• ই-পেপার

‘নোংরা ফুটবল’ খেলে জিতেছে ফ্রান্স, স্বীকার করলেন এমবাপ্পে

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ছন্দময় ব্রাজিলের সামনে যান্ত্রিক নরওয়ে

বোরহান জাবেদ
ছন্দময় ব্রাজিলের সামনে যান্ত্রিক নরওয়ে
ব্রাজিলের নেইমার ও নরওয়ের হালান্ড। ছবি: ফিফা

ব্রাজিলের ফুটবল অনেকটা নদীর মতো। কখনো শান্ত, কখনো উন্মত্ত, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের ছন্দেই বয়ে চলে। জাপানের বিপক্ষে শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের খেলায় সেই চিরচেনা স্রোতেরই দেখা মিলেছে।

প্রতিপক্ষ লড়েছে, প্রশ্নও ছুড়ে দিয়েছে। কিন্তু ব্রাজিল উত্তর দিয়েছে নিজেদের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে। আক্রমণে গতি, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ আর মুহূর্তের জাদু—সব মিলিয়ে যেন আবারও জেগে উঠেছিল ‘জোগো বনিতো’র সৌন্দর্য। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধের সেই সাম্বা-ছন্দের ঝংকার আজ নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামেও তুলতে চাইবে রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। তবে এবার সামনে সম্পূর্ণ ভিন্ন দর্শনের এক প্রতিপক্ষ—নরওয়ে।

অন্যদিকে ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের অপেক্ষায় আছে স্বাগতিক মেক্সিকো। সে প্রসঙ্গে পরে আসা যাবে। তার আগে দেখা যাক, ব্রাজিলের সামনে নরওয়ে পরীক্ষাটা কতটা কঠিন হতে পারে। বলা হয়ে থাকে, বিশ্বকাপ যত নক আউটের গভীরে যায়, ফুটবল ততই কৌশল কিংবা পরিসংখ্যানের গণ্ডি ছাড়িয়ে স্নায়ু, সাহস আর মুহূর্তের খেলায় পরিণত হয়। জাপানের বিপক্ষে সেই পরীক্ষায় ব্রাজিল ‘লেটার মার্ক’ পেয়েই পাস করেছে।

এশিয়ার চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে শেষ ষোলোতে ব্রাজিলকে এখন সামলাতে হবে ইউরোপীয় যান্ত্রিক নরওয়েকে। ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর, পুরো ম্যাচ খেলার মতো ফিট হয়ে উঠেছেন নেইমার। তবে কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাঁকে শুরু থেকেই নামাবেন, নাকি ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে বেঞ্চ থেকে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবেন, এর উত্তর মিলবে কিক-অফের ঠিক আগে। 

‘ও (নেইমার) ৯০ মিনিটই খেলতে পারবে। এতে সন্দেহ নেই। তবে ও কতক্ষণ খেলবে, সেটা আগে থেকে বলার সুযোগ নেই। যখনই মনে করব দলের ওকে প্রয়োজন, তখনই ও মাঠে নামবে’—বোঝাই যাচ্ছে নিজের পরিকল্পনার আভাসও দিতে নারাজ আনচেলত্তি।

একদিকে স্বস্তি, অন্যদিকে দুশ্চিন্তা। এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সাম্বা-সুর যেন এমনই। না হলে নেইমার সুস্থ হতে হতেই লুকাস পাকেতা কেন ছিটকে পড়বেন! মাঝমাঠে এই ভরসাকে ছাড়াই নরওয়ে বাধা পেরোতে হবে ব্রাজিলকে।

তবে স্বস্তির খবরও আছে। চোট কাটিয়ে অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন রাফিনিয়া। অনুশীলনে ফিরলেও তাঁকে একাদশে দেখা যাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অবশ্য তাঁর অনুপস্থিতিতে ডান প্রান্তে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তরুণ উইঙ্গার রায়ান। গতি, দম আর আক্রমণাত্মক প্রেসিংয়ে তিনি এরই মধ্যে ব্রাজিলের অন্যতম আলোচিত মুখ।

