• ই-পেপার

প্রেমিকার বিয়ের আসরে বিষপান যুবকের, অতঃপর...

লালপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে যুবক আটক, ৬ মাসের কারাদণ্ড

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
লালপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে যুবক আটক, ৬ মাসের কারাদণ্ড

নাটোরের লালপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী যৌথ অভিযানে ইয়াবা সেবনের আলামতসহ সৌরভ ইসলাম (১৯) নামের এক যুবককে আটক করা হয়। পরে তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রবিবার (৫ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার উত্তর লালপুর মন্ডলপাড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবীর হোসেন।

জানা যায়, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে লালপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় পরিচালিত এ মাদকবিরোধী অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা সেবনের বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। এসময় সৌরভ ইসলামকে আটক করা হয়। পরে তার পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্তির সঙ্গে জড়িত ছিল এবং এলাকায় মাদক সেবনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযান শেষে আটক সৌরভকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। 

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবীর হোসেন বলেন, মাদক সমাজকে ধ্বংস করছে। যুবসমাজকে রক্ষায় মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং মাদকসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহায়তা করতে হবে।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম, লালপুর উপজেলাকে মাদকমুক্ত করতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রমও জোরদার করা হবে।

মাদারীপুরে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, দুইজনের কারাদণ্ড

মাদারীপুর প্রতিনিধি
মাদারীপুরে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, দুইজনের কারাদণ্ড
ছবি: কালের কণ্ঠ

মাদারীপুরে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী এবং বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য মজুদ ও বাজারজাতের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে পাঁচ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাদের ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (৫ জুলাই) বিকেলে মাদারীপুর সদর উপজেলার শকুনি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আক্তার লাবনী।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সদর উপজেলার শকুনি এলাকার হাবিবুল্লাহ এবং একই এলাকার শামিম হাওলাদার।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, শকুনি এলাকায় অবস্থিত জেএস মার্কেটিং ফিডিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য অবৈধভাবে মজুদ ও বাজারজাত করা হচ্ছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য জব্দ করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে হাবিবুল্লাহ ও শামিম হাওলাদারকে আটক করা হয়।

জব্দ পণ্যের মধ্যে ছিল ভোজ্যতেল, ডাল, চিনি, সাবানের গুঁড়া, ডিশ ওয়াশিং বার, পোলাওয়ের চালসহ বিভিন্ন ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এসব পণ্য ধ্বংসের নির্দেশ দেন।

এসময় প্রতিষ্ঠানের মালিক জুয়েলকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি অবৈধভাবে ব্যবহৃত পণ্যের গুদামটি সিলগালা বা বন্ধ রাখার নির্দেশও দেন আদালত।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আক্তার লাবনী বলেন, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য উৎপাদন, মজুদ এবং বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থান জিরো টলারেন্স। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।

মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটে প্রাণ হারালেন তিন বন্ধু

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটে প্রাণ হারালেন তিন বন্ধু
সংগৃহীত ছবি

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে একে একে তিন বন্ধু পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী সাবিক আহমদ (১৬) ঘটনাস্থলেই মারা যান। অপর দুই আরোহীকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে  তারাও মারা যান।

নিহত সাকিব গোয়াইনঘাট উপজেলার নয়াবস্তি এলাকার মহরম মিয়ার ছেলে। অন্য দুজন হলেন একই উপজেলার ৮ম খ-এলাকার হবি মিয়ার ছেলে রায়হান (১৬) ও লাখেরপাড়া এলাকার রাজ্জাক মিয়ার ছেলে জয় (১৬)। তারা তিনজনই জাফলং আমির মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

রবিবার (৬ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের রাধানগর-বাউরভাগ চা বাগান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে এই তিন কিশোর মোটরসাইকেলে করে রাধানগর বাউরভাগ চা বাগানের সড়ক দিয়ে রাধানগর বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ তাদের মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে একটি গাছের সঙ্গে লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই সাবিক নিহত হন। বাকি দুজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেটের নূরজাহান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে রায়হানের মৃত্যু হয়। এরপর আহত জয়কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাত ৯টার দিকে তিনিও মারা যান।

সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক দুর্ঘটনায় নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অপর দুজন কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

মুক্তিপণের বিনিময়ে এক সপ্তাহ পর ফিরলেন অপহৃত পল্লী চিকিৎসক

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
মুক্তিপণের বিনিময়ে এক সপ্তাহ পর ফিরলেন অপহৃত পল্লী চিকিৎসক
সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের জুম্মাপাড়া এলাকা থেকে অস্ত্রধারীদের হাতে অপহৃত পল্লী চিকিৎসক কামাল উদ্দিন (৬৫) এক সপ্তাহ পর মুক্তিপণের বিনিময়ে পরিবারের কাছে ফিরে এসেছেন।

এর আগে গত রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে বাহারছড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জুম্মাপাড়া এলাকায় দিন-দুপুরে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে তাকে নিজ বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় অস্ত্রধারীরা। অপহৃত কামাল মাস্টার ওই এলাকার মৃত মকবুল আহমদের ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে পল্লী চিকিৎসকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অপহরণকারীরা পাহাড় থেকে নেমে এলাকায় প্রবেশ করে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে পরিবারের সদস্যদের সামনে থেকে কামালকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পাহাড়ের দিকে চলে যায়। বাধা দিতে গেলে অপহরণকারীরা আরো কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, অপহরণের এক সপ্তাহ পর কামাল উদ্দিনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কত টাকা মুক্তিপণ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তারা বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবারের মাধ্যমে জেনেছি অপহৃত কামাল মাস্টার ফিরে এসেছেন। কীভাবে তিনি ছাড়া পেয়েছেন, সেটি আমরা খতিয়ে দেখছি। মুক্তিপণ দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে এবং অপহরণকারী চক্রকে শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’