• ই-পেপার

শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

রাশিয়া দিবস উপলক্ষে ঢাকায় সাংস্কৃতিক মেলা, প্রদর্শনী ও কনসার্টের আয়োজন

অনলাইন ডেস্ক
রাশিয়া দিবস উপলক্ষে ঢাকায় সাংস্কৃতিক মেলা, প্রদর্শনী ও কনসার্টের আয়োজন
সংগৃহীত ছবি

রাশিয়া দিবস উপলক্ষে রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা একটি বৃহৎ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, যেখানে রাশিয়ান ও বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং রাশিয়ার বন্ধুদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

শনিবার (১৩ জুন) অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকার পরিচালক আলেকজান্দ্রা খ্লেভনই। তিনি রাশিয়া দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব, রাশিয়ান ফেডারেশনের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন জাতির মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্ব জোরদারে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ভূমিকা সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন।

এরপর বক্তব্য দেন বাংলাদেশে রাশিয়ান ফেডারেশনের দূতাবাসের মিনিস্টার-কাউন্সেলর ভিয়াচেস্লাভ সেন্টিউরিন। তিনি রাশিয়া ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করতে সাংস্কৃতিক ও মানবিক সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন।

অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক পর্বে আধুনিক রাশিয়াকে তুলে ধরে একটি মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা প্রদর্শন করা হয়, যেখানে দেশটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল রাশিয়ার তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রের ইয়েলাবুগা কলেজ অব কালচার অ্যান্ড আর্টস-এর লোকসংগীত ও নৃত্যদল “আলাবুগা”-এর পরিবেশনা। রুশ ও তাতার লোকসংগীত, বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনা এবং নৃত্যের মাধ্যমে তারা রাশিয়ার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করেন।

কনসার্টে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংগীতশিল্পী রাজিল গাব্বাসভ ঐতিহ্যবাহী লোকবাদ্যযন্ত্র পরিবেশন করেন এবং তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রের সম্মানিত শিল্পী দিলইয়ারা মিরোভায়েভা বিশেষ সংগীত পরিবেশন করেন।

সাংস্কৃতিক বিনিময়ের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণ করে “হ্যাপিনেস” নামের একটি শিশু নৃত্যদল, যার সদস্যরা সোভিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সন্তান। তাদের পরিবেশিত বাংলা ঐতিহ্যবাহী নৃত্য রাশিয়া ও বাংলাদেশের জনগণের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে দর্শকদের মুগ্ধ করে।

বাংলাদেশে বসবাসরত রাশিয়ান স্বদেশী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তারা ‘গ্লিয়াঝু ভ ওজিওরা সিনিয়ে’ গান-কবিতা আবৃত্তি করেন এবং জনপ্রিয় রুশ লোকসংগীত ‘করোবেইনিকি’-এর সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন।

অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ অংশ তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রকে উৎসর্গ করা হয়, যেখানে এর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং রাজধানী কাজান সম্পর্কে দর্শকদের পরিচিত করা হয়।

কনসার্টের পর অতিথিরা রাশিয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক মেলায় অংশগ্রহণ করেন এবং দুটি প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। ‘মাল্টিকালচারাল রাশিয়া’ প্রদর্শনীতে রাশিয়ার বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়, আর ‘প্রিস্টিন রাশিয়া’ প্রদর্শনীতে দেশটির অনন্য প্রাকৃতিক দৃশ্য ও বন্যপ্রাণী উপস্থাপন করা হয়।

মেলায় মাতরিয়োশকা রঙ করার কর্মশালা, রুশ ধাঁচের ফটোজোন, স্মারক সামগ্রীর প্রদর্শনী, ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পানীয় এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।

এই উদযাপন বাংলাদেশে রুশ সংস্কৃতির প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রতিফলন ঘটায় এবং দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পুনর্ব্যক্ত করে।

ফের ঢাকা স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি  হলেন ইঞ্জি. মিজানুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফের ঢাকা স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি  হলেন ইঞ্জি. মিজানুর রহমান