ব্রাজিল যেখানে কিছুটা অনিশ্চয়তার মধ্যে, নরওয়ে সেখানে অনেক বেশি স্থিতিশীল। তাদের সবচেয়ে বড় ভরসা আর্লিং হালান্ড, আধুনিক ফুটবলে গোল করার শিল্পকে যিনি প্রায় যন্ত্রের নির্ভুলতায় নামিয়ে এনেছেন। তাঁকে এক মুহূর্তের জন্যও জায়গা দিলে শাস্তি প্রায় অবধারিত। গ্রুপ পর্ব থেকে শেষ বত্রিশ পর্যন্ত সেটাই প্রমাণ করেছেন হালান্ড।

ইতিহাসও নরওয়ের পক্ষেই কথা বলে। ব্রাজিলের বিপক্ষে চারবারের দেখায় তারা কখনো হারেনি—দুটি জয়, দুটি ড্র। তবে ইতিহাস যতই পাশে থাকুক, নক আউটের উত্তাপকে স্বাভাবিক করে তোলার এক অদ্ভুত ক্ষমতা আছে ব্রাজিলের। তবে নরওয়ে চাইবে সাম্বার ছন্দ থামিয়ে উত্তরের বরফ শীতল স্থিরতাকেই শেষ কথা বানাতে।

নরওয়ের মতো একই স্বপ্ন দেখছে মেক্সিকোও। আজতেকায় বিশ্বকাপে হার কী জিনিস, সেই অভিজ্ঞতা নেই তাদের। শেষ বত্রিশে ইকুয়েডরের বিপক্ষে জয় খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসে নতুন জোয়ার এনে দিয়েছে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের পর প্রথমবার শেষ ষোলোয় ওঠা মেক্সিকো তাই আরেকটি স্মরণীয় রাতের অপেক্ষায়।

তবে হ্যারি কেইনের ইংল্যান্ডকে থামানো কঠিনই হবে। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও ইংল্যান্ড অধিনায়কের জোড়া গোলেই দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল থ্রি লায়ন্সরা। সেই প্রত্যাবর্তনই দেখিয়ে দিয়েছে, বড় মঞ্চে সাফল্যের জন্য ইংলিশরা কতটা ক্ষুধার্ত। আজতেকার গর্জনের মাঝেও সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই মেক্সিকো পরীক্ষায় উতরে যেতে চাইবে তারা।

এমবাপ্পের গোলে কোয়ার্টারে ফ্রান্স

ক্রীড়া ডেস্ক
এমবাপ্পের গোলে কোয়ার্টারে ফ্রান্স

শেষ ৩২-এর ম্যাচে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে যে বিষাদের গল্প উপহার দিয়েছিল, ফিলাডেলফিয়ার মাঠে ফ্রান্সের বিপক্ষেও ঠিক একই ছক কষে নেমেছিল প্যারাগুয়ে। দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রুখে দিতে ডিফেন্সে রীতিমতো ‘বাস পার্ক’ করে ৫-৪-১ ফর্মেশন সাজিয়েছিলেন লাতিন দলটির কোচ। ফরাসিদের ভয়ংকর আক্রমণভাগকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় বোতলবন্দী করে রেখেছিল তারা। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। দ্বিতীয়ার্ধে বক্সের ভেতর এক মুহূর্তের অসতর্কতা আর আত্মঘাতী ভুলের চড়া মাশুল দিতে হলো প্যারাগুয়েকে। তাদের সেই দুর্ভেদ্য দেওয়াল টপকে ঘামঝরানো জয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখল দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স।

শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ‘লে ব্লু’রা। প্রথমার্ধের ডেডলক ভেঙে ৭০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ম্যাচের একমাত্র ও জয়সূচক গোলটি করেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। আগামী বৃহস্পতিবার রাতে বোস্টন স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে ‘জায়ান্ট কিলার’ মরক্কো, যারা সহ-আয়োজক কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের পায়ে রাখলেও প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণের সামনে প্রথমার্ধে বিন্দুমাত্র সুবিধা করতে পারেনি এমবাপ্পে ব্রিগেড। ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটে প্যারাগুয়ের গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি ফরাসিরা। ১৯৬৬ সালের পর এই নিয়ে মাত্র তৃতীয়বার বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে এত দেরিতে প্রথম শটের দেখা পেল ফ্রান্স।

