সরকারি নিবন্ধিত দলিলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফ্লুইড দিয়ে মুছে ও ঘষামাজা করে জমির মালিকানা পরিবর্তনের অভিযোগে দায়ের হওয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ফরিদপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার মো. ইউসুফ আলী মিয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
রবিবার (৫ জুলাই) ফরিদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন ইউসুফ আলী। শুনানি শেষে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম রেজা তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দুদক সূত্র জানায়, মামলার প্রধান আসামি ইউসুফ আলী এর আগে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেছিলেন। হাইকোর্ট তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করতে নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী নিম্ন আদালতে হাজির হলেও জামিন পাননি তিনি।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১৫ মে ফরিদপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সম্পাদিত একটি হেবা ঘোষণাপত্রের মূল কপির ষষ্ঠ পৃষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিকল্পিতভাবে পরিবর্তন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, দলিলে থাকা একটি অংশ ফ্লুইড দিয়ে সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়। পরে ঘষামাজা করে পরিবর্তিত অবস্থায় দলিলটি বালামভুক্ত করা হয় এবং দাপ্তরিক স্বাক্ষরও সম্পন্ন করা হয়।
দুদকের দাবি, এভাবে দলিলের প্রকৃত তথ্য গোপন করে অভিযোগকারী মো. খলিলুর রহমানকে তার প্রাপ্য ৯ শতাংশ জমির দখল থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি দুদকের ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরদার আবুল বাসার বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার ইউসুফ আলী ছাড়াও তুলনাকারক মো. মেহেদী হাসান, নকলকারক মনোয়ার হোসেন, পাঠক মো. জাহিদ শেখ এবং দলিলদাতা মো. জিন্নাহ শেখকে আসামি করা হয়েছে।
আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা, জাল-জালিয়াতি, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অসৎ উদ্দেশ্যে অন্যায় সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের ফরিদপুর কার্যালয়ের কোর্ট পরিদর্শক শামীম আহমেদ বলেন, তদন্তে যদি এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




