• ই-পেপার

জিয়ার স্মৃতি বিজড়িত ৪৭ বছরের পুরোনো পটিয়া জিমনেসিয়াম

চন্দনাইশে হত্যা মামলার এজহারভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চন্দনাইশে হত্যা মামলার এজহারভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মো. সেকান্দার ইসলাম প্রকাশ রাশেদ নামে এক এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) ভোরে উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর চাগাচর চৌকিদার পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে চন্দনাইশ থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত রাশেদ চন্দনাইশ থানার মামলা নং-০৪(১০)১৯, জিআর-২২৩/১৯-এর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ৩৬(১) এর ১০(ক) ধারার এজাহারভুক্ত আসামি। তার বিরুদ্ধে এলাকায় চুরি, মাদকসেবনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া উপজেলার দোহাজারী নাথপাড়ার আলোচিত ফুলতলা এলাকার ব্যবসায়ী স্বপন হত্যা মামলার প্রধান আসামি।

চন্দনাইশ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দিদারুল ইসলাম সিকদার বলেছেন আসামিকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

এবার হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক এমপি শাহে আলম

বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
এবার হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক এমপি শাহে আলম
বরিশাল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহে আলম। ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ শাহে আলমকে এবার হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৮ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালত এ আদেশ দেন। এদিন কারাগার থেকে শাহে আলমকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গুলশানের শাহজাদপুর এলাকায় আন্দোলন চলাকালে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। কনফিডেন্স টাওয়ারের সামনে সংঘটিত ওই ঘটনায় ভ্যানচালক জব্বার আলী হাওলাদার গুলিবিদ্ধ হন। পরে ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর জব্বার আলী হাওলাদার বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১০৯ জনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় এজাহারে নাম না থাকলেও অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে সাবেক এমপি শাহে আলমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। 

২০২৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাবেক এমপি শাহে আলমকে গুলশানে মারধরের পর থানায় সোপর্দ করে বিক্ষুব্ধরা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর গুলশান ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান হত্যা মামলায় এজাহারে নাম না থাকলেও অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরের দিন ১৫ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে তোলা হলে তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়, সাবেক চিফ হুইপ নুরে আলম চৌধুরী লিটন, সাবেক সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান, সাবেক বিদুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, সাবেক এমপি নুর মোহাম্মদ।

এর আগে ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সাবেক এমপি শাহে আলমের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, হামলা, মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বরিশালের আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়। মামলাটিতে তার তিন ভাইসহ মোট ১৪ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি অবৈধ সম্পদ অজর্নের অভিযোগে সাবেক এমপি শাহে আলমের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী

মোটরসাইকেল আরোহীকে ধাক্কায় ঢাকাগামী বাসে আগুন দিল বিক্ষুব্ধরা

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
মোটরসাইকেল আরোহীকে ধাক্কায় ঢাকাগামী বাসে আগুন দিল বিক্ষুব্ধরা

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে আব্দুল হামিদ চৌধুরী (৭৫) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহীকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে। এতে বাসটির বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়। 

সোমবার (৮ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের হাফিজিয়া মাদরাসার পাশে ভূরুঙ্গামারী-কুড়িগ্রাম মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, আব্দুল হামিদ মোটরসাইকেল নিয়ে পার্শ্ববর্তী সড়ক থেকে মহাসড়কে ওঠার সময় ঢাকাগামী স্বাধীন পরিবহনের একটি নৈশ কোচ তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনায় তাঁর একটি পা থেঁতলে যায় এবং মাথায় আঘাত লাগে।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্বাধীন পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার সফি বলেন, যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বাসটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে এবং পরে সেটিতে আগুন দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু সাজ্জাদ মোহাম্মদ সায়েম জানান, আহত ব্যক্তিকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুরে পাঠানো হয়েছে।

আহতের ছেলে খোকন চৌধুরী বলেন, ‘আমার বাবার অবস্থা আশংকাজনক। আমরা তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি।’ 

এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ঘটনার কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে।’

গাইবান্ধায় জমির বিরোধে কলেজছাত্র হত্যা, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধায় জমির বিরোধে কলেজছাত্র হত্যা, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ
ছবি: কালের কণ্ঠ

গাইবান্ধা সদর উপজেলার ত্রিমোহনী এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে অনার্স পড়ুয়া কলেজছাত্র ফাহমিদ রুমনকে ছুরিকাঘাতে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, ভাঙচুর, সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যের আগে রুমনের লাশ বাড়িতে নিয়ে আসা হলে নিহত রুমনের স্বজন ও এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তারা অভিযুক্ত রাকিবের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। পরে গাইবান্ধা-সাঘাটা সড়কে দুটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এতে প্রায় এক ঘণ্টা ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

পুলিশ জানায়, ত্রিমোহনী এলাকার মৃত ফারুক ইসলামের ছেলে ফারদিন রুহিতের সঙ্গে একই গ্রামের হাজী ছানা মিয়ার ছেলে রাকিব মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে রবিবার (৭ জুন) রাত সাড়ে নটার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে রাকিব ধারালো অস্ত্র দিয়ে রুহিতকে আঘাত করেন।

এ সময় রুহিতের ছোট ভাই ফাহমিদ রুমন তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় দুই ভাইকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুমনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত রুহিত বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন কালের কণ্ঠকে জানান, এ ঘটনায় কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে  অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।