নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে ‘বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল এডভোকেটস্’ নামের একটি সংগঠন। তাদের দাবি, এই দুই ধরনের তামাকপণ্যকে করের আওতায় এনে বৈধতা দেওয়ায় দেশের জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কর আরোপ করে বৈধতা নয়, বরং এসব পণ্যকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।
শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীতে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে এই দাবি জানায় সংগঠনটি।
বক্তারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন অধ্যাদেশে সব ধরনের ইমাজিং তামাক পণ্য উৎপাদন, বিতরণ, বিপণন ও আমদানি সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করে। কিন্তু নির্বাচিত সরকার রাজস্ব আয়ের দোহাই দিয়ে আইন থেকে বিধানটি বাদ দিয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও পরামর্শ উপেক্ষা করে করের আওতায় এনে এসব পণ্যকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে।
তারা বলেন, আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তায় রাজস্ব আয় কখনোই জনস্বাস্থ্য এবং মানুষের মৃত্যুর চেয়ে ‘বড়’ বিবেচ্য হতে পারে না। এমন ক্ষতিকর নেশাকে বৈধতা দেওয়ায় মানুষ হতাশ হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতিসহ দেশের কোটি কিশোর-তরুণ নতুন নেশার ফাঁদে আটকে পড়বে।
বক্তারা আরো বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘গ্লোবাল টোব্যাকো এপিডেমিক’ রিপোর্ট অনুযায়ী, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম আসক্তি সৃষ্টিকারী ও ক্ষতিকর পণ্য। বাংলাদেশে নতুন হলেও বিশ্বে অনেক দেশ এসব পণ্য নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রণ করছে। ইতিমধ্যে বিশ্বের মোট ৪৭টি দেশ হিটেড টোব্যাকো পণ্য/ই-সিগারেট বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি আদেশে বাংলাদেশেও ই-সিগারেট আমদনি নিষিদ্ধ করা হয়। হাইকোর্টের আপিল বিভাগ দেশে নতুন কোনো তামাক বা তামাকজাত কম্পানিকে অনুমোদন না দেওয়া এবং তামাক ব্যবহার হ্রাসের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। নিকোটিন পাউচ, হিটেড টোব্যাকো পণ্যকে আইনগত বৈধতা দেওয়ার অর্থ হচ্ছে তামাক ব্যবহার বৃদ্ধি করা, যা আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী।




