• ই-পেপার

কসবা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

রোগীর স্বজনদের কাছে টাকা চাওয়ার অভিযোগে নার্সকে অব্যাহতি

ফেনীতে পৃথক স্থান থেকে দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার

ফেনী প্রতিনিধি
ফেনীতে পৃথক স্থান থেকে দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় পৃথক স্থান থেকে দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৬ জুন) পৌরসভার দক্ষিণ করিমপুর এবং মাতুভূঞা ইউনিয়ন এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

মৃত ওই দুই যুবক হলেন ইমরান আহমেদ রিফাত (৩০) ও হেদায়েত উল ইসলাম ওরফে ইকবাল (২৭)। রিফাত ওই এলাকার ইউনুস ডাক্তার বাড়ির আতিক উল্যাহর ছেলে। ইকবাল দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের মোমারিজপুর এলাকার মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে।

পুলিশ, নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে দাগনভূঞা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ করিমপুর এলাকার নিজ বসতঘর থেকে ইমরান আহমেদ রিফাত নামের এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

গত তিন দিন ধরে রিফাত নিখোঁজ ছিলেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল। পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতর থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ দরজা খুলে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

রিফাতের বড় ভাই ইফতেখারুল আলম রিয়াদ বলেন, তিন দিন ধরে আমার ভাইকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। শনিবার তার শয়নকক্ষ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে আমাদের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশে খবর দিলে তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

দাগনভূঞা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম বলেন, শয়নকক্ষের বিছানায় তারে জড়ানো অবস্থায় রিফাতের মরদেহ পাওয়া গেছে। তার পুরো শরীর পুড়ে কালো হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি একা ওই ঘরে বসবাস করতেন। তার পরিবারের লোকজন বেড়াতে গিয়েছিল। তারা বাড়িতে এসে দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।

এর আগে, এদিন ভোরে বাড়ির সামনের সড়ক থেকে ইকবালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফজরের নামাজে যাওয়ার পথে স্থানীয়রা বাড়ির সামনের সড়কে মোটরসাইকেলসহ ইকবালকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

দাগনভূঞা থানার ওসি মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম বলেন, ইকবাল একটি বাঁশে আর্জেন্টিনার পতাকা বেঁধে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। পথে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বাঁশের চাপে তার ঘাড়ের একপাশ ভেঙে গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। দুই ঘটনায়ই মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এসব বিষয়ে থানায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ বা মামলা হয়নি।

ঠাকুরগাঁও সীমান্তে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা, পতাকা বৈঠকেও মেলেনি সমাধান

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁও সীমান্তে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা, পতাকা বৈঠকেও মেলেনি সমাধান
ছবি : কালের কণ্ঠ

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্ত দিয়ে ১১ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির বাধার মুখে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছে। এ ঘটনায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

শনিবার (৬ জুন) ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে মশালগাঁও সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সন্ধ্যার আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান। তিনি স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, ভোররাতে তিনজন পুরুষ, চারজন নারী ও চারজন শিশুকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবি সদস্যরা তা প্রতিহত করলে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়।

তিনি আরো বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক চলমান রয়েছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে তারা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। পুশইনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হলে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।’

এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে শূন্যরেখায় অবস্থান করা ব্যক্তিরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, আমাদের কিছুই নাই। শুধু মুসলমানদেরকেই ধরে নিয়ে আসছে বিএসএফ। আমাদের এখানে এনে সীমান্তের দিকে পাঠিয়ে দিয়েছে। কয়েকদিন আটকে রাখার পর বিভিন্ন দলে ভাগ করে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় নেওয়া হয়। পরে বিএসএফের বহরগাঁও ক্যাম্পে একদিন রাখার পর ভোর রাতে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে পাঠানো হয়।’

এদিকে পতাকা বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় শূন্যরেখায় অবস্থানরত ১১ জনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

মিরসরাই প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক হলেন মিঠু, সদস্য দিদার ও বিটু

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
মিরসরাই প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক হলেন মিঠু, সদস্য দিদার ও বিটু

চট্টগ্রামের মিরসরাই প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটিতে কালের কণ্ঠ মাল্টিমিডিয়ার চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান এনায়েত হোসেন মিঠুকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। এছাড়া ক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি দিদারুল আলম ভূঁইয়া ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কামাল উদ্দিন বিটুকে সদস্য মনোনিত করা হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) বিকেলে অনুষ্ঠিত প্রেস ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় ২০২৪-২৬ মেয়াদের কমিটি বিলুপ্তির মধ্য দিয়ে ৩ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুরুল আলমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এম মাঈন উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

এই কমিটি আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনে নির্বাচনের উদ্যোগ নেবে। এছাড়া সম্মেলন প্রস্তুতি উপ-কমিটি, অর্থ উপ-কমিটি এবং প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।

খুলনায় স্ত্রীর গায়ে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার

খুলনা অফিস
খুলনায় স্ত্রীর গায়ে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে জনি গাজী (২৯) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। ঘটনার পর প্রায় এক মাস ধরে তিনি পলাতক ছিলেন।

র‌্যাব-৬ এর মিডিয়া সেল জানায়, শনিবার (৬ জুন) রাত ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডুমুরিয়ার কাঁঠালতলা বাজার এলাকার একটি চায়ের দোকানে অভিযান চালিয়ে জনি গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ডুমুরিয়া থানায় দায়ের হওয়া স্ত্রী হত্যা মামলার প্রধান আসামি।

মামলা সূত্র জানা যায়, গত ৫ মে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে জনি গাজী তার স্ত্রী বিথি আক্তারের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে বিথি গুরুতর দগ্ধ হন।

তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

ঘটনার পর নিহতের বাবা অপুর গাজী ডুমুরিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই জনি গাজী আত্মগোপনে ছিলেন।

র‌্যাব জানিয়েছে, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জনি গাজীকে ডুমুরিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।