• ই-পেপার

পটিয়ায় আধুনিক মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

কেন্দুয়ায় খেলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
কেন্দুয়ায় খেলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় খেলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে সাফোয়ান মিল্কি (২) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের সাজিউড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সাফোয়ান মিল্কি ওই গ্রামের সজল মিল্কি ও সোনিয়া আক্তার দম্পতির সন্তান।

শিশুটির পরিবার সূত্র জানায়, বিকেলে অন্যান্য দিনের মতো বাড়ির সামনে খেলছিল শিশু সাফোয়ান। খেলার একপর্যায়ে সবার অগোচরে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায় সে। পরে পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে পুকুরে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। তৎক্ষণাৎ তাকে উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের চাচা বাবুল মিল্কি বলেন, ‘আমার ভাতিজা খেলতে গিয়ে পুকুরে পড়ে মারা গেছে। ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। আমাদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মেহেদী মাকসুদ বলেন, ‘পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি আমাদেরকে জানানো হয়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।’

বিএসএফের হাতে দুই বাংলাদেশি আটক

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
বিএসএফের হাতে দুই বাংলাদেশি আটক
ফাইল ছবি

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক আটক হয়েছেন। ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় সীমান্তের ওপারে ভারতের অভ্যন্তরে কাকরমনি ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের আটক করে বলে জানা যায়।

আটকরা হলেন হরিপুর উপজেলার ডাঙ্গীপাড়া গ্রামের মো. সুবাহান আলীর ছেলে মো. আলিমুল ইসলাম (৪৫) এবং কাদিরসুখা গ্রামের কুরবান আলীর ছেলে মো. করিম (৩৫)।

সীমান্ত সূত্র জানায়, আটকদের মধ্যে মো. করিম ভারতের একটি ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তারা দুজনেই ভারত থেকে অবৈধ পথে বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় হরিপুর বিওপির (বর্ডার আউটপোস্ট) বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরে ওত পেতে থাকা কাকরমনি বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহল দল তাদের হাতেনাতে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত সিও মেজর আহসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। তবে বিএসএফের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। এ ছাড়া আটকদের পরিবারও  আমাদের সঙ্গে এখন পর্যন্ত যোগাযোগ করেনি।

ট্রাক্টর উল্টে পদ্মা নদীতে পড়ে চালকের মৃত্যু

সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ট্রাক্টর উল্টে পদ্মা নদীতে পড়ে চালকের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক্টরসহ পদ্মা নদীতে পড়ে মো. জয় বিশ্বাস নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। 

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে উপজেলার চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের চরকল্যাণপুরের বালুরঘাট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জয় (২৪) ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার নিত্যানন্দপুর ইউনিয়নের শাহবাজপুর গ্রামের গোলাম বিশ্বাসের ছেলে। তিনি ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষাবাদের কাজ করতেন।

স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার সকালে জমি চাষের কাজ করার সময় ট্রাক্টর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এতে ট্রাক্টরচালক মো. জয় বিশ্বাস নদীতে নিখোঁজ হন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে চরভদ্রাসন থানা পুলিশ ও চরভদ্রাসন উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার করেন। উদ্ধারকারীরা ট্রাক্টর সরিয়ে পদ্মা নদী থেকে চালক জয়ের মরদেহ উদ্ধার করেন।

চরঝাউকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বদরুজ্জামান (বদু) মৃধা জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ছেলেটি আমাদের এলাকায় প্রায় তিন মাস ধরে চাষাবাদের কাজ করছিল।

চরভদ্রাসন থানার এসআই মোজাম্মেল হোসেন জানান, চরকল্যাণপুর গ্রামে একটি ট্রাক্টর উল্টে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

জয়পুরহাটের কালাই

এক বছর ধরে ভেঙে পড়ে আছে ব্রিজ, বিপাকে শত শত কৃষক

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
এক বছর ধরে ভেঙে পড়ে আছে ব্রিজ, বিপাকে শত শত কৃষক
ছবি : কালের কণ্ঠ

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের বেগুনগ্রাম পশ্চিম মাঠে যাতায়াতের একমাত্র সেতুটি এক বছর ধরে ভেঙে পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শত শত কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দা।

গুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটি অকেজো হয়ে পড়ায় প্রায় ৫০০ বিঘা কৃষিজমির সঙ্গে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে কৃষিকাজ, ফসল পরিবহন ও মাঠে যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়ছেন কৃষকেরা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ২০২১-২২ অর্থবছরে ছোট নদী ও খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের পর ওই এলাকায় পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। পরে ভারি বর্ষণ ও অতিবৃষ্টিতে ব্রিজের দুই পাশের মাটি ধসে যেতে থাকে। একপর্যায়ে সেতুটির মাঝের অংশ ভেঙে নিচে দেবে যায় এবং পুরোপুরি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

শুক্রবার (৫ জুন) সরেজমিন দেখা গেছে, সেতুটির দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মাঝের লোহার কাঠামো ঝুলে পড়ায় এটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়রা বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করে চলাচল করলেও কৃষিযন্ত্র, ভ্যান ও ফসলবোঝাই যানবাহন চলতে পারছে না।

স্থানীয় কৃষক আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘এই ব্রিজ দিয়েই আমরা প্রতিদিন মাঠে যেতাম। এখন অনেক দূর দিয়ে ঘুরে যেতে হয়। ধান, আলু ও সবজির ক্ষেত দেখাশোনা করতে বাড়তি সময় ও খরচ লাগছে। ফসল কাটার পর বাড়িতে আনতেও ভোগান্তির শেষ নেই।’

আরেক কৃষক আব্দুল মোমিন জানান, ব্রিজটি ছিল মাঠে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ পথ। বর্ষাকালে খালের পানি বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তখন জমিতে যাওয়া, সেচ দেওয়া কিংবা ফসল ঘরে তোলা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, বেগুনগ্রাম পশ্চিম মাঠের শতশত বিঘা জমিতে ধান, আলু ও বিভিন্ন মৌসুমি ফসল উৎপাদিত হয়। ব্রিজটি সচল থাকাকালে খুব সহজেই কৃষিপণ্য মাঠ থেকে বাড়ি কিংবা বাজারে নেওয়া যেত। বর্তমানে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হওয়ায় পরিবহন ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো ফসল সংগ্রহ করতে না পারায় উৎপাদন ক্ষতির ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে কালাই উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুমন কুমার দেবনাথ জানান, ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও প্রক্রিয়া নিয়ে ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা বলেন, ‘বেগুনগ্রাম পশ্চিম মাঠের ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ কমাতে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পিআইও অফিস থেকে একটা বরাদ্দ দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’