• ই-পেপার

চুয়াডাঙ্গায় ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক

মিরসরাই প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক হলেন মিঠু, সদস্য দিদার ও বিটু

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
মিরসরাই প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক হলেন মিঠু, সদস্য দিদার ও বিটু

চট্টগ্রামের মিরসরাই প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটিতে কালের কণ্ঠ মাল্টিমিডিয়ার চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান এনায়েত হোসেন মিঠুকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। এছাড়া ক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি দিদারুল আলম ভূঁইয়া ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কামাল উদ্দিন বিটুকে সদস্য মনোনিত করা হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) বিকেলে অনুষ্ঠিত প্রেস ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় ২০২৪-২৬ মেয়াদের কমিটি বিলুপ্তির মধ্য দিয়ে ৩ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুরুল আলমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এম মাঈন উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

এই কমিটি আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনে নির্বাচনের উদ্যোগ নেবে। এছাড়া সম্মেলন প্রস্তুতি উপ-কমিটি, অর্থ উপ-কমিটি এবং প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।

খুলনায় স্ত্রীর গায়ে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার

খুলনা অফিস
খুলনায় স্ত্রীর গায়ে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে জনি গাজী (২৯) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। ঘটনার পর প্রায় এক মাস ধরে তিনি পলাতক ছিলেন।

র‌্যাব-৬ এর মিডিয়া সেল জানায়, শনিবার (৬ জুন) রাত ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডুমুরিয়ার কাঁঠালতলা বাজার এলাকার একটি চায়ের দোকানে অভিযান চালিয়ে জনি গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ডুমুরিয়া থানায় দায়ের হওয়া স্ত্রী হত্যা মামলার প্রধান আসামি।

মামলা সূত্র জানা যায়, গত ৫ মে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে জনি গাজী তার স্ত্রী বিথি আক্তারের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে বিথি গুরুতর দগ্ধ হন।

তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

ঘটনার পর নিহতের বাবা অপুর গাজী ডুমুরিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই জনি গাজী আত্মগোপনে ছিলেন।

র‌্যাব জানিয়েছে, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জনি গাজীকে ডুমুরিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

হোটেলে সাবেক মেম্বারের লাশ, সিসিটিভিতে মিলল বোরকা পরা নারী

বগুড়া প্রতিনিধি
হোটেলে সাবেক মেম্বারের লাশ, সিসিটিভিতে মিলল বোরকা পরা নারী
প্রতীকী ছবি

বগুড়া শহরের চারমাথা এলাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে সাবেক ইউপি সদস্য (মেম্বার) বিপুল চন্দ্র পালের (৪৮) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। হোটেল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক দাবি উপেক্ষা করে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বোরকা পরিহিত এক নারীর সঙ্গে ছিলেন বিপুল।

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে সেঞ্চুরি মোটেল নামের ওই হোটেলের ৬১০ নম্বর কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বিপুল চন্দ্র পাল বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দুইবারের নির্বাচিত মেম্বার ছিলেন। এছাড়া তিনি শাহ ফতেহ আলী পরিবহনে দীর্ঘদিন ধরে সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি এরুলিয়া পালপাড়া এলাকার মৃত জিতেন্দ্র নাথ পালের ছেলে।

জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিপুল চন্দ্র পাল সেঞ্চুরি মোটেলে এসে একটি কক্ষ ভাড়া নেন। শনিবার দুপুরে হোটেল থেকে চেক আউটের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সাড়াশব্দ মিলছিল না। দীর্ঘক্ষণ ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় মোটেল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ি ও সদর থানা পুলিশের দুটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মৃতের স্বজনদের উপস্থিতিতে ৬১০ নম্বর কক্ষের দরজা খোলা হলে বিপুল চন্দ্র পালকে বিছানায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

সেঞ্চুরি মোটেলের রিসেপশন ম্যানেজার মো. এনামুল হক প্রথমে দাবি করেছিলেন, রাত্রিযাপনের জন্য বিপুল একাই কক্ষটি ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে মোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করার পর ঘটনার মোড় ঘুরে যায়। ফুটেজে দেখা যায়, ২য় তলার একটি রুমে রাত ৯টায় প্রবেশ করে বিপুল চন্দ্র পাল। এর ২ ঘণ্টা পর সেই রুম থেকে বিপুলের সঙ্গে বোরকা পরিহিত এক নারীকে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। সেখান থেকে বিপুলের ভাড়া করা ৬১০ নম্বর রুমে গিয়েছিলেন দুজনে। এরপর রাতের কোনো এক সময়ে একাই ওই নারী রুম থেকে বের হয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

বগুড়ার ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জালাল উদ্দীন বলেন, নিহত ব্যক্তি মাঝেমধ্যে ওই হোটেলে আসতেন এবং সময় কাটাতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে ওই কক্ষ থেকে যৌন উত্তেজক জাতীয় একটি সিরাপ, ঘুমের ওষুধ, কোমল পানীয় ও পানির বোতল জব্দ করা হয়েছে। এখন সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় ওই নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

