• ই-পেপার

চিকিৎসাব্যবস্থাকে সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নারায়ণগঞ্জে লেকে গোসল করতে নেমে ৩ জনের মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে লেকে গোসল করতে নেমে ৩ জনের মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেকে গোসল করতে নেমে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বার্মা স্ট্যান্ড সংলগ্ন নাভানা সিটির সামনে দক্ষিণ কদমতলী কাশেমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদমজী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মিরন মিয়া এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক।

নিহতরা হলেন গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার মনাগ এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ারের ছেলে মো. রাশেদুজ্জামান (২২), নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকার বাসিন্দা আকরামের ছেলে মো. গালিব (১৮) এবং তার মেয়ে মোসা. সুরাইয়া (১২)। তারা বর্তমানে দক্ষিণ কদমতলী কাশেমপাড়া এলাকায় অ্যাডভোকেট জালালের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করত।

জানা গেছে, বিকেল ৪টার দিকে তারা তিন জন ডিএনডি লেকে গোসল করতে নামে। এক পর্যায়ে তারা পানিতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ফায়ার স্টেশনের ডুবুরিদল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

দুই ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে বিকেল ৫টার দিকে রাশেদুজ্জামান ও গালিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে সুরাইয়ার মরদেহ উদ্ধার করেন ডুবুরিরা।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গালিব তার বাবা আকরামের সঙ্গে ভ্যানে করে এলাকায় সবজি বিক্রি করত। রাশেদুজ্জামান ছিল আকরামের মেয়ের স্বামী। তিনি কর্মসংস্থানের খোঁজে সম্প্রতি সিদ্ধিরগঞ্জে এসেছিলেন।

আদমজী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মিরন মিয়া বলেন, ডিএনডি লেকে ৩ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করি। প্রায় দুই ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হই।

সড়ক কেটে চলাচলে বাধা, ২ মাসেও ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন

মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
সড়ক কেটে চলাচলে বাধা, ২ মাসেও ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে সড়ক কেটে গত ১৮ এপ্রিল চলাচলে বাধা দেয় স্থানীয় একটি পরিবার। ছবি : কালের কণ্ঠ

গ্রামীণ সড়কটি ৬০ বছরের পুরনো। চা-বাগানের শ্রমিক, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষকসহ অন্তত ১০০ পরিবারের সদস্যদের চলাচলের একমাত্র সড়ক এটি। হঠাৎ করে তারা দেখলেন সড়কজুড়ে বিশাল গর্ত।  স্থানীয় একটি পরিবার সড়ক কেটে বন্ধ করে দিয়েছে চলাচল।

ঘটনাটি ঘটে গত ১৮ এপ্রিল মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে। গ্রামের বাসিন্দা খুশেদ মিয়া ওরফে খোশিয়া ও তার ভাই বারিক মিয়া ওরফে বারিক্কা সড়কটি বন্ধ করে দেন। এতে বিপাকে পড়েন সড়কটি দিয়ে চলাচলকারীরা। 

কিন্তু তার চেয়ে বড় ঘটনা হলো, ওই ঘটনার দুই দিনের মাথায়, অর্থাৎ ২০ এপ্রিল প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান ভুক্তভোগীরা। এর প্রায় দুই মাসেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন।

এদিকে ওই ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। প্রতিকারের দাবিতে তারা আজ শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সভা করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা হাফেজ মাওলানা মোস্তাকিম আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন মাওলানা কাজী ওমর ফারুক, মন্নান মিয়া, জন্নান মিয়া, আব্দুল মিয়া প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, প্রায় ৬০ বছর ধরে রামচন্দ্রপুর গ্রামের মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে আসছে। দেওরাছড়া চা বাগানের একাংশের চা শ্রমিকসহ শতাধিক পরিবারের যাতায়াতে একমাত্র সড়ক এটি। প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন।

বক্তাদের দাবি, শুরুতে সড়কটি সরু থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি প্রায় ১৬ ফুট প্রশস্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে বিভিন্ন সময় এর সংস্কার ও উন্নয়ন কাজও হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি সড়কের দুই পাশের বাসিন্দা খুশেদ মিয়া ও তার বড় ভাই বারিক মিয়া দুই পাশ কেটে গভীর গর্ত খুড়েছেন। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, বারিক মিয়া সড়কের পাশে গর্ত করে সেখানে গোবর ও আবর্জনা ফেলছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। বর্তমানে বর্ষা মৌসুম চলছে। এখন পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। তারা বলেন, সড়কের বর্তমান অবস্থার কারণে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত এবং জরুরি প্রয়োজনে মৃতদেহ বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা না হলে এলাকায় মানবিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে।