এর আগে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে তিউনিসিয়া এবং আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এমন বন্ধ্যাত্বের মুখে পড়েছিল তারা। প্রথমার্ধে এমবাপ্পে-দেম্বেলেদের করা ২০টি ক্রসের একটিও প্রতিপক্ষের বক্সে বিপদ তৈরি করতে পারেনি। উল্টো ৩১ মিনিটে এমবাপ্পের হেড মিস আর ওসমানের লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে হতাশায় পুড়তে হয় দেশমকে। মাঝপথে এমবাপ্পেকে পেছন থেকে কুবেসের টেনে ধরা নিয়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে মাঠেই এক দফা ঠুকাঠুকি লেগে যায়, যা রেফারি এসে শান্ত করেন।

বিরতির পর ম্যাচের ৫২ মিনিটে পরপর দুটি সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে ফ্রান্স। প্রথমে মাইক মাইনানের লম্বা পাস ধরে ডিফেন্ডারদের গতিতে পরাস্ত করে ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশনে চলে যান এমবাপ্পে, কিন্তু শেষ মুহূর্তে বলের নিয়ন্ত্রণ হারালে প্যারাগুয়ে ডিফেন্ডার কাসেরেস কর্নারের বিনিময়ে বল ক্লিয়ার করেন। সেই কর্নার থেকে উসমান দেম্বেলের শট কাঁপায় পাশের জাল। এর দুই মিনিট পর কোনের এক দূরপাল্লার রকেট গতির শট লাফিয়ে উঠে জালের ওপর দিয়ে পার করে দেন প্যারাগুয়ের গোলকিপার অরল্যান্ডো গিল।

তবে ম্যাচের আসল মোড় ঘোরে ৬৬ মিনিটে। প্যারাগুয়ের পেনাল্টি এরিয়ায় বদলি নামা ফরাসি ফরোয়ার্ড দিজিরে দুয়েকে ফাউল করে বসেন দিয়োগো গোমেজ। শুরুতে রেফারি এড়িয়ে গেলেও ভিএআর রিভিউ দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজাতে বাধ্য হন। ৭০ মিনিটে স্পট-কিক থেকে গোলরক্ষককে সম্পূর্ণ উল্টো দিকে পাঠিয়ে ঠান্ডা মাথার নিখুঁত ও নিচু শটে ফ্রান্সকে উল্লাসে ভাসান কিলিয়ান এমবাপ্পে।

এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে ৭ গোল করে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসিকে ছুঁয়ে ফেললেন ২৭ বছর বয়সী এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মেসির (২০ গোল) ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন ১৯ গোল করা এমবাপ্পে।

ম্যাচের শেষ দিকে সমতায় ফিরতে মরিয়া প্যারাগুয়ের মাউরিসিওর এক নিচু শট দুর্দান্ত ডাইভে রুখে দেন ফরাসি প্রাচীর মাইক মাইনান। ওদিকে যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে এমবাপ্পের পরপর দুটি বুলেট গতির শট অবিশ্বাস্যভাবে ঠেকিয়ে ব্যবধান বাড়তে দেননি প্যারাগুয়ে গোলকিপার গিল। শেষ পর্যন্ত ওই এক গোলের লিড ধরে রেখেই কোয়ার্টারে গেল ফ্রান্স। 

মেসিকে ছুঁয়ে ফেললেন এমবাপ্পে

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসিকে ছুঁয়ে ফেললেন এমবাপ্পে

মাঠের ভেতরে তখন স্নায়ুর চরম পরীক্ষা। প্যারাগুয়ের লৌহকপাট ভাঙতে যখন ছক কষছে ফরাসি শিবির, ঠিক তখনই পেনাল্টি থেকে ডেডলক ভাঙলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। চরম চাপের মুখেও বিন্দুমাত্র খেই না হারিয়ে ‘ঠান্ডা মাথার’ এক নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে ফ্রান্সকে এনে দিলেন মহার্ঘ্য সেই লিড। আর গোলটি করেই বাতাসে ভেসে নিজের চেনা ও স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে লাফিয়ে মেতে উঠলেন বিশ্বকাপের সর্বশেষ গোল উদযাপনে।