এদিকে বিপুল চন্দ্র পালের মৃত্যুর ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছে তাঁর পরিবার। পরিবারের অভিযোগ, রক্সি নামের এক ব্যক্তি বিপুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। নিহতের স্ত্রী জানান, শুক্রবার রাতে মোবাইলে শেষবার কথা হলে বিপুল তাকে জানিয়েছিলেন তিনি সারিয়াকান্দিতে রক্সি নামের এক ব্যক্তির বোনের বাড়ির দাওয়াত খেতে যাচ্ছেন। ফিরতে রাত ১২টা বা ১টা বাজবে। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

নিহতের মেয়ে ও প্যারামেডিক্যাল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তিথি বলেন, বাবা বলেছিলেন বোনের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যাবেন। সকাল থেকে ফোন বন্ধ ছিল। পরে উনার মৃত্যুর খবর পাই। কক্ষ থেকে ওষুধ পাওয়ার যে কথা ছড়ানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। উনাকে মেরে ফেলার জন্যই এসব করা হয়েছে। রক্সি নামের এক লোক আমার বাবাকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল, তাকে গ্রেপ্তার করলেই সব সত্য বেরিয়ে আসবে। সিসিটিভি ফুটেজে কাকে দেখা গেছে তাও পরিষ্কার হওয়া দরকার। বাবার মোবাইল ফোনও পাওয়া যাচ্ছে না।

বিপুল চন্দ্র পালের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে তার এলাকায় ও কর্মক্ষেত্রে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক নূর আমিন মন্ডল বলেন, বিপুল অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। দীর্ঘদিন শাহ ফতেহ আলী পরিবহনে কাজ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না।

এরুলিয়া ইউনিয়নের বর্তমান ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. নূর আলম বলেন, বিপুল আমার ছোট ভাইয়ের মতো ছিল। গত নির্বাচনে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলাম, কিন্তু আমাদের মাঝে কোনো বিদ্বেষ ছিল না। এলাকায় কোনোদিন কারো সঙ্গে তার শত্রুতা ছিল না। আমরা এই মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। সিসিটিভি ফুটেজে দৃশ্যমান বোরকা পরিহিত নারীর পরিচয় এবং এ ঘটনায় রক্সি নামের ওই ব্যক্তির কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোগীর কাছে টাকা চাওয়া সেই নার্সকে অব্যাহতি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
রোগীর কাছে টাকা চাওয়া সেই নার্সকে অব্যাহতি
মোর্শেদা। সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবিকা (নার্স) মোর্শেদাকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ আদেশের কথা জানানো হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জনও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে উপজেলার বিশারাবাড়ি এলাকার দুই শিশু আবদুল্লাহ (৪) ও খাদিজাকে (৩) বিড়ালে কামড় দিলে চাচা সাব্বির তাদের কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার সময় দায়িত্বরত নার্স মোর্শেদা আক্তার ২০০ টাকা দাবি করেন। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা সরকারি হাসপাতালে এই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই নার্স তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে রোগী ও স্বজনদের কক্ষে আটকে রাখেন। বিষয়টি জানতে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা গেলে তখনও তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, নার্স মোর্শেদা আক্তার রোগীর স্বজনদের উদ্দেশে ক্ষোভ দেখিয়ে বলছেন, ‘১০০ টাকা কি আপনার জন্য বেশি হয়ে যায়? আপনি দেন দেন বলছেন, আমি তো ভাবছি আপনি টাকা দেবেন। কিন্তু কেন আপনি টাকা দিচ্ছেন না?’

মোর্শেদাকে বলতে শোনা যায়, এখানে ইনজেকশন দেওয়ার নিয়ম নেই। আপনি তাহলে নীচ থেকে কেন দিয়ে আনলেন না? আমি যে দিয়ে দিলাম এটার কোনো মানবতা নাই? আপনি টাকা দেবেন বলে তো দেন নাই। এক পর্যায়ে তাদেরকে চলে যেতেও বলা হয়।

ভুক্তভোগী শিশুদের চাচা সাব্বির বলেন, ‘ভাতিজা ও ভাতিজিকে বিড়াল কামড় দিলে রাতে হাসপাতালে নিয়ে যাই। শুরুতে টিকা দিতে কিছুটা অনীহা দেখান ওই নার্স। পরে অনুরোধ করার পর টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু টিকা দেওয়ার পরপরই তিনি ২০০ টাকা দাবি করেন। আমরা টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি আজেবাজে কথা বলতে থাকেন এবং এক পর্যায়ে আমাদের আটকে রাখেন। ভাই এসে টাকা দেবে বললেও তিনি এতে রাজি হননি।’

কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জেনেছি। ইতোমধ্যেই ওই নার্সকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে বিভাগীয় মামলা হবে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন মো. নোমান মিয়া সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘অভিযুক্ত নার্সকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’