাহ ৬৮টি গোল করেছেন। মিশর জাতীয় দলের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। তার আগে ৬৯ গোল করে রয়েছেন মিশনের তারকা কোচ হোসাম হাসান। কোচের রেকর্ড ছুঁতে মাত্র এক গোল দূরে।

এতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একটি গোল করলে রেকর্ডটিতে যৌথভাবে অবস্থান করবেন সালাহ ও কোচ হোসাম। কিন্তু দুটি গোল করলে, অবশ্যই, সালাহ মিশরীয় ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এক নম্বরে উঠে যাবেন। দেশের হয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া এক  অনবদ্য রেকর্ডের দারপ্রান্তে এই মিশরীয় তারকা।

এটিই শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে ৩৪ বছর বয়সী এই তারকার। লিভারপুলের হয়ে ৩শ’র বেশি গোল করা এই স্ট্রাইকার এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হবেন।

আগামী মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনা ও মিশর মুখোমুখি হবে।

ভোজিনহার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন ডেভিড বেকহ্যাম

ক্রীড়া ডেস্ক
ভোজিনহার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন ডেভিড বেকহ্যাম

বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নজর কেড়েছেন নবাগত দল কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা। বিশ্বকাপের চার ম্যাচে দলের হয়ে অসাধারণভাবে সামলেছেন গোল পোস্ট। এতেই রাতারাতি তারকা বয়ে গেছেন এই গোলরক্ষক।  আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভ করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন ৪০ বছর বয়সী এই আফ্রিকান গোলরক্ষক। অসাধারণ পারফরম্যান্সের পরই গুঞ্জন ওঠে যে মায়ামি তাকে ক্লাবে ভেড়াতে চাচ্ছে।

স্পেনের জনপ্রিয় ক্রীড়া দৈনিক 'মার্কা'র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেজর সকার লিগের ক্লাব ইন্টার মায়ামির গোলরক্ষক লাইন-আপ শক্তিশালী করতে ভোজিনহাকে দলে নেওয়ার কথা বিবেচনা করছেন ক্লাবটির সহ-মালিক ডেভিড বেকহ্যাম।

এদিকে ভোজিনহা ক্যারিয়ারজুড়ে বহুবার প্রকাশ করেছেন যে লিওনেল মেসির সাথে একই দলে খেলা তার জীবনের অন্যতম বড় স্বপ্ন। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সঙ্গে লড়াইয়ের পর মাঠেই মেসি তাকে জড়িয়ে ধরে প্রশংসা করেন। 

মায়ামিতে আর্জেন্টিনা-কেপভার্দে ম্যাচের পরই তাকে ক্লাবে আনার গুঞ্জন আরো তীব্র হয়। বেকহ্যাম যদি এই চুক্তিটি সম্পন্ন করেন, তবে তা হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম চমকপ্রদ ও আবেগঘন একটি দলবদল।

পর্তুগালের ক্লাব জিডি চাভেসের সঙ্গে ভোজিনহার চুক্তি গত ৩০ জুন, ২০২৬-এ শেষ হয়েছে। তিনি এখন একজন ‘ফ্রি এজেন্ট’। ফলে ইন্টার মায়ামিকে অন্য কোনো ক্লাবকে ট্রান্সফার ফি দিতে হবে না।

ফ্রি এজেন্ট হওয়ায় মেজর লিগ সকারের কঠোর স্যালারি ক্যাপ বা বেতন সীমার নিয়ম মেনে তাকে দলে নেওয়া ডেভিড বেকহ্যামের জন্য বেশ সহজ হবে। জল্পনা যদি সত্যিই হয় তাহলে এই গোলরক্ষককে ইন্টার মায়ামিতে মহাতারকা লিওনেল মেসির সঙ্গে দ্রুতই খেলতে দেখতে পাবে ফুটবল বিশ্ব।