সংকট নিরসনে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বক্তারা বলেন, সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে সড়কের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করে দখল ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। 

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলেও সভায় জানানো হয়।

অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত বারিক মিয়া বলেন, ‘আমার দলিলের জায়গায় রাস্তা পড়েছে, তাই আমি কেটেছি। এখানে কার সমস্যা বা কিসের সমস্যা- এটা আমার জানার বিষয় না।’

এ ব্যাপারে রহিমপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার বলেন, ‘মানুষের চলাচলের রাস্তা কেটে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। গ্রামবাসীর স্বার্থ রক্ষায় এবং সমস্যার দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কমলগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, রাস্তা কাটার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সত্যতা পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবর্তন হচ্ছে একটি উপজেলার নাম

বগুড়া অফিস
পরিবর্তন হচ্ছে একটি উপজেলার নাম

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার নাম পরিবর্তন করা হচ্ছে। এই উপজেলার নতুন নাম ঠিক করা হয়েছে মহাস্থান উপজেলা। গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) রাতে বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল শেষে এক সমাবেশে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এই ঘোষণা দেন।  

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে শিবগঞ্জ নামে আরো একটি উপজেলা আছে। যেটির অবস্থান চাঁপাইনবাবগঞ্জে। একই নামে দুই উপজেলা থাকায় সরকারি কাজকর্মে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়। এ জন্য আপনারা (শিবগঞ্জবাসী) সমর্থন দিলে শিবগঞ্জ উপজেলার নাম পরিবর্তন করে মহাস্থান নামকরণ করা হবে।’

ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী শিবগঞ্জ উপজেলাটি বগুড়া জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে বৃহৎ উপজেলা। আয়তন ৩১৫ কিমি। বগুড়া জেলা শহর হতে ১৯ কিমি উত্তরে গাংনই নদীর তীরে অবস্থিত। এ উপজেলার উত্তরে গাইবান্ধা জেলা, দক্ষিণে বগুড়া সদর কাহালূ ও দুপচাঁচিয়া উপজেলা ,পূর্বে সোনাতলা ও গাবতলী উপজেলা এবং পশ্চিমে কালাই ও ক্ষেতলাল উপজেলা।

এর আগে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব ইমতিয়াজ মোরশেদ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা বন্দরকে নতুন উপজেলা ঘোষণার অনুমোদন করেন। শিবগঞ্জ উপজেলার পাচঁটি ইউনিয়ন যথাক্রমে মোকামতলা দেউলী, সৈয়দপুর, ময়দানহাট্টা এবং শিবগঞ্জ সদর নিয়ে মোকামতলা উপজেলা গঠন করা হয়। এর আয়তন ১২৮ দশমিক ৭৪ বর্গকিলোমিটার। লোকসংখ্যা প্রায় দেড় লাখের মতো।

শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব জানান, সরকারি কাজকর্মে নানা জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিমন্ত্রী শিবগঞ্জ উপজেলার নাম পরিবর্তন করে মহাস্থান নামকরনের কথা বলেছেন। খুব শিগগির তা বাস্তবায়ন হতে পারে।

শিক্ষাকে আধুনিকায়নে কাজ করছে সরকার : শিক্ষামন্ত্রী

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
শিক্ষাকে আধুনিকায়নে কাজ করছে সরকার : শিক্ষামন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

শিক্ষাকে আধুনিকায়নে কাজ করছে সরকার বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা হবে ইনোভেশন, স্টার্টআপ এবং প্রজেক্ট বেজড। শিক্ষাকে আধুনিকায়নে কাজ করছে সরকার। এ কারণে শিক্ষার গুরুত্ব বিবেচনায় শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা শিক্ষাকে ইনোভেশনে নিয়ে যাচ্ছি। শিক্ষাকে আনন্দের জায়গায় নিয়ে যাচ্ছি। দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে এবং আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, শিক্ষায় উৎসাহী করতে জাতীয় পর্যায়ে আমরা শুধু শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী-শিক্ষকই নির্বাচন করব না, বাংলাদেশের সেরা শিক্ষানুরাগীও নির্বাচিত করব। যারা প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সম্মাননা পাবেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি), নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীসহ অন্যরা।