ঢাকা স্পোর্টিং ক্লাবের নতুন ১২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে আবারও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে ইঞ্জি. মো. মিজানুর রহমান। শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর মিরপুরে অনুষ্ঠিত এক সভায় উপস্থিত উপদেষ্টাদের সর্বসম্মতিক্রমে এই কমিটি অনুমোদিত হয়। কমিটির মেয়াদ দুই বছর (২০২৬-২০২৮) নির্ধারণ করা হয়।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন-  সহসভাপতি মো. হাসানুল বান্না ও মো. নাসির ফিরোজ, সাধারণ সম্পাদক মো আব্দুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. জাকিউল ইসলাম (রাব্বি) ও  যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম,  সংগঠনিক সম্পাদক এস এম আমিমুল হাসান, কোষাধ্যক্ষ মো. সাইফুল ইসলাম, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান সাহেদ, গেম ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম, সদস্য মো. জিয়াউল আহসান ও মাহমুদা আখতার মুমু। 

সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাইন উদ্দিন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এস এম মইনুল করিম, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা. ইসমাত জাহান লিমা এবং কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. রাহাত বিন কাসেম।

পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ইঞ্জি. মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘ঢাকা স্পোর্টিং ক্লাবের সদস্য, খেলোয়াড় ও সম্মানিত উপদেষ্টাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তাদের আস্থা ও সমর্থনের কারণেই আমি আবারও এই দায়িত্ব পেয়েছি। ক্লাবের উন্নয়ন, ক্রিকেটারদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রতিভা তৈরিতে আমি সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাব।’

তিনি আরো বলেন, ‘ঢাকা স্পোর্টিং ক্লাব একটি আধুনিক, পেশাদার ও প্রতিভা বিকাশমুখী ক্রিকেট প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ইতোমধ্যে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানসম্পন্ন ক্রিকেটার তৈরির লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ঢাকা স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করা হয়। তারা তরুণ ক্রিকেটারদের দক্ষতা উন্নয়ন, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ক্লাবটি বর্তমানে ক্রিকেট প্রশিক্ষণ, প্রতিভা বিকাশ এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের ক্রিকেট উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

এদিকে কোন পরামর্শ বা যে কোনো তথ্যের জন্য ঢাকা স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের ওয়েবসাইটে (www.dscbd.club) প্রবেশ করতে অনুরোধ জানিয়েছে ক্লাব সংশ্লিষ্টরা।

স্কোয়াশের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা দেবে সরকার: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্কোয়াশের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা দেবে সরকার: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

স্কোয়াশ খেলার উন্নয়ন ও প্রসারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিতে সরকার প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেন, স্কোয়াশ কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দেওয়া হলে সরকার তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি তরুণদের মাদক ও অতিরিক্ত ডিভাইস-নির্ভরতা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর আর্মি স্কোয়াশ কমপ্লেক্সে ‘টুরাগ অ্যাক্টিভ ৬ষ্ঠ জাতীয় স্কোয়াশ চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশ স্কোয়াশ ফেডারেশনের আয়োজনে এবং উর্মী গ্রুপের প্রতিষ্ঠান টুরাগ অ্যাক্টিভের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত চার দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় দেশের ২৮ জেলার ৩০টি ক্লাব ও প্রতিষ্ঠানের শতাধিক খেলোয়াড় অংশ নেন। তাদের মধ্যে ৭৯ জন পুরুষ ও ২৪ জন নারী খেলোয়াড় ছিলেন। প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় উন্মুক্ত পুরুষ ও মহিলা, সৌখিন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী এবং অনূর্ধ্ব-১১, অনূর্ধ্ব-১৩ ও অনূর্ধ্ব-১৫ বছর বয়সী ছেলে-মেয়েদের পৃথক বিভাগসহ মোট নয়টি বিভাগে।

আমিনুল হক বলেন, ধারাবাহিক জাতীয় প্রতিযোগিতা, তৃণমূল পর্যায়ে খেলোয়াড় তৈরির উদ্যোগ এবং বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার কারণে দেশে স্কোয়াশের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সরকার সব খেলাকেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে একটি ক্রীড়াবান্ধব সমাজ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উর্মী গ্রুপের পরিচালক ফাইয়াজ রহমান বলেন, দেশে স্কোয়াশের সম্ভাবনা অনেক এবং তরুণদের মধ্যে এ খেলার প্রতি আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। নিয়মিত জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা নতুন প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করছে। ভবিষ্যতেও স্কোয়াশসহ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে উর্মী গ্রুপ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

