• ই-পেপার

ফরিদপুর

দুদকের মামলায় সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার ইউসুফ কারাগারে

খেলতে গিয়ে নিখোঁজ, নালায় মিলল দুই স্কুলশিক্ষার্থীর মরদেহ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
খেলতে গিয়ে নিখোঁজ, নালায় মিলল দুই স্কুলশিক্ষার্থীর মরদেহ
ছবি : কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় খেলতে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর একটি নালা থেকে দুই শিশু শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (৫ জুলাই) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বড়ভিটা ও ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী খড়িবাড়ি এলাকার কুচনি নালা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলো ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের রাবাইতারী গ্রামের নূর হোসেনের মেয়ে মোছা. লুচি খাতুন (৮) এবং বড়ভিটা ইউনিয়নের নওদাবস গ্রামের আনিছুর রহমানের মেয়ে মোছা. আম্বিয়া খাতুন (৭)। তারা দুজনই রাবাইতারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রবিবার স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর বিকেলে খেলাধুলার উদ্দেশে একসঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয় দুই শিশু। সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরে রাত ৮টার দিকে স্থানীয়রা বাড়ির পাশের খড়িবাড়ি এলাকার কুচনি নালায় দুই শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সেখান থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মমিনুল ইসলাম বলেন, পরিবারের অজান্তেই দুই শিশু খেলতে বের হয়েছিল। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর বাড়ির পাশের নালা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাইম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। ঘটনার কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী, দুই দিন পর মিলল মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী, দুই দিন পর মিলল মরদেহ
সংগৃহীত ছবি

বরিশালের মুলাদী উপজেলায় জয়ন্তী নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া স্কুলছাত্রী জামিলার (১৪) মরদেহ দুই দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (৫ জুলাই) সকালে আড়িয়াল খাঁ নদীর নন্দীরবাজার এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনরা।

নিহত জামিলা পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর গ্রামের শাহাবুদ্দিন দেওয়ানের মেয়ে। সে ঢাকার একটি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) মায়ের সঙ্গে মুলাদী উপজেলার দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর গ্রামে নানার বাড়িতে বেড়াতে যায় জামিলা। পরদিন শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে চরকালেখান ইউনিয়নের দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর লঞ্চঘাট এলাকায় জয়ন্তী নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয় সে। এরপর থেকে তাকে উদ্ধারে খোঁজাখুঁজি চলছিল।

রবিবার সকালে আড়িয়াল খাঁ নদীর নন্দীরবাজার এলাকায় বালুবাহী একটি ট্রলারের শ্রমিকেরা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্বজনদের খবর দেন। পরে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি জামিলার বলে শনাক্ত করেন এবং নদী থেকে উদ্ধার করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা জানান, নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দাফনের জন্য স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

স্কুলছাত্রীকে জোর করে বিয়ের অভিযোগের পর ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
স্কুলছাত্রীকে জোর করে বিয়ের অভিযোগের পর ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে বিয়ে , পরে তার বাবার কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি এবং ধারাবাহিক হুমকির অভিযোগের মধ্যে আবুল কাসেম (৪২) নামে এক মুদি ব্যবসায়ী আত্মহত্যা করেছেন। পরিবারের দাবি, মেয়েকে ঘিরে অপমান, সামাজিক চাপ, মারধর ও হুমকি সহ্য করতে না পেরেই তিনি আত্মহত্যা করেন।

রবিবার (৫ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের মহিষমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহতের পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, গত ২৫ জুন একই এলাকার রফিজুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম স্কুলে যাওয়ার পথে তাদের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে জোর করে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। পরে ঠাকুরগাঁও শহরে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিছু কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেন।

ওই স্কুলছাত্রীর অভিযোগ, স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে তার বাবাকে বাজারে যাওয়ার পথে এবং ছোট ভাইকে মাদ্রাসা থেকে ফেরার সময় হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তিনি বাধ্য হয়ে কাগজে স্বাক্ষর করেন। পরে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্যও তাকে সতর্ক করা হয়।

পরিবার জানায়, ১ জুলাই ঘটনাটি জানাজানি হলে সাইফুল ইসলাম তাদের মেয়েকে বাড়িতে দিয়ে যান। একই সঙ্গে আবুল কাসেমের কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই দিন বিকেলে বাড়ির সামনে তাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ পরিবারের।

নিহতের স্ত্রী লাবণী আক্তার বলেন, "সাইফুল ও তাঁর লোকজনের ভয়ে আমরা চার দিন ধরে আমার ভগ্নিপতির বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। তারা বারবার ফোন করে আমার স্বামীকে মেয়ে ও টাকা দেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছিল। রবিবার সকালে আমার স্বামী একা বাড়িতে আসেন। পরে আমরা এসে দেখি ঘরের দরজা বন্ধ। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখি তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।"

নিহতের ভাই আবুল কালাম বলেন, "আমার ভাই দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে ছিলেন। গ্রামের সামনে তাঁকে অপমান ও মারধর করা হয়েছে। ভয়, অপমান ও হুমকি সহ্য করতে না পেরেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার চাই।"

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাইফুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর স্ত্রী রুবা আক্তার বলেন, "সাইফুল বাড়িতে নেই। আর আমি যত দূর জানি, আমার স্বামী ওই স্কুলছাত্রীকে বিয়ে করেননি।"

নারায়ণগঞ্জে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে খুঁটিতে বেঁধে তরুণকে পিটিয়ে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক
নারায়ণগঞ্জে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে খুঁটিতে বেঁধে তরুণকে পিটিয়ে হত্যা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বাড়ি থেকে ডেকে এনে ‘ছিনতাইকারী’ আখ্যা দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে জিসান (২৫) নামের এক তরুণকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অনিক নামের আরেক তরুণ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শনিবার (৪ জুলাই) রাতে শহরের পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জিসান পশ্চিম মাসদাইর এলাকার ইউনুস মিয়ার ছেলে।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যুতের খুঁটিতে রশি দিয়ে বাঁধা দুই তরুণকে স্টিলের পাইপ ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করছেন কয়েকজন।

জানা গেছে, শনিবার রাতে শহরের পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় জিসান ও অনিককে তাদের বাসা থেকে ডেকে আনা হয়। পরে তাদের ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। স্থানীয় আল ফালাহ কল্যাণ সংগঠনের নেতা ও আল ফালাহ জামে মসজিদের ইমাম কাওসার হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক তাদের স্টিলের পাইপ ও লাঠি দিয়ে পিটুনি দেন বলে অভিযোগ। এক পর্যায়ে জিসান গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নিলে তার মৃত্যু হয়। আর অনিক বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার পর মসজিদের ইমাম কাওসার হোসেন হ্যান্ডমাইকে বক্তব্য দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘হামলা জনগণ করেছে। কুত্তাকে জনগণ পিটিয়ে মেরেছে, কোনো মামলা-হামলা কিচ্ছু হবে না।’

তাকে আরো বলতে শোনা যায়, ‘যখন ঐক্য থাকে, তখন বাংলাদেশের প্রশাসন কী, কোনো কুত্তায়ও আমাদের কিছু করতে পারবে না।’ এ সময় তিনি মাইকে ডাক দিয়ে সবাইকে একসঙ্গে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং ঘটনা তদন্তাধীন। তিনি বলেন, কেউ অপরাধ করলে অন্য কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।