প্রবীণদের অধিকার রক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘প্রবীণ সেবা পদক ২০২৫’ পেয়েছেন সমাজকর্মী ও লেখক জ্যোতি চট্টোপাধ্যায়। শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডির রাপা প্লাজায় বিশ্ব প্রবীণ নির্যাতন সচেতনতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার সহধর্মিনী কৃষ্ণা চট্টোপাধ্যায়ের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক ও মানপত্র তুলে দেন জুরি বোর্ডের প্রধান ও কালের কণ্ঠের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফারুক মেহেদী। প্রবীণ সেবা পদক প্রদান ও বিশ্ব প্রবীণ নির্যান সচেতনতা দিবসের এ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট। এটি বাংলাদেশ সরকারের একটি স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা, যা মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে।
আরো পড়ুন
অবিলম্বে অসম মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিল করতে হবে : নুর আহমদ বকুল
গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট আয়োজিত সাহসী হোন, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বার্ধক্য বরণ করুন’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রবীণ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত শতাধিক প্রবীণ অংশ নেন। গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) জীবন কানাই দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এ আয়োজনের সমন্বয়ক ও প্রবীণ বিষয়ক লেখক-সংগঠক হাসান আলী।
জুরি বোর্ডের প্রধান ও অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাংবাদিক ফারুক মেহেদী বলেন, ‘সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে প্রবীণদের অবদান অপরিসীম। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব নতুন প্রজন্মকে পথ দেখায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রবীণদের অবদানকে যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া সমাজের দায়িত্ব।’
মহাত্মা গান্ধী ‘প্রবীণ সেবা পদক’ প্রদানের উদ্যোগকে তিনি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এর মাধ্যমে সমাজের আলোকিত মানুষদের স্বীকৃতি তাদের কাজের স্পৃহা বাড়িয়ে দেবে এবং সমাজে ভালো কাজের প্রসার ঘটবে।
অনুষ্ঠানে জ্যোতি চট্টোপাধ্যায়ের ওপর মানপত্র পাঠ করেন গত বছরের এ পদক জয়ী হাসিনা মজুমদার চুমকি। জানা যায়, পদক জয়ী জ্যোতি চট্টোপাধ্যায় ১৯৫৩ সালে সাতক্ষীরার বিষ্ণুপুর গ্রামে জন্ম নেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবনে বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৮৭ সাল থেকে গণসাহায্য সংস্থার মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে বর্তমানে আইআইডিতে কর্মরত রয়েছেন। প্রবীণদের অধিকার ও কল্যাণে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করার পাশাপাশি তিনি এ বিষয়ে তিন শতাধিক প্রবন্ধ ও বেশ কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেছেন।
গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের প্রতিনিধিরা জানান, আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯৪৬ সালে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতি ও তাঁর শান্তি-সমপ্রীতির আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ট্রাস্টটি প্রায় দুই লাখ পরিবারের সঙ্গে কাজ করছে এবং উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা ও চক্ষু শিবির পরিচালনা করছে।
আরো পড়ুন
নারায়ণগঞ্জে লেকে গোসল করতে নেমে ৩ জনের মৃত্যু
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব ও ট্রাস্টের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) জীবন কানাই দাস বলেন, ‘প্রবীণদের প্রতি শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক অবহেলাও এক ধরনের নির্যাতন। এসব বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রবীণদের অধিকার প্রতিষ্ঠাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রবীণদের প্রতি সম্মান, পারিবারিক দায়িত্ববোধ এবং তাদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সমাজের সব স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাহা নবকুমার উপস্থিত ছিলেন ।