বাংলাদেশ স্কোয়াশ ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল মো. হাসান উজ জামান বলেন, সীমিত অবকাঠামো ও নিজস্ব কোর্টের অভাব সত্ত্বেও গত কয়েক বছরে দেশের স্কোয়াশে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন, নারী খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্কোয়াশ সম্প্রসারণে ফেডারেশন কাজ করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জি এম কামরুল ইসলাম, উন্নয়ন কমিটির প্রধান মেজর শফিউল্লাহ মাস্তান, উর্মী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের উপদেষ্টা এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) বদরুল আমিন এবং টুরাগ অ্যাক্টিভের সিওও আহম্মদ মনসুর রউফসহ ফেডারেশন ও পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।

আয়োজকদের মতে, রেকর্ডসংখ্যক খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ এবং প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া এবারের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ দেশের স্কোয়াশ অঙ্গনের অন্যতম সফল আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হবে।

বিশ্ব প্রবীণ নির্যাতন সচেতনতা দিবস উদযাপন

মহাত্মা গান্ধী ‘প্রবীণ সেবা পদক’ পেলেন জ্যোতি চট্টোপাধ্যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
মহাত্মা গান্ধী ‘প্রবীণ সেবা পদক’ পেলেন জ্যোতি চট্টোপাধ্যায়
ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রবীণদের অধিকার রক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘প্রবীণ সেবা পদক ২০২৫’ পেয়েছেন সমাজকর্মী ও লেখক জ্যোতি চট্টোপাধ্যায়। শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডির রাপা প্লাজায় বিশ্ব প্রবীণ নির্যাতন সচেতনতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার সহধর্মিনী কৃষ্ণা চট্টোপাধ্যায়ের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক ও মানপত্র তুলে দেন জুরি বোর্ডের প্রধান ও কালের কণ্ঠের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফারুক মেহেদী। প্রবীণ সেবা পদক প্রদান ও বিশ্ব প্রবীণ নির্যান সচেতনতা দিবসের এ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট। এটি বাংলাদেশ সরকারের একটি স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা, যা মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে।

গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট আয়োজিত সাহসী হোন, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বার্ধক্য বরণ করুন’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রবীণ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত শতাধিক প্রবীণ অংশ নেন। গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) জীবন কানাই দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এ আয়োজনের সমন্বয়ক ও প্রবীণ বিষয়ক লেখক-সংগঠক হাসান আলী।

জুরি বোর্ডের প্রধান ও অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাংবাদিক ফারুক মেহেদী বলেন, ‘সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে প্রবীণদের অবদান অপরিসীম। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব নতুন প্রজন্মকে পথ দেখায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রবীণদের অবদানকে যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া সমাজের দায়িত্ব।’

মহাত্মা গান্ধী ‘প্রবীণ সেবা পদক’ প্রদানের উদ্যোগকে তিনি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এর মাধ্যমে সমাজের আলোকিত মানুষদের স্বীকৃতি তাদের কাজের স্পৃহা বাড়িয়ে দেবে এবং সমাজে ভালো কাজের প্রসার ঘটবে।

অনুষ্ঠানে জ্যোতি চট্টোপাধ্যায়ের ওপর মানপত্র পাঠ করেন গত বছরের এ পদক জয়ী হাসিনা মজুমদার চুমকি। জানা যায়, পদক জয়ী জ্যোতি চট্টোপাধ্যায় ১৯৫৩ সালে সাতক্ষীরার বিষ্ণুপুর গ্রামে জন্ম নেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবনে বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৮৭ সাল থেকে গণসাহায্য সংস্থার মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে বর্তমানে আইআইডিতে কর্মরত রয়েছেন। প্রবীণদের অধিকার ও কল্যাণে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করার পাশাপাশি তিনি এ বিষয়ে তিন শতাধিক প্রবন্ধ ও বেশ কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেছেন।

গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের প্রতিনিধিরা জানান, আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯৪৬ সালে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতি ও তাঁর শান্তি-সমপ্রীতির আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ট্রাস্টটি প্রায় দুই লাখ পরিবারের সঙ্গে কাজ করছে এবং উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা ও চক্ষু শিবির পরিচালনা করছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব ও ট্রাস্টের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) জীবন কানাই দাস বলেন, ‘প্রবীণদের প্রতি শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক অবহেলাও এক ধরনের নির্যাতন। এসব বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রবীণদের অধিকার প্রতিষ্ঠাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রবীণদের প্রতি সম্মান, পারিবারিক দায়িত্ববোধ এবং তাদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সমাজের সব স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাহা নবকুমার উপস্থিত ছিলেন ।