• ই-পেপার

অবিলম্বে অসম মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিল করতে হবে : নুর আহমদ বকুল

জামায়াত আমির

৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা গণতন্ত্রের চেতনার পরিপন্থী। জনগণ তাদের ভোটাধিকার ও গণরায়ের যথাযথ প্রতিফলন দেখতে চায়। সরকার যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণই তার জবাব দেবে। জনরায় মানে না যে সরকার, সে সরকার জনগণের সরকার হতে পারে না।’

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। 

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে যোগ্য, সৎ ও দেশপ্রেমিক লোকদের মূল্যায়ন না করে ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন এবং দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হচ্ছে। সংসদে জনগণের সমস্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে গেলেও নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। অথচ সংসদ জনগণের কথা বলার জায়গা।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বিদেশি শক্তির কাছে ইজারা দেওয়া হবে না। দেশের ১৮ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে এই দেশকে রক্ষা করবে। আমরা জাতির সঙ্গে বেঈমানি করব না; জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত আছি।’

তিনি বলেন, ‘দেশে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি আজ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে এসব অপসংস্কৃতির অবসান ঘটবে। জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের সংগ্রাম চলবে সংসদেও, রাজপথেও। ভয়ভীতি, মামলা-হামলা কিংবা কারাবাসের হুমকি দিয়ে জনগণের আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না।’

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ছাত্রদলের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ছাত্রদলের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনসহ ঘৃণ্য অপরাধের অভিযোগে আগামীকাল রবিবার (১৪ জুন) সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে ছাত্রদল।

আজ শনিবার (১৩ জুন) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপিতে এ তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ছাত্রশিবির কর্তৃক গুম ও অপহরণের নাটক সাজিয়ে প্রকৃত গুমের শিকার ভিকটিমদের অবমাননা করা, অনলাইনে সংঘবদ্ধভাবে সরকারকে মিথ্যা দোষারোপ এবং গুপ্ত নেতাকর্মীদের দ্বারা ধর্ষণ, নারী নির্যাতনসহ ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটনের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এক দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।’

বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের আনন্দ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের আনন্দ মিছিল

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু ও তার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সফলতা কামনা করা হয়।

শনিবার (১৩ জুন) বিকালে রাজধানীর কাকরাইল মোড় থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের উদ্যোগে এই স্বাগত মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি পল্টন ও কাকরাইলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কাকরাইল মোড়ে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষের কল্যাণ ও দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই বাজেট পেশ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ আজ অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এই বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন আরো বেগবান হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

মিছিলে স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির ১ নং সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম, রাসেল মাহমুদ, এম জি মাসুম রাসেল, শফিউদ্দিন সেন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল্লাহ ফয়েজ, নাসিমা আক্তার শিমু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, সহ-তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রহমান রাজীব, দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক জহিরুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী অংশ নেন।

সরকার বিদেশি ঋণনির্ভর উচ্চাভিলাষী লুটপাটের বাজেট পেশ করেছে : গোলাম পরওয়ার

ভোলা প্রতিনিধি
সরকার বিদেশি ঋণনির্ভর উচ্চাভিলাষী লুটপাটের বাজেট পেশ করেছে : গোলাম পরওয়ার

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করার পূর্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একটি বিকল্প খসড়া বাজেটে অর্থনীতিকে দাঁড় করানোর যে প্রস্তাবনা আমরা দিয়েছিলাম, সরকার সেগুলোকে বাদ দিয়ে উচ্চাভিলাষী বিদেশের ঋণের ওপর নির্ভরশীল একটা লুটপাটের বাজেট পেশ করেছে।’ 

আজ শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে ভোলা শহরের ওয়েস্টার্নপাড়ায় জামায়াতে ইসলামীর জেলা কার্যালয়ে উপজেলা ‘কর্মপরিষদ সদস্যদের শিক্ষা শিবির’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘প্রশাসন থেকে শুরু করে কর কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও জুডিশিয়ারি কমিশন থেকে দুর্নীতি না কমালে যে বাজেট হবে সে বাজেটের টাকা দলীয় কর্মীরা ভাগযোগ করে খাবে। দুর্নীতির কোনো হিসাব হবে না, এ জন্য আমরা বলেছি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে এ বাজেট জনগণের আশা পূরণ করবে না। এটা হয়েছে দলীয় কর্মীদের ভাগ্য পরিবর্তনের লুটপাটের একটা বাজেট। সরকারে বলব, আমরা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে যে খসড়া বাজেট প্রস্তাব করেছি তার আলোকে বাজেটকে সংশোধন করে আগামী ৩০ জুন জনবান্ধব বাজেট পাস করুন।’ 

জুলাই সনদ নিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, “গত ১২ ফেব্রুয়ারির একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলো। জুলাই সনদের ভিক্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে ৮৪টি ঐক্যমতের ভিত্তিকে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবে সব দল একমত হয়েছে এবং গণভোটের ৪টি প্রশ্নের সমন্বয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৭০ ভাগ লোক গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে তারা মতামত দিয়েছে। এমনকি বিএনপিও সেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেই ছিল। কিন্তু নির্বাচনের পরে দুঃখজনকভাবে দেখা গেল বিএনপি সরকার সংসদ গঠনের পর পরই ১৮০ ডিগ্রী ইউটার্ন নিয়ে বললেন—গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ বেআইনি এবং এগুলো সংবিধানে নাই আমার এগুলো মনি না। এতে বোঝা গেল তাদের অন্তরে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের কোনো ইচ্ছা ছিল না, ক্ষমতায় বসে জাতির ওপরে আবার ফ্যাসিবাদের মতো শাসনের ইচ্ছাই তারা লুকিয়ে রেখেছিলেন। যার কারণেই তারা গণভোটের রায়কে অস্বীকার করছে। ফলে রাজনীতি সেই সংকট রয়েই গেল।”

কর্মশালায় ভোলা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাস্টার মুহাম্মদ জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল অঞ্চলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াজ্জম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় মজলিশের শুরা সদস্য এ কে এম ফখরুদ্দিন খান রাজীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।