এই এক গোলেই যেন রাজকীয় মঞ্চের এক দ্বৈরথ নতুন মাত্রা পেল। চলতি বিশ্বকাপে গোল করার রেসে আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসিকে ছুঁয়ে ফেললেন ফরাসি অধিনায়ক। মেসি ও এমবাপ্পে—দুজনেরই নামের পাশে এখন জ্বলজ্বল করছে সমান ৭টি করে গোল। গোল্ডেন বুটের লড়াইটা যে এবার আরও জমে উঠল, তা বলাই বাহুল্য।

তবে মহাকাব্যিক এই রেকর্ডের লড়াই শুধু এই আসরেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় এখন আরও ওপরে উঠে এলেন এমবাপ্পে। ২০ গোল নিয়ে যেখানে চূড়ায় আছেন লিওনেল মেসি, সেখানে তার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। মেসির সেই কীর্তি স্পর্শ করা থেকে এখন মাত্র এক গোল দূরে দাঁড়িয়ে এমবাপ্পে (১৯ গোল)। 

মাঠে উত্তেজনা, নিরুত্তাপ স্কোরবোর্ড নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ ফ্রান্স-প্যারাগুয়ের

ক্রীড়া ডেস্ক
মাঠে উত্তেজনা, নিরুত্তাপ স্কোরবোর্ড নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ ফ্রান্স-প্যারাগুয়ের

চলতি বিশ্বকাপে একরকম অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। আগের চার ম্যাচের সবকটিতেই প্রতিপক্ষকে চূর্ণ করে উড়ছিল ফরাসিদের ‘ভয়ঙ্কর’ আক্রমণভাগ। তবে সেই উড়ন্ত ফ্রান্সকেই প্রথমার্ধ পর্যন্ত আঁটকে রাখল জার্মানিকে বিদায় করে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটানো প্যারাগুয়ে।

ফিলাডেলফিয়ার মাঠে ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিট ছিল স্রেফ ফরাসিদের একচ্ছত্র দাপট। ম্যাচের শুরু থেকেই বল মূলত প্যারাগুয়ের বক্সের আশপাশেই ঘুরপাক খেয়েছে। ম্যাচের ৮০ শতাংশ সময় বল নিজেদের পায়ে রেখেও অবশ্য কাজের কাজটি করতে পারেনি ফ্রান্স।

প্যারাগুয়ের ইস্পাতকঠিন রক্ষণভাগের ডিফেন্ডাররা চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে বোতলবন্দী করে রাখেন এমবাপ্পে-দেম্বেলেদের। একের পর এক আক্রমণ প্যারাগুয়ের বক্সের ভেতর গিয়েই মুখ থুবড়ে পড়েছে।

ফরাসিদের এমন একাধিপত্যের ম্যাচে ফুটবলের উত্তাপ ছাপিয়ে একপর্যায়ে ছড়ায় পেশীশক্তি আর স্নায়ুর উত্তেজনা। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে প্যারাগুয়ের বক্সের ঠিক কাছাকাছি জায়গায় কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ফাউল করা হলে নিজের হতাশা আর রাগ ধরে রাখতে পারেননি এই ফরাসি মহাতারকা। ক্ষোভে ফেটে পড়ে প্যারাগুয়ের আন্দ্রেস কুবেসের বুকে আলতো ধাক্কা মেরে বসেন এমবাপ্পে। ব্যস, তাতেই বারুদে আগুন লেগে যায়! মুহূর্তের মধ্যে দুই দলের খেলোয়াড়রা একে অপরের মুখোমুখি হয়ে হাতাহাতি ও তুমুল উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়েন। তবে রেফারির সময়োচিত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়, কোনো খেলোয়াড়কেই কার্ডের মুখোমুখি হতে হয়নি।

চরম উত্তেজনা আর মাঠের দাপট সামলে শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সকে গোলহীন রেখেই স্বস্তির বিরতিতে গেছে প্যারাগুয